স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর স্বামীর কবর খুঁজে পেলেন শহিদ মুক্তিযোদ্ধা নবীর স্ত্রী

আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০১৭, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

আক্কেলপুর প্রতিনিধি



১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার হরিপুর সেতুর পার্শ্বে পাকবাহিনীর বিপক্ষে সম্মুখ যুদ্ধে শহিদ হন নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার চকতাহের ঝাড়ঘড়িয়া গ্রামের ছেলে বীরমুক্তিযোদ্ধা নবীর উদ্দীন। এরপর তাকে সেখানেই দাফন করা হয়। কিন্তু তার পরিবার জানতেন না। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর তার স্ত্রী মাজেদা বেগম (৭৫) খোঁজ পেয়ে ১৬ ডিসেম্বর শহিদ স্বামীর কবর জিয়ারত করেন।
জানা গেছে, দীর্ঘ দিন পরে প্রথম বারের মতো শহিদ স্বামীর কবর জিয়ারত করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রাজশাহী-নবাবগঞ্জ সড়কের পার্শ্বে হরিপুর ব্রিজের নিকট গিয়ে মাজেদা বেগম দেখতে পান সরকার কর্তৃক তার স্বামীর কবর বেঁধে দেয়া হয়েছে। সেই সাথে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েক নবীর উদ্দীন নামে নাম ফলক উম্মোচন করা হয়েছে।
হরিপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এস আই নজরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা তরিকুল ইসলাম ও মুক্তিযোদ্ধা আমিরুল হক তারাও মাজেদা বেগমের পরিবারের সঙ্গে এই বীর শহিদ মুক্তিযোদ্ধার কবর জিয়ারতে শরিক হন। তাঁরা জানান, নবীর উদ্দীন তাদের সঙ্গেই মুক্তিযুদ্ধে সামিল হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধ করেছিলেন, যার পরিচিতি নম্বর-৫৪৯৮।
মাজেদা বেগম দীর্ঘদিন পর স্বামীর কবর জিয়ারতে গিয়ে কাঁন্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি কোন দিন জানতেন না যে তার স্বামীর কবর এভাবে সযতেœ সরকারের পক্ষ থেকে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এদিকে নবীর উদ্দীন শহিদ হওয়ার পর তার স্ত্রী মাজেদা বেগম তিন শিশু সন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন। অভাবের তাড়নায় শিশুদের লেখাপড়া করানো তো দূরের কথা একমুঠো অন্ন জোগাতে অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ বেছে নিয়েছিলেন। এরমধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। আর  একমাত্র ছেলে এখনো রিকশা চালিয়ে সংসার পরিচালনা করছেন। এরপরও মাজেদা বেগমের দুঃখ-কষ্ট নিত্যসঙ্গী হয়ে রয়েছে। কিন্তু স্বামীর শহিদ মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও সহায়তা ভাতার জন্য ২০০৫ সালে ৩৯৫৫ প্রকাশিত গেজেটে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় ১৪৮৯ নং শহিদ তালিকা হিসেবে তাকে উল্লেখ করা হয়। শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে বঞ্চিত রেখে শুধু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মাজেদা বেগমের পরিবারকে সাধারণ ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা সনদে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নবীর উদ্দীন নামে স্বীকৃতি দিতে আকুল আবেদন জানান।
উল্লেখ, তৎকালিন আয়ুব সরকারের সময়ে নবীর উদ্দিন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল্স এ (ইপিআর) হিসেবে যোগদান করেছিলেন।