স্বাগত ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা মাড়িয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে

আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০২৪, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

মহাকালের হিসেবে একটি বছর কিছুই নয়Ñ কিন্তু জাতীয় জীবনে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। অপার সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয় নতুন বছর। প্রত্যাশার নিখুঁত বুননে নতুন নতুন সম্ভাবনার দিক উন্মুক্ত করে আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মনুষ্যকৃত দুর্যোগ কিংবা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে। তারপরেও বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ায়Ñ এই তার স্বভাব বৈচিত্র।

২০২৪ সালে জাতীয় রাজনীতি এক নতুন বাঁকের মধ্যে প্রবেশ করছে। ২০২৩ জুড়ে পুরোটাই রাজনৈতিক অঙ্গণে উত্তেজনা থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৩ সাল ছিল আওয়ামী লীগের টানা তিন মেয়াদের সরকারের শেষ বছর। নতুন বছরের শুরুতেই আওয়ামীলীগের নির্বাচনি চ্যালেঞ্জ। ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

বিএনপি ও সমামনা দলের আন্দোলনে মুখে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকার তাদের পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সফলতাও পেয়েছে। সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদায়ী বছরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের চাপের মধ্যে থাকতে হয়েছে সরকারকে এবং নির্বাচনের আগে ও পরে চাপের মধ্যে থাকতে হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বিরোধীরা নির্বাচনা বানচালে যে আর সক্ষম নয় সেটা বোঝা যাচ্ছে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূল করার জন্য নির্বাচন কমিশন দৃঢ়তার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।

২০২৩ সালে অর্থনীতির নানা সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। ১৯৭২ সালে ৯১ ডলার মাথাপিছু আয় নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ রাষ্ট্র। ১৯৭২ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ বেড়ে বর্তমানে দেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৭৬৫ ডলার। অর্থনৈতিকভাবে ২০২৩ এর ডিসেম্বরে এসে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। জনশক্তি রপ্তানিতে সুখবর দিয়ে বছর শেষ হতে যাচ্ছে। বিদায়ী এ বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর, ১০ মাসে প্রবাসে গেছে ১২ লাখ ১০ হাজার ২৫৬ জন। একক বছর হিসেবে বিদেশে যাওয়া মানুষের সবচেয়ে বড় সংখ্যা এটি।

বাংলাদেশের জন্য উন্নয়নে চমকের বছর ২০২৩। বছরের অক্টোবর মাস থেকে একে একে খুলেছে উন্নয়নের নানা দুয়ার। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে উন্মুক্ত করে দেয়া হয় সরকারের বড় প্রকল্পগুলো। এরমধ্যে রয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল, কর্ণফুলী নদীতে বঙ্গবন্ধু টানেল, পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগ (ঢাকা-ভাঙ্গা), আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল, আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেললাইন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একাংশ এবং ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথ চালুকরণ।

রপ্তানি খাতে পোশাক খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। এ খাতের অগ্রগতি বিদায়ী বছরেও ধরে রাখতে পেরেছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ২০৩০ সাল নাগাদ ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের পোশাক রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ‘বিশ্বের সেরা ১০০টি সবুজ কারখানার মধ্যে এখন ৫৩টি বাংলাদেশে অবস্থিত।’ এ লক্ষে ১৫ বছর মেয়াদি রোড ম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকোরের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। ২০৩০ জুড়ে দুস্থ, অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পাশে ছিলো সরকার। লক্ষ্যভুক্ত এ সব জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে পরিণত করে সরকার দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

জাতির এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিদায়ী বছর যতটা ]ব্যর্থতার ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি সাফল্যে মোড়া ছিল। পূর্বের মতই সামনের যত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সব কিছুকে মাড়িয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে নতুন বছরে এই প্রত্যাশা।

খ্রিস্ট্রিয় নববর্ষে দৈনিক সোনার দেশ এর সকল পাঠক, শুভ্যানুধায়ী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।