স্বামীকে জিম্মি করে গর্ভবতী স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৪, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ


পাবনা প্রতিনিধি :পাবনা সুজানগপার আমিনপুরে স্বামীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গর্ভবতী স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এতে তার গর্ভের সন্তানও মারা গেছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই নানা চাপে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

২৩ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাতে আমিনপুরের সাগরকান্দি ইউনিয়নের চর কেষ্টপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ২৫ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর স্বামী।
মামলার অভিযুক্তরা হলো-, চর কেষ্টপুর গ্রামের মাজেদ প্রামানিকের ছেলে সেলিম প্রামাণিক (২৩), একই গ্রামের শরীফ হোসেন (২৪), আনিছ সরদারের ছেলে রাজীব সরদার (২১), তালেব মন্ডলের ছেলে রুহুল মন্ডল (২৬), শফিক সরদারের ছেলে লালন সরদার (২০) এবং শামসুল ইসলামের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (২৩)।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে চর কেষ্টপুর গ্রামে একটি ওয়াজ মাহফিল আয়োজন করা হয়। মাহফিলের ডেকোরেশনের কাজ করছিলেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী। টাকার প্রয়োজনে ওই রাতে তার স্বামীর কাছে যান তিনি। সেখানে ওয়াজ শুনে রাত ১২টার দিকে শ্রীপুর গ্রামে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন তারা। পথিমধ্যে শ্রীপুর গ্রামের কাচা রাস্তায় পৌঁছালে গতিরোধ করেন অভিযুক্ত ৬ যুবক। তাদের নানা জিজ্ঞাসাবাদ ও গালিগালাজ করা হয়।

এক পর্যায়ে নারীর স্বামীকে অস্ত্র ও ব্লেডের মাধ্যমে জিম্মি করে এবং ওই নারীকে ভুট্টা খেতে নিয়ে অভিযুক্তদের দু’জন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। স্থানীয় বাসিন্দা লিটন মন্ডল, রাজ্জাক মন্ডল, নিফাস মন্ডল ও শহিদ মন্ডল বলেন, ‘আমাদের ওয়াজ মাহফিল চলা অবস্থায় রাত ১টার দিকে ওই ছেলে ছুটে এসে বললো, কিছু ছেলে তাকে মারধর করে তার স্ত্রীকে ধরে নিয়ে গেছে। এ কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয়রা গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক তোফাজ্জল হোসেন কাদেরীর কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ’

ভুক্তভোগীর নারীর স্বামী মামলার বাদী বলেন, ‘আমার স্ত্রী ৩ মাসের গর্ভবতী ছিলেন। ঘটনার পর গর্ভের সন্তান মারা গেছে। মামলা হলেও আমাদের এখনও কোনো কাগজপত্র দেয়নি পুলিশ। থানায় গেলে কিছু পুলিশ সদস্য নানারকম কথা বলেন। আর যারা ধর্ষণ করেছে তাদের পক্ষ থেকেও নানা হুমকি ও চাপ আসছে। বলছে এ ঘটনায় কিছুই হবে না, তোমাদেরই বিপদ হবে তাই মীমাংসা করো। আমরা ধর্ষণ এবং আমাদের সন্তান হত্যার বিচার চাই।’

স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক তোফাজ্জল হোসেন কাদেরী বলেন, ‘স্থানীয়রা ওই নারীকে উদ্ধার করে আমার কাছে নিয়ে আসলে আমি প্রাথমিক চিকিৎসা দেই। পরে তাদেরকে বলি মেয়েটাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল বা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে।’
অভিযুক্তরা এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাগরকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে দিবালোকে ঘুরছেন কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারছে না’

এ বিষয়ে আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, ‘অভিযুক্তরা সবাই পলাতক আছেন। তাদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশি গাফিলতার বিষয়টি সঠিক নয়। আমরা চেষ্টা করছি গ্রেপ্তারের। ধর্ষণের ঘটনা মিমাংসা হয় না, বাদীকে হুমকি-ধামকির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। তাদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’
#

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version