স্বাধীনতার ৪৮বছর পর মনাকষার গণকবর পরিদর্শন করলেন সাংসদ শিমুল

আপডেট: জানুয়ারি ৩, ২০২০, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি


স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর মনাকষাতে গণকবর পরিদর্শন করলেন সংসদ সদস্য ডা.সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় মনাকষা ইউনিয়নাধীন হুমায়ূন রেজা উচচবিদ্যালয়ের পিছনে অবস্থিত গণকবর পরিদর্শণকালে আরো উপস্থিত ছিলেন শহিদ পরিবারের সন্তান ও যুদ্ধাপরাধীর মামলার বাদী বদিউর রহমান বুদ্ধু, হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী জেন্টু আলি, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড মনাকষা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি কুরবান আলি, মনাকষা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ উদ্দিন, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সফিকুল ইসলামসহ মনাকষা ইউনিয়নের সকল মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। গণকবর পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল শহিদদের নাম স্মরণীয় করে রাখতে গণকবরের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই গণকবর পরিদর্শণ। তিনি আরো বলেন, মনাকষ্ াইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল শহিদদের নামের তালিকা তৈরি করে গণকবর সংরক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের নামের ফলক তৈরি করা হবে। এই জন্য কিছুটা সময়ের দরকার।
তিনি বলেন, সরকার ৭১-এ শহিদদের পরিবারগুলোকে যথাযথ মর্যদা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। যা অল্পদিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
উল্লেখ্য ৭১’র ৭ অক্টোবর সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পারচৌকা,খড়িয়াল হাউসনগর, সিংনগর, রানীনগর, বনকুলসহ কয়েকটি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধার আত্মীয় ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্েক্ষর ১৩ জন নিরহ মানুষকে দেশিয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকহানাদার বাহিনী বাড়ি থেকে ধরে এনে হুমায়ূন রেজা উচ্চবিদ্যালয়ের পিছনে এক রাজাকারের জমিতে ছোট একটি গর্তে ফেলে গুলি করে হত্যা সামান্য মাটি চাপা দেয়। এ ঘটনায় শহিদরা হলেন পারচৌকা গ্রামের মুসলিম উদ্দিন ও তার ৪ ভাই আবোল হোসেন, এসলাম আলি, আমজাদ হোসেন, খোকা ও একই গ্রামের শামসুদ্দিন ম্যাটলা, হাউসনগর গ্রামের আবদুর রশিদ, গুদোর আলি, ফরিদ উদ্দিন সিংনগর গ্রামের জুনাব আলি, হাউসনগর গ্রামের রফিক মেম্বার, ফাইজুদ্দিন, বনকুল গ্রামের ভুরোনসহ মোট ১৩জন। তাছাড়াও আরো কয়েকদিন পরে একইভাবে হুমায়ূন রেজা উচ্চবিদ্যালয়ের দক্ষিন পূর্ব কোণে বর্তমান মনাকষা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সোবহানের পিতা জসিম উদ্দিন, চাচা ফজলুর রহমান, মুকুল ডাক্তারের ক্লিনিকের পিছনে রানীনগর গ্রামের কুদ্দুস, পারচৌকা গ্রামের তোবজুল, খড়িয়াল গ্রামের সাইফুদ্দিন দফাদার, আরশাদ আলি, কালিগঞ্জ গ্রামের তোবজুল আলিসহ মোট ৯জনকে গুলি করে হত্যা করে এইভাবে অন্য জায়গায় পুঁতে ফেলে। শুধু তাই নয় এ সমস্ত শহিদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল।