স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও স্বীকৃতি মেলে নি সাঁকোয়া বধ্যভূমি

আপডেট: নভেম্বর ৩০, ২০১৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ

মোস্তফা কামাল, মোহনপুর



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। বছর ঘুরে আমাদের মাঝে আজ আবারো এসেছে এ বিজয়ের মাস। এলাকার উন্নয়নের জন্য জনপ্রতিনিধি বদলায়, প্রাকৃতিক সৌন্দয্য বাড়াতে বদলায় এদেশের ঋতু বৈচিত্র, কিন্তু বদলায় না সাঁকোয়া বধ্যভূমির রুপ। প্রতিশ্রুতির মাঝেই পেরিয়ে গেছে স্বাধীনতা পরবর্তী ৪৫টি বছর। এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আর বাঙালির মুক্তিকামী মানুষদের আন্দোলনের পরও আজো বদলায় নি সাঁকোয়া বধ্যভূমির নামকরণ ও দৃশ্যপট। ময়লা আবর্জনা, মলমুত্রসহ কচুরিপানার গহ্বরে মিশে গেছে বধ্যভূমির নাম সম্বলিত ছেঁড়াফাটা সেই সাইনবোর্ডটি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহীর মোহনপুরে দুইটি বধ্যভূমি র মধ্যে আজো স্বীকৃতি পায়নি সাঁকোয়া বধ্যভূমি। এমনকি নেই কোনো স্মৃতিচিহ্ন। রাজশাহী অঞ্চলের মধ্যে সাঁকোয়া রাজাকার ক্যাম্পটি পরিচিত নাম। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানদাররা স্থানীয় দোসরদের পৃষ্টপোষকতায় এখান থেকে স্থানীয় বাঙালিদের ওপর চালিয়েছে নারকীয় নানা রকম কর্মকা- ও হত্যাজজ্ঞ। আশেপাশের অসংখ্য গ্রামে তারা রাতের পর রাত চালিয়েছে লুষ্ঠন, ধর্ষণ, নির্যাতন, হত্যাকা-। তাদের নির্যাতনে এখানে শাহাদতবরণ করেছিলেন প্রায় ৩৭ জন মুক্তি পাগল মানুষ।
মহান মুকিক্তযুদ্ধে সাঁকোয়া রাজাকার ক্যাম্পের প্রধান সারির নেতৃত্বে ছিলেন রাজাকার মহেদ আলী, কসাইয়ের  কিংবা জল্লাদের দায়িত্বে থাকা মঞ্জুর এলাহীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক নরপিশাচরা আজো এলাকায় দম্ভের সঙ্গে জীবনযাপন করছেন। তাদের ভয়ে এখনো ভীতপ্রায় অনেক জনসাধারণ। তারা এখনো একটি রাজনৈতিক ছায়াতলে চলছেন নিরিবিলি। তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিচারের দাবি নিয়ে দাঁড়ানোর মতো সেই কোন সাহসী জনতা। একদিকে তাদের নির্যাতনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আজো মানবেতর জীবনযাপন করলেও হয় নি তাদের বিচার প্রক্রিয়া। অন্যদিকে বধ্যভূমির স্বীকৃতি পায় নি সাঁকোয়া বধ্যভূমি। তাদের নির্যাতনের বিচার হবে এমন অপেক্ষায় নির্যাতিত পরিবারগুলো এখনো আশায় আছে। স্থানীয় রাজাকারদের বিচারের পাশাপাশি সাঁকোয়া বধ্যভূমিকে স্বীকৃতির দাবি এলাকার সর্বসাধারণের।
কেশরহাট পৌর এলাকার হরিদাগাছি গ্রামের নির্যাতিত জসিম উদ্দিন দেওয়ানের ছেলে আবদুল জলিল বলেন, রাজাকার বাহীনির নির্যাতিত পরিবারের মধ্যে আমার পরিবারটি আজো অবহেলিত। আজো হয় নি আমাদের কর্মসংস্থান। রাজাকার মহেদ ও মঞ্জুর এলাহীসহ অনেকে এখনো দম্ভের সঙ্গে চলাফিরা করলেও হয় নি তাদের বিচার। আমরা চাই তাদের বিচার এবং সাঁকোয়াকে বধ্যভূমির স্বীকৃতি দেয়া।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অন্যতম সদস্য ও সাঁকোয়া গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুস নানা আবেগ আপ্লুত হয়ে জানান, মুক্তিযুদ্ধে স্থানীয় রাজাকারদের মধ্যে কেউ কেউ মরে গেলেও রাজাকার কমা-ার মহেদ আলী ও জল্লাদ মঞ্জুর এলাহী এখনো দম্ভের সঙ্গে চলাফেরা করছে। এখন সময় এসেছে তাদের বিচার হওয়ার। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বর্তমান সরকারের আমলেই আমরা তাদের বিচার দেখতে চাই। মোহনপুরের মানুষের প্রাণের দাবি সাঁকোয়া বধ্যভূমিকে স্বীকৃতি দিয়ে দ্রƒত এ স্থানটিকে সংরক্ষণ করা। আমাদের আশা দ্রুত এটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ