স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে স্বাধীনতাবিরোধীরা নয় || এ ব্যাপারে আইন প্রণীত হোক

আপডেট: মার্চ ৭, ২০১৭, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে স্বাধীনতাবিরোধীদের অতিথি করা যাবে নাÑ বলেছেন,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছর পর এ রকম একটি মন্তব্য আসলো সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর কাছ থেকে। যদিও স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসা বাঞ্ছনীয় ছিল।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন’ উপলক্ষে নিরাপত্তাবিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী এ কথা বলেন।
স্বাধীনতাবিরোধীদের চিহ্নিত করা হয়েছে কি নাÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে স্বাধীনতাবিরোধীদের কোনো তালিকা নেই। তবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা জানেন কারা স্বাধীনতাবিরোধী, কারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। কাজেই বিষয়টি সেভাবেই অনুসরণ করা হবে।’
অনেক বিলম্বে হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আহবানকে স্বাগত জানাই আমরা। তবে এটি শুধু মন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, এর জন্য সরকােিরর নির্দেশনা থাকা জরুরি। এ ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা না থাকলে তা মাঠ পর্যায়ে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হওয়ার ব্যাপারে সংশয় থেকেই যায়। আর শুধু স্বাধীনতা দিবস কেনÑ মহান একুশে, বিজয় দিবসসহ স্বাধীনতা ও জাতির গৌরবময় দিনগুলোতে স্বাধীনতা বিরোধীরা কোনোভাবেই অতিথি কিংবা অনুষ্ঠানের আয়োজক হতে পারে না বা তাদের সে অধিকার থাকাও উচিৎ নয়।
যারা বাঙালি জাতির স্বাধিকারের আেেন্দালন ও স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে তাদের নাগরিক অধিকারই সংকুচিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। তারা শুধু স্বাধীনতার বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হয়নি, ওরা এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। পরিকল্পিত উপায়ে বাঙালিদের জাতীয় সত্ত্বাকে নিশ্চিহ্ন করতে সব ধরনের প্রয়াস চালিয়েছে। গণহত্যা করেছে, ধর্ষণ, লুটপাট করেছে, সারা দেশকে ধ্বংসযঞ্জে পরিণত করেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ সীমা ওরা লঙ্ঘন করেছে। প্রতিবিপ্লবীদের হাত ধরে ওই স্বাধীনতাবিরোধীরা রাষ্ট্র ক্ষমতার অংশীদারিত্ব করেছে। তারা জাতিকে তাদের মত করে স্বাধীনতার কল্প-কাহিনী শুনতে বাধ্য করেছে। ইতিহাস বিকৃতির এক জঘন্য ষড়যন্ত্র আমরা দেখেছি। স্বাধীনতা বিরোধীরা বাঙালি জাতির গৌরবের অর্জনের দিনগুলোতে যখন অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখেছে তখন মুক্তিযোদ্ধা, ভাষিাসৈনিক এবং প্রগতিশীল-গণতন্ত্রকামী মানুষের হৃদয়ে রক্ষক্ষণ হয়েছে। সেই রক্তক্ষরণ চিরতরে বন্ধ হওয়া চাই। স্বাধীনতাবিরোধীরা অতিথি- আয়োজক হলে মহান মুক্তিযদ্ধের শহিদদের প্রতি এক ধরনের অবমাননাই করা হয়। জাতি যে মুহুর্তে স্বাধীনতা বিরোধীদের নাগরিক অধিকার সংকুচিত করার দাবি জানাচ্ছে তখন স্বাধীনতা দিবসের কোনো অনুষ্ঠানে অতিথি হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরা প্রত্যাশা করি এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট আইনের প্রয়োজনীয়তা আছে। এবং সেটিই হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের করণীয় কাজ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ