স্বাধীনতা মানে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ

আপডেট: মার্চ ২৮, ২০১৭, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

সুজিত সরকার


‘স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়’এই চরণের রচয়িতা কবি রঙ্গলাল সেন। কবিতাটি নিশ্চয়ই দেশপ্রেমিকমাত্রই উদ্বেলিতবোধ করেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক দুঃশাসন বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এমন কবিতাই সেদিন সংগ্রামীদের উদ্বুদ্ধ করেছে। নিরবধি শক্তি আর সাহস জুগিয়েছে। দেখিয়েছে স্বাধীন জন্মভূমির স্বপ্ন। স্বাজাত্যবোধের চেতনার পথরেখার নিশানা। পাকিস্তানি দুঃশাসনের নিগঢ় ভাঙার সংগ্রামে এই রকম অসংখ্য কবির কবিতা বাঙালি চিত্তে সাহস ও শক্তি জুগিয়ে। জাতিকে একতাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। রবীন্দ্রনাথ, ডিএল রায়, রমেশ শীল, রজনীকান্ত সেন, মুকুন্দ দাস, কাজী নজরুল, জীবনানন্দ দাশ, সত্যেন সেন, সুকান্ত ভট্টাচার্য প্রমুখের কবিতা ও গান ছিলো পরাধীন জাতিকে জাগিয়ে তোলার মহামন্ত্র। সামরিক স্বৈরশাসকের প্রতিষ্ঠিত অপরাজনীতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতায় স্বাধীনতার শত্রুরা পুনর্বাসিত হয়ে যখন ইতিহাসের তথ্য বিকৃতিতে মেতে ওঠে, সৃষ্টি করে সশস্ত্র জঙ্গি, তখনই জাতি ভীত-সন্ত্রস্ত হয় পাকিস্তানি শাসনামলের বঞ্চনা-নিপীড়নের দুঃসহ স্মৃতিতে। তারা আজকে খুন-জখম করছে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। এই সংকটে এঁদের রচনা জাতিকে শক্তি জোগায়। অন্তরে সাহস আর ঐক্যের আলোকশিখা প্রজ্জ্বলিত করে। যে কোনো জাতীয় দিবস পালনে এঁদেরই রচনার আশ্রয় নিয়ে সমগ্র জাতি গর্বিত হয়। দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বপ্নবীজ রোপণ করে। সমগ্র বিশ্বে এমন কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীর দৃষ্টান্ত খুব কম হলেও সাম্প্রদায়িক সহিংসদের খুশি করতে এ দেশের উত্তরপ্রজন্মকে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের পাঠসূচিতে এই কবি-শিল্পীদের রচনার ঠাঁই হয় না। কী ভীষণ বৈপরীত্য এবং ক্ষমতায় চিরস্থায়ী হওয়ার এক আত্মঘাতী আয়োজন চলছে দেশের পরিচালকদের মননে। অথচ স্বাধীন দেশে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সম্প্রীতিময় পরিবেশে বসবাস করার অঙ্গীকার ছিলো ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত।
একটা বিষয় ভাবলে অবাক হতে হয় যে, আজকে নিজ দেশে শ্রেষ্ঠ লেখক-কবিরা পরবাসী। ধর্ম ও রাজনীতিক বৈষম্যের শিকার। তাঁদের মাপের কবি-শিল্পী-লেখকের এমন কি রাজনীতিকেরও পরিচয় মানুষ অনুপস্থিত। না হলে ট্রাম্পের মতো একটা উন্মাদ কী করে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সময়ই বোধ হয়, এমন উন্মাদ-জ্ঞানপাপীদের মানুষের জন্ম দেয়। কিন্তু মানব সমাজ জানে, সময়ের প্রয়োজনে আসে মহামানব। রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাসমৃদ্ধ ব্যক্তিত্ব। এই বাংলাদেশে যেমন আবির্ভুত হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর মতো রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব। তিনিও উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন ওই সব কবি-শিল্পীদের সুললিত শব্দাবলিতে। হয়েছিলেন প্রাণিত। আজকের প্রজন্ম সরকারি পরিকল্পনার অভাবে কিংবা অজ্ঞতার কারণে অথবা ধর্মান্ধদের নিভৃত সহযোগিতার সুবাদে এঁদের রচনার সংস্পর্শে যেতে পারছে না উত্তরপ্রজন্মের বাঙালিরা। এবারের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পাঠসূচি থেকে এঁদের রচনা পরিত্যাজ্য হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিঃশব্দ সমর্থনে। সরকার ত্রিশ লক্ষ শহিদের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন-সার্বভৌম এই দেশকে ভোটযুদ্ধে জয়ী হওয়ার লক্ষ্যে ধর্মান্ধদের সঙ্গে কতোটা একাত্ম হয়েছেন, তার সদুত্তোর যারা এমন অপরাধপ্রবণতাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন তা তারাই দিতে পারবেন। আরো বলতে পারবেন, বায়াত্তরের সংবিধানে প্রত্যাবর্তনের দাবির বিপরীতে কেনো বর্তমান সরকার ‘মদিনার সনদ’ অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হবে এমন ঘোষণা দিয়েছেন। ফেইসবুকে সে রকম স্ট্যাটাসই আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। দেশবাসী মনে করেন, তা যদি হয়, তাহলে দেশ তো সেই পাকিস্তানপন্থি ধর্মান্ধদের করতলে ক্রমাগত দলিত-মথিত হবে। অনেক ত্যাগে অর্জিত দেশের স্বাধীনতাও এমন রাজনীতিক সিদ্ধান্তে বিপন্ন হবে। দেশের ধর্মবিশেষের বিশেষ সুযোগ, বিশেষ সুবিধা সমগ্র জাতিকে তার লক্ষ্যে পৌঁছুতে নীতিগতভাবেই দেবে না। এরাই করবে বাধাগ্রস্ত। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের ভেতরে গড়ে ওঠা সম্প্রীতি বিনষ্টও করবে। সুস্থ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, সেই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের দায়িত্ব আজকের প্রজন্মকে পরিচিত করতে করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সমান্তরালে সেই আলোর নিশানা ভিত্তিক সাহিত্য পাঠ ও শিল্পানুশীলনের ধারা অব্যাহত রাখার বিকল্প নেই। এই আয়োজন রাষ্ট্র পরিচালকদেরই করতে হবে। কোনো অপশক্তির সঙ্গে আপোস মানেই বাংলাদেশকে অস্বীকার করা, বঙ্গবন্ধুর পথনির্দেশকে অবজ্ঞা করার সমতুল্য। প্রাথমিক শিক্ষার বইয়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ রোপণ করা অবিকল এক আপোসকামিতা যা জাতির গৌরবময় অর্জনের সঙ্গে মেলে না। রূঢ়ভাবে বললে বলতে হয়, তেইশ বছরের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার সমতুল্য। এই অন্ধকার থেকে ফিরতে হবে আলোক পথে। জাতিকে সে আলোর দিকনির্দেশনা দিয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে চেতনা ও আদর্শ।  সেই আলোর নিশানায় দেশকে এগিয়ে নেয়া এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অঙ্গীকার।
ছাব্বিশে মার্চ থেকে দেশ সাতচল্লিশে পদার্পণ করলো। জাতি প্রত্যাশা করেছিলো, যে সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করছেন, ক্রমান্বয়ে সেভাবে জাতির গৌরবময় অর্জনগুলোকে দিকনির্দেশনা ধরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তার অনুকরণ অনেকক্ষেত্রে জাতি অনুভব করছে। দৃশ্যমানও। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য অনেকটা নিয়ন্ত্রণ, কর্মক্ষেত্রের প্রসার এবং বেকারত্ব হ্রাসের স্লথ উদ্যোগ, শিক্ষাঙ্গনের সন্ত্রাস থামিয়ে দেয়া, নব্য সশস্ত্র জঙ্গিদের শাস্তি ও প্রতিরোধে ভূমিকা রাখা, প্রতিক্রিয়াশীলদের আস্ফালন রুদ্ধ করার আয়োজন, নারীর ক্ষমতায়নে আন্তরিকতা ইত্যাদি তার দৃষ্টান্ত। কিন্তু সাড়ে চার দশকেরও বেশি সময় পর কেনো সরকারের মনে হয়েছে ২৫ মার্চ ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করতে হলো? এ উদ্যোগ তো ২০০৯-এ নেয়ার কথা। কেনো এই উদ্যোগ নেয়া হলো না তার সদুত্তোর কী ভাবে দেবেন? একেই বলে আদর্শ ও চেতনাকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের প্রভূত্ব প্রতিষ্ঠার একটি স্বল্প মেয়াদি নির্বোধ কৌশল গ্রহণ, যা জাতির এই ক্রান্তিকালে সংকটকেই ঘনীভুত করে। আগেও লিখেছি, রাজাকার মানসিকদের দলে পুনর্বাসিত করে এবং তাদের দাবি মেনে পাঠ্যগ্রন্থে জগৎখ্যাত কবি-লেখকদের রচনা বাদ দিয়ে, ‘মদিনা সনদ’ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করার ইঙ্গিত করে মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত জাতীয় ঐক্যে বিভাজন করে, একই সঙ্গে ত্রিশ লক্ষ শহিদের আত্মত্যাগে অর্জিত দেশের উন্নয়ন আর ক্ষমতা নিশ্চিত করা আদৌ সম্ভব নয়। দুঃস্বপ্ন। মুক্তিযুদ্ধের অর্জন পরিপন্থি। দেশ চলবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে। তার শিক্ষা ও সংস্কৃতি ধারণ করবে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের আলোকে।
মুক্তিযুদ্ধোত্তর সময়ে এই সংস্কৃতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা আন্দোলন হিসেবে গড়েতোলার উদ্যোগ বঙ্গবন্ধু করেছিলেন। ড. কুদরাত-ই-খুদাকে মধ্যমনি করে একটি শিক্ষা কমিশন করেছিলেন। সংসদে সেই শিক্ষানীতি পাসও হয়েছিলো। কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীল পরাজিতরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সে উদ্যোগ বন্ধ করে দেয়। সামরিক সরকার ড. খুদার শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন রুদ্ধ করে। জনমত পক্ষে থাকা পরও আওয়ামী লীগ দলগতভাবে প্রতিক্রিয়াশীলদের বিপরীতে অবস্থান নিতে পারেনি বলে সামরিক সরকার এতোটা গণবিরোধী অপকর্মের সুযোগ নিয়েছিলো। এই সরকার একুশ বছর পর ২৫ মার্চকে ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। সংসদে তার পক্ষে বিলও পাস করেছে। কিন্তু তারপরও কেনো তাদের দলে কেনো আশ্রয়-প্রশ্রয়-নেতৃত্ব পাচ্ছে হাইব্রিড এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতিপক্ষরা? এই হাইব্রিড আর প্রতিপক্ষরা দেশে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অনুশীলন করেন, তাদের বিরোধিতায় নিমগ্ন হচ্ছে। যেমন-একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটিকে তাদের প্রতিপক্ষ ভাবতে শুরু করেছে। নির্মূল কমিটির বিরুদ্ধে বলছে অপকথা। তারা ভালো করে জানে, নির্মূল কমিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করবে। অতীতেও করেছে। ভবিষ্যতেও করবে। তারা কেবল মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী মানসিক যারা তাদের অপকর্ম-দুষ্কর্ম প্রতিরোধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে সহযোগিতা দেবে, সাহস ও শক্তি জোগাবে। বিবেকের দায়িত্ব পালন করবে। শেখ হাসিনার মতো নেত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক, তাঁকে যেনো কোনো অপ-চিন্তক, দুর্বৃত্ত বিভ্রান্ত করতে না পারে সে দিক থেকে সতর্ক করবে। তার বেশি নয়।
কিন্তু হাইব্রিডরা কেনো তা মানবে? তাদের চারিত্র্যিক বৈশিষ্ট্য, এখনই সব পেতে যতো রকম অপকৌশল আছে তাকে আশ্রয় করে এগোনো। নেতৃত্বকে নিজেদের করতলে রেখে নিজেদের ঘৃণ্য স্বার্থ সংরক্ষণ করা। আর মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের বৈশিষ্ট্য দেশপ্রেমিক ও স্বাধীনতার ছদ্মবেশী সৈনিক সেজে দলকে, নেতাকে বিভ্রান্ত করে তার গৌরবময় অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। দলকে বিপথগামী হতে সহযোগিতা দেয়া। পাঠ্য-পুস্তকে সে লক্ষ্য সামনে রেখে এমন আত্মঘাতী দুষ্কর্ম করা হয়েছে। আবার ‘মদিনা সনদে’র অনুকরণে দেশ পরিচালনা করার ফতোয়া তারাই দিয়েছে। তাদের পাকিস্তানি কিন্তু সে সনদানুযায়ী দেশ পরিচালনা করে না। এমন কি সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশই না। এ নিয়ে সরকারের স্বতন্ত্র কোনো অবস্থান জাতি অবহিত নয়। দেশ ও মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কি না সেটাও দেশবাসী জানে না। দেশবাসী বলছে, নেই এ জন্যে এই অপরাধের সঙ্গে সরকারের কিছু  নীতিনির্ধারক জড়িত, যারা ইতোপূর্বে সামরিক স্বৈরশাসনকেও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে সমগ্র জাতির অর্জন বিরোধী অপকর্মে যুক্ত ছিলো। তাদের লক্ষ্য ২০১৯-এর নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দেয়া নয়, বরং সরকারকে, ১৪ দলকে বিভ্রান্ত করা, জনবিচ্ছিন্ন করা। তাদের এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন সম্ভব। সম্ভব বলেই তো বঙ্গবন্ধু সপরিবরে নিহত হয়েছিলেন। নেতৃত্বকে এমন ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। না হলে তারা ক্রমান্বয়ে জনবিচ্ছিন্ন হবে। দেশবাসীর সুস্থ প্রত্যাশাকে পাশ কাটিয়ে কিংবা গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের স্বার্থের প্রতি অন্ধ হলে তারা জনবিচ্ছিন্ন হবেই। ভারতের কংগ্রেসের আজকের দুরাবস্থার অন্যতম কারণে বলে মনে হয়।
জাতি এক সন্ধিক্ষণে অতিক্রম করছে। স্বৈরাচার এরশাদের ‘রাষ্ট্রধর্ম’ পরিত্যাজ্য হয়নি। এটা অনেকটা ১৯৪৭-এ ধর্মতত্ত্বে বাংলা ভাগের মতো অবাস্তব একটি দৃষ্টান্ত। সেই পাকিস্তান আজকে কোথায়? বিশ্ব দরবারে একটি জঙ্গি ও ব্যর্থ রাষ্ট্রের শিরোনাম পেয়েছে। বাংলাদেশও যদি কেবল ক্ষমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ নেয়, তাহলে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের দূরত্ব কমে যাবে। বরং বলা যায়, পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রই সফল হবে। জঙ্গি এখনো আছে দেশে। আস্কারা দিয়ে, তাদের দাবি অনুযায়ী দেশ পরিচালনা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠলে বরং সে ‘গুড়ে বালি’ পড়বে। মানুষকে বিভ্রান্ত করে, দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের পর্যায়ে ফেলে কখনোই সরকার খুব সুবিধে করতে পারবে বলে মনে হয় না। আর ধর্মান্ধ-সাম্প্রদায়িকেরা কখনোই আওয়ামী লীগকে সমর্থন করবে না সে পরীক্ষা বহুবারই সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মানসিকতা এবং রাজনীতিক স্লোগান, কর্মসূচি তো সে তথ্যই দিচ্ছে। জানি না, এরপর সরকার কী ব্যবস্থা নেবেন। এ ধরনের ভুল বার বার করলে জনগণ তার পক্ষে অবস্থান নেবে না। মনে রাখতে হবে, জনগণই সর্বোচ্চ শক্তির অধিকারী। তারাই পারে কাউকে তুলতে আবার নামাতে। জনগণের ওপর এ ধরনের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে এবং উত্তর প্রজন্মকে সাম্প্রদায়িক মানসিকতায় গড়ে কখনোই ক্ষমতা ধরে রাখা যায় না। প্রতিদিন জাতিকে নতুন এবং আদর্শভিত্তিক উপাদানে সমৃদ্ধ করতে হবে। মানব সম্পদকে আরো উন্নয়ন করতে হবে। সেটা করতে হলে পাঠসূচিতে জাতির গৌরবময় ইতিহাস, শিল্প-সাহিত্য সন্নিবেশ আবশ্যিক। আগে সেটা করুন, তারপর এ সব নিয়ে ভাবলে বোধ হয় সরকার সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছুতে পারবে। তাদের সুস্থ মানসিকতা কামনা করে সমগ্র দেশবাসী। এই আলোকেই কেবল স্বাধীনতা-সার্বভৌম অক্ষুণœ থাকবে। সম্প্রীতিময় পরিবেশে দেশ গড়ার কর্মযজ্ঞে সকলে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে। নতুবা ধর্ম বিশেষের অধিবাসীরা ভাববে, দেশ তো আমার নয়, ধর্ম বিশেষের। আর এবংবিধ কারণেই দেশ ছাড়ো। এখন ক্রমাগত সংখ্যালঘু শূন্য হচ্ছে দেশ। তার পরিসংখ্যান আশা করি, সরকারের দপ্তরে সংরক্ষিত খতিয়ানেও আছে। আপাততঃ তারা সে খতিয়ানের আলোকে সিদ্ধান্ত নিলে জাতি সৌহার্দ্যময় পরিবেশে সামনে এগিয়ে যাবে। সেটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।