স্বাধীনতার ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুকে ঢেকে রাখা সম্ভব না : লিটন

আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০১৭, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ শীর্ষক বক্তব্য প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও নগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, স্বাধীনতার ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর গৌরবময় অর্জনকে অস্বীকার করা সম্ভব না।
তিনি বলেন, জিয়া- এরশাদ- খালেদার শাসনামলে সত্য কথা বলা যায়নি।  ৩০ লক্ষ শহিদের বিনিময়ে অর্জিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাসকে নির্বিচারভাবে বিকৃত করা হয়েছে। পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশকে উল্টোপথে পাকিস্তানি ভাবধারায় বিকৃত ও ভ্রান্ত ইতিহাস রচনা করে ২১ বছর ধরে একটি প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। জাতির পিতাকে চূড়ান্ত অসম্মানের জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল তারা। যুব সমাজের হাতে অস্ত্র, মাদক তুলে দিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করা হয়েছিল। কিন্তু মেঘের আড়ালে সূযর্কে বেশি সময় ধরে আটকানো যায় না। কালো মেঘ ভেদ করেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আজেকের বাংলাদেশ উন্নয়নের সিঁড়ি বেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
লিটন বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ২১ বছর স্বাধীনতা ইতিহাস নিয়ে অপব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর জনগণ সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে। বাংলাদেশ বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের কাক্সিক্ষত পথ ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, বঙ্গবন্ধু কলেজ রাজশাহীর শ্রেষ্ঠ কলেজে পরিণত হবে। বঙ্গবন্ধু কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শাণিত হতে হবে। এই কলেজের শিক্ষার্থীরা অবশ্যই একদিন রাজশাহীর শিক্ষাঙ্গণে জ্ঞানের আলোক-বর্তিকা হয়ে বিপ্লব ঘটাবে। সেটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপ্লব। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, বঙ্গবন্ধু কলেজ এক সময় বিশ^বিদ্যালয় কলেজে পরিণত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাইয়েদুজ্জামান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন রিয়াজী, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক তরুণ কুমার, জেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবু রাজকুমার সরকার।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, কলেজের অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান, কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. মজিবুর রহমান, সদস্য ও দৈনিক সোনার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, নূর মোহাম্মদ শেখ, আসাদ আলী, নজরুল ইসলাম, শাজাহান আলী, কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসহুদার রহমান, উপবৃত্তি কমিটির প্রধান শামসুল আলম, কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সেলিনা খাতুন, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের মিজানউদ্দিন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের লাইমুন নাহার, গণিত বিভাগের আবদুস সালাম, অর্থনীতি বিভাগের অসীম কুমার দাস, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ওয়াহিদা সুলাতানা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ইকবাল হোসেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবদুল্লা হেল সাফি, অর্থ কমিটির প্রধান রেজাউল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রতিযোগিতায় ৬ষ্ঠ শ্রেণি ‘ক’ বিভাগে প্রথম হয়েছে রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হেলেনাবাদের শিক্ষার্থী নাজিফা নওশিন, দ্বিতীয় হয়েছে সরকারি পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজন্যা ত্রিধা ও তৃতীয় হয়েছে মসজিদ মিশন অ্যাকাডেমির শাওন ইসলাম, সপ্তম শ্রেণি ‘খ’ বিভাগে  প্রথম হয়েছে রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হেলেনাবাদের শিক্ষার্থী এমজেড মমো, দ্বিতীয় হয়েছে  সরকারি পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফায়রুজ চৌধুরী ওয়েভ, তৃতীয় হয়েছে রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হেলেনাবাদের শিক্ষার্থী আসমাউল হোসেন, অষ্টম শ্রেণির ‘গ’ বিভাগে প্রথম হয়েছে  সরকারি পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফসারা তাননিম হুমায়রা, দ্বিতীয় হয়েছে রাজশাহী বিশ^বিদ্যাল স্কুলে শিক্ষার্থী সাদিয়া খানুম কান্তা, তৃতীয় হয়েছে রাজশাহী বিশ^বিদ্যাল স্কুলে শিক্ষার্থী মাসুমা তাবাসুম মৌমি, নবম শ্রেণির ‘ঘ’ বিভাগে প্রথম হয়েছে, রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হেলেনাবাদের শিক্ষার্থী শামিলা তাসরিন, দ্বিতীয় হয়েছে শহীদ কর্ণেল কাজী এমদাদুল হক পাবলিক স্কুলের (বিজিবি) শিক্ষার্থী জুলকার নাইন, তৃতীয় হয়েছে রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হেলেনাবাদের শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত রিফাত, দশম শ্রেণির ‘ঙ’ বিভাগে প্রথম হয়েছে, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সোলাইমান সাকিল, দ্বিতীয় হয়েছে শিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. হাসনাইল আলি, তৃতীয় হয়েছে ডাশমারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাপলা খাতুন, একাদশ শ্রেণির ‘চ’ বিভাগে প্রথম হয়েছে, রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী ফারজানা হুসাইন ঋতু, দ্বিতীয় হয়েছে বরেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল খুশবু, তৃতীয় হয়েছে শাহ মুখদুম কলেজের শিক্ষার্থী হোমায়রা সানজানা, দ্বাদশ শ্রেণির ‘ছ’ বিভাগে প্রথম হয়েছে, নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নিশাত তাসনিম শাফা, দ্বিতীয় হয়েছে একই কলেজের শিক্ষার্থী তাজকেরাতুন সেতু, ৩য় রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী মাহফুজা মাহবুব।  পুরস্কার বিতরণী শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এরপর কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।