স্বাধীন দেশের দুর্বৃত্তায়নের খণ্ডচিত্র

আপডেট: অক্টোবর ২৯, ২০১৯, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

সুজিত সরকার


এ বছর জার্মানি ও ইংল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়সহ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাওয়াার সুযোগ আমার হয়েছিলো। সেখানে কোনো পুলিশ আমার চোখে পড়েনি। চোখে পড়েনি মিছিল, সংঘর্ষ কিংবা শুনিনি র‌্যাগিঙের মতো নিষ্ঠুর কোনো ঘটনার কথা। নতুনদের তারা সানন্দে বরণ করে নেয় এবং তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারলেই তারা গর্বিত হয়। ভ্রমণের সময়ও পুলিশ কিংবা নিরাপত্তার দায়িত্ব যারা পালন করেন, তারা বলা মাত্রই ব্যাগটা নিজের হাতে তুলে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেন। আমি যেমন প্যারিস এয়ারপোর্টে কিছুতেই তিন নম্বর কাউন্টার খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আমাকে হন্ত-দন্ত হয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখে একজন নারী নিরাপত্তাকর্মী এসে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলেন, ‘অ্যানি প্রবলেস স্যার?’ আমি সমস্যা বলতেই তিনি নিজে আমার ব্যাগ নিয়ে এয়ারপোর্টের ভেতরে চলাচলকারী একটা ট্রেনের কামরায় উঠে আমাকে তার পাশ বসতে বললেন। ট্রেন থেকে নেমে ওপরতলায় তিন নম্বর কাউন্টারে পৌঁছে দিয়ে কাল বিলম্ব না করে দ্রুত নিজের কাজে দিকে পা তুললেন। এক কাপ কফি কিংবা নিখরচার ধন্যবাদটুকু দেয়ার সুযোগ দিলেন না। হাসিমুখে “বাই” বলে ত্রস্ত হাঁটা দিলেন। সেখানের পুলিশ বা নিরাপত্তা কর্মীরা এতোটাই সৎ-কর্তব্যপরায়ণ নির্ভরযোগ্য। আমাদের দেশে এটা খুব কমই দেখতে পাবো। বরং তার বেশি পাবো ধমক-হয়রানি আর অর্থ-দাবির সাক্ষাৎ। এ দেশে পুলিশ খুব কমই জনগণের বন্ধু হয়, হলেও সে দৃষ্টান্ত সত্যি নগণ্য। তাই পুলিশকে মানুষ চেষ্টা করে এড়িয়ে চলতে। কারণ তাদের প্রতি চরম অবিশ^াস এবং ঘৃণা। বঙ্গবন্ধু এই দুর্বৃত্তদের দেখেই বলেছিলেন, ‘দেশ স্বাধীন হলে সবাই সোনার খনি, হীরের খনি পায়, আমি পেয়েছি ঘুসখোর-দুর্নীতিবাজের খনি।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসনা সেই দুর্বৃত্ত-দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। দেশবাসী নিশ্চয়ই তাঁর পাশে আছে। থাকবেও।
বাংলাদেশে পুলিশের ভূমিকা সত্যি বিতর্কিত। পুলিশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্যে সশস্ত্র উপস্থিত থাকে। তার অর্থ, আমাদের যারা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে অধিষ্ঠিত, তারা বিশ^বিদ্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্ষম ও সমর্থ নন। ব্যর্থ। এ দেশে পুলিশ নিয়ত অপরাধপ্রবণ এবং ক্ষমতাধরদের অপরাধ আড়াল করতে তৎপর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীরা পুলিশের সহযোগিতা গ্রহণ করেন। অর্থের বিনিময়ে তারা সহযোগিতা পানও। যে দেশের পুলিশ হাড়ে-মাংসে অসৎ, দুর্নীতিপরায়ণ এবং সর্বোপরি পক্ষপাত দুষ্ট, তাদের ওপর কতোটা ভরসা করা যায়? যখন যে দল সরকারে থাকে, তখন তারা তাদেরই পেটোয়া বাহিনীর দায়িত্ব অক্লেশে পালন করে। নির্দ্বিধায় দুষ্কর্মে লিপ্ত হয়। আর সেই পুলিশের ওপর ভরসা করে কি প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব? পুলিশ-সীমান্ত রক্ষিবাহিনী তো দেশে আছে, তারপরও কেনো মাদক-ক্যাসিনো আর চাঁদাবাজি-ভূমি দখল হয় কি করে? আর এ ভাবে পুলিশ পাহারায় কি শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ গড়া গেছে? তবে এটুকু সম্ভব হয়েছে যে, পুলিশ পাহারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মৃত্যুর মিছিল কমানো যায়নি। যাবেও না। আবরার হত্যার মধ্যে দিয়ে তা পুনর্বার প্রমাণিত হয়েছে। ছাত্র রাজনীতির গৌরবময় অতীত আর নেই। জনবিচ্ছিন্ন সামরিক স্বৈরশাসনের সুবাদে ছাত্র রাজনীতি এবং ব্যক্তি স্বার্থের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। তাদের হাতে বই-কলম নেই। আছে ক্ষমতার অশুভ প্রয়োগের সমান্তরালে অর্থ আর অস্ত্র। এখন অর্থ এ ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চললে ভবিষ্যতে মৃত্যুর মিছিল বৃদ্ধি পাবে। যুব ও ছাত্রনেতারা হবে টেন্ডারবাজ-চাঁদাবাজ আর দখলবাজ, এটা কল্পনাতীত। তাদের অভিভাবকের সামর্থ্য না থাক, তারা নিজেরা তিনটে সেলফোন ব্যবহার করে এবং এক একটি ১৫ টাকা মূল্যের বেনসন টানে। টাকা তো অঢেল। হাত বাড়ালেই টাকা মেলে। তাদের সঙ্গে অপরাধপ্রবণ প্রশাসকদের সম্পর্ক ভালো। প্রশাসনও নিজেদের ইন্টারেস্টে তাদের তোষণ-পোষণ করেন। না হলে কী করে একজন নেতা নিত্য নতুন জামা-প্যান্ট পড়ে দুই সঙ্গীকে পেছনে বসিয়ে মোটরবাইক হাঁকায়? গত ১৬ অক্টোবর “দৈনিক সংবাদ”-এর লিড নিউজ : “স্বাধীনতার পর ৪৮ বছরে শিক্ষাঙ্গনে ২৫৩ জনের মৃত্যু”। তার মধ্যে ছাত্রলীগের ৬১ জন, ছাত্রদলের ৩৯ জন এবং অন্যান্য ১৫৩ জন।
১৯৭২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ ছিলো শিক্ষাবান্ধব। ৭৩-এ খানিকটা বিক্ষুব্ধ পরিবেশ সৃষ্টি হলেও সে বছর কেউ নিহত হয়নি। রক্ত ঝরা শুরু হয় ১৯৭৪ সালে। ৪ এপ্রিল গভীর রাতে ছাত্র লীগের ৭ নেতা-কর্মীকে খুন করে আরেক অংশের নেতা সফিউল আলম প্রধানের সমর্থকরা। ১৯৭৫ সালেই এ খুনের বিচার হয়। সফিউল আলম প্রধানসহ খুনিদের আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। এই খুনিদের মহানায়ক (?) সফিউল আলম প্রধানকে পঁচাত্তরের মধ্য আগস্টে জনবিচ্ছিন্ন সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে কারামুক্ত করে তার নবগঠিত দলের ছাত্র সংগঠন গড়ার লক্ষ্যে বিপুল অঙ্কের অর্থ ও অস্ত্র জোগান দিয়ে গুরুদায়িত্ব দায়িত্ব অর্পণ করেন। সেই থেকে বিশ^বিদ্যালয়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হয়। নিহত হন অনেক শিক্ষার্থী। ১৯৭৪ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত ১৮ বছরে শিক্ষাঙ্গনে নিহত হন ৯২ জন। এই ৯২ জনের মধ্যে ১৬ জন ছাত্র লীগের নেতা-কর্মী। ৬জন ছাত্রদলের। অবশিষ্টরা ছাত্রমৈত্রী ও ইউনিয়নসহ অন্যান্য সংগঠনের এবং অরাজনৈতিক শিক্ষার্থী। এই সময়ে বিভিন্ন সংঘর্ষে আহত হন ২ হাজার ৮৪৭ জন। তারপর গণঅভ্যুত্থানে সামরিক দুঃশাসনের অবসান ঘটে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে। বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি-জামাত জোট। দেশবাসী আশা করেছিলো এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হবে। সামরিক স্বৈরাচারের বিদায় ঘটেছে। আর কোনো শিক্ষার্থীর প্রাণ যাবে না। ক্যাম্পাস হবে না রক্তাক্ত। হবে পড়ালেখা। আমাদের সন্তানেরা বিদ্বান-বিদুষক হবে। কিন্তু দেশবাসীর সে আশায় ‘গুড়ে বালি’। নির্বাচিত সরকার যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে জোট করে একাত্তরের স্টাইলে প্রথমেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সশস্ত্র চড়াও হয়। ১৯৯১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৮ বছরে নিহত হন ১৬১ জন। এই সময়ে আহত হয়েছে ১৬ হাজার ১৮২ জন। দায়িত্ব পালনকালে আহত হয় ১৩৬ পুলিশ ও ৮২ জন গণমাধ্যম কর্মী। এ পর্যন্ত কোনো হত্যা-জখমের বিচার হয়নি এবং ক্ষতিগ্রস্তদেরও দেয়া হয়নি চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ। বিচার হলে আশা করি মৃত্যুর মিছিল কমে যেতো। “দৈনিক সংবাদ” ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ‘শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক সহিংসাতার বিস্তার ঘটে জেনারেল এ এইচএম এরশাদ ও জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। জেনারেল এরশাদের আট বছরের সামরিক শাসনালের শেষ দিকে ক্যাম্পাসে সহিংসতা ব্যাপক রূপ নেয়। এরশাদের পতনের পর বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সহিসংতা ব্যাপক আকার ধারণ করে। ১৯৮৯ সালে ক্যাম্পাসে বড়ো ধরনের সংঘর্ষ ঘটে ৬৮টি। তার মধ্যে ১৯টি সংঘর্ষে নিহত হন ২০ জন। ৪৪টি সংঘর্ষে আহত হন ৫৯৫ জন। ওই বছর ডাকসুর বিজয় মিছিলে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতৃত্বে ছাত্রীদের ওপর হামলা হয়। ১৯৯০ সালে দেশের শিক্ষাঙ্গনে ৬৮টি সংঘর্ষ হয়। নিহত হন ৫ জন এবং আহত শতাধিক। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সারাদেশে ছাত্র সংঘর্ষ হয় ২০৮ বার। এ সব সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ২৪, আহত ২ হাজার ৩০ জন। ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।’ “দৈনিক সংবাদ” লিখেছে, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ আমলে ক্ষমতা হারিয়ে বিএনপি-জামাত জোট উন্মাদ হয়ে ওঠে। তারা পাঁচ বছর আওয়ামী সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে বার বার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর আক্রমণ চালায়। মারা যান ৩০ জন। আহত হন দুই হাজার ৩২৮ জন। এ সময়ই তারা প্রতিপক্ষের রগ কাটা, হত্যা-নির্যাতনের প্রতিযোগিতায় নামে। ২০০১ সালে পুনরায় ক্ষমতায় এসে তারা শিক্ষাঙ্গনের চৌহদ্দি পেরিয়ে দেশময় একাত্তরের কায়দায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ওপর সশস্ত্র আঘাত হানে। খুন-ধর্ষণ-লুটপাট-অগ্নিসংযোগসহ এমন কোনো বর্বরতা নেই যা থেকে তারা বিরত থেকেছে। উল্লাপাড়ার পূর্ণিমা, পুঠিয়ার মহিমা, ভোলা-সাতক্ষিরাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ৬০ বছরের বৃদ্ধ থেকে সাত বছরের শিশুকে পর্যন্ত ধর্ষণ করেছে। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে রাজশাহী জেলার দুর্গাপুরের আশীতিপর বৃদ্ধ দশরথ মাস্টারকে। তাঁর ঘরের টিন, মাঠের ফসলও কেটে নিয়ে যায় বিএনপি-জামাতের সমন্ত্রাসীরা। রাজশাহীর গোদাগাড়ি এলাকার আদিবাসীদের কবরস্থান, মন্দির এবং বসতভিটে দখল করে। ইশকুল-কলেজের যে সব শিক্ষক-কর্মচারী নৌকার পক্ষে নির্বাচন করেছিলেন, তাদেরও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়েছে। টাকা দিয়ে সন্ত্রাসীদের সন্তুষ্ট করে ওই সব শিক্ষক-কর্মচারী প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন। পুলিশ তখনো ছিলো। থানায় অভিযোগ করেও কোনো পরিত্রাণ পায়নি নির্যাতিত জনগণ। থানা-পুলিশ তখন সরকারের ক্রীড়ানক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ না দিলে তারা নড়েচড়ে বসতো না। তারা ওপরের নির্দেশ পালনকারী ঋণদাতা একজন কবি-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কর্মীকে খুঁজে পায়, কিন্তু অপরাধী ঋণ গ্রহীতাকে খুঁজেই পায় না। কারণ অর্থ পাচারকারী ঋণ গ্রহীতা বিত্তশালী ও ক্ষমতাধর। সেই বিত্তশালীর স্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ করে আসামিকে শহর ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। ১৮ অক্টোবর প্রতিবাদী মানববন্ধনে একজন বক্তা এ অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তাহলে দেশের মানুষ কার কাছে আর নিরাপত্তা প্রত্যাশা করবে? শিক্ষাঙ্গনই বা কী করে শান্তিপূর্ণ থাকবে। তারা দেখতেই পায়নি চাকরি দেয়ার জন্যে প্রার্থীর কাছে বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের ঘুস অঙ্ক নির্ধারণের ফোনালাপ! বঙ্গবন্ধু বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্যের আত্মীয়দের চাকরি দেয়া, জাহাঙ্গীরনগরের উপাচার্যের কোটি টাকা ছাত্রনেতাদের উপঢৌকন দেয়া। অসৎ-দুর্বৃত্ত তাদের প্রিয়ভাজন বলেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে লালন করছেন। পুলিশ-দুদকও। না হলে কেনো তাকে গ্রেফতার করা হয়নি? কেনো হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ধনিদের অর্থের উৎস দুদক খোঁজ করছেন না? কেনো ভূমিদস্যু, বালু কারবারি, খুনের অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বুক চিতিয়ে শহরময় ঘুরে বেড়ানো সুযোগ পায়? পুলিশ তাদের দেখে না? সাধারণ মানুষ হলে দশ-বিশ হাজার ঋণ গ্রহীতকে গ্রামীণ ব্যাংক এবং ক্ষুদ্র ঋণের কারবারি কতিপয় এনজিওর মতো বাড়ির হাঁস-মুরগি, ঘরের ছাউনি খুলে নিয়ে যেতো। অথচ তারা হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপিদের ধারে-কাছে যেতে পারে না। ক্ষমতা ও অর্থের দাপট তাদের কাছে এতোই গুরুত্ববহন করে।
দুর্বৃত্তায়নের আরো হরেক চিত্র নিভৃতে কাঁদছে। সাগর-রুণির হত্যার বিচার হয়নি। বিচার হয়নি রাবি’র ছাত্রনেতা চৌধুরী হত্যা। সরকারি নির্দেশের পরও রাজশাহীসহ অন্যান্য বিশ^বিদ্যালয়ের কোনো দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। তদন্ত রিপোর্টও সরকারি দপ্তরে পাঠানো হয়নি। অথচ তারা প্রতিশ্রুতি বদ্ধ ছিলেন দুর্নীতির তদন্ত করে সরকারকে অবহিত করার। বরেন্দ্র মিউজিয়ামের দুর্নীতি, চুরি কোনোটারই তদন্ত হয়নি। চোর-দুর্নীতিবাজ এখন দিব্বি নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছে। দেশ এগোবে কী করে? কী করে হবে উন্নয়ন? কী পুলিশ প্রহরায় পড়ালেখা করবে? পাবে নিরাপত্তা? লিফট কিনতে বিদেশ সফর, পুকুর খননের প্রশিক্ষণ নিতে আমলাদের বিদেশ ভ্রমণ? সরকার কি মন্ত্রী-এমপিদের থেকে বিশ^স্ত মনে করেন আমলাদের? অবশ্য সংরক্ষিত আসনের এমপি নিজের পড়ালেখা নিয়ে যে জালিয়াতি করেছেন, দেশ-বিদেশের পত্রিকায় তা ফলাও করে ছাপাও হয়েছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি তিনি কোথায় কোন্ অন্ধকারে নিয়ে দাঁড় করিয়েছেন? এই রকম এমপি’র ওপর ভরসা করা সত্যি কষ্টকর। প্রশাসন অপরাধপ্রবণ বলেই ওই এমপিকে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। ওই প্রশাসনেরও শাস্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়।