স্বাস্থবিধি মানতে উদাসীনতা

আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২২, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থবিধি মানতে উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, রাস্তা-ঘাট ও পরিবহনগুলোতে মাস্ক ছাড়ায় চলাচল করতে দেখা গেছে। এছাড়া অফিসগুলোতে সেবাদানকারীরা দূরত্ব বজায় রাখলেও গ্রহীতাদের মধ্যে দূরত্বতা ও মাস্ক পরাতে অনীহা দেখা গেছে। কারো মুখে মাস্ক থাকলেও নাক অথবা থুতনিতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, অফিসগুলোতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা দেখা যায়নি।

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর, রাজশাহী পোস্ট অফিসে (জিপিও), রাজশাহী রেলওয়ে, বিভিন্ন ব্যাংক, রেলওয়ে স্টেশন ছাড়াও বিকেলে নগরীর বিনোদপুর, ভদ্রা, শিরোইল বাস স্ট্যান্ড, গোরহাঙ্গা চত্বর ঘুরে দেখা গেছে- সেবাদানকারী-সেবাগ্রহীতা, যাত্রী, চালক ও পথচারীদের মধ্যে মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি। কিছু কিছু স্থানে অনেককেই এক সঙ্গে দাঁড়িয়ে গল্প আর আড্ডা দিতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে অনেকের মাস্ক থাকলেও যথাযথ স্থানে ছিল না।

সকালে রাজশাহী পোস্ট অফিসে (জিপিও) গিয়ে দেখা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখে তেমন মাস্ক ছিল না। যাদের মুখে আছে; তাদের আবার যথাযথ স্থানে নেই। অনেকের নাকের নিচে নামানো ছিল মাস্ক।

জিপিও অফিসের ভেতরে মাস্ক ছাড়া নিজের মধ্যে কথা বলতে দেখা গেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এছাড়া জিপিওতে সেবা নিতে আসা মানুষগুলোকে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব¡ লক্ষ্য করা যায়নি। তাদের ঠাসাঠাসি লাইনে দাঁড়িয়ে সেবা নিতে দেখা গেছে।

এই বিষয়টি নিয়ে সন্ধ্যায় জিপিও অতিরিক্ত পোস্ট মাস্টার জেনারেলের মুঠোফোন কল করা হলে তিনি রিসিভ করেন নি।
একই অবস্থা দেখা গেছে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে। গেটে ছিলো না হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা। এছাড়া শিক্ষাবোর্ড চত্বরে মাস্ক ছাড়া ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে মানুষকে। অফিস কক্ষগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে- কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখে মাস্ক থাকলেও যথাযথ স্থানে ছিল না।

এছাড়া শিক্ষাবোর্ডে সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব¡ মানতে দেখা যায়নি। তারা একে অপরের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নিজের প্রয়োজনীয় কাজ করছেন। এছাড়া বোর্ডের স্টাফদের মুখে তেমন মাস্ক দেখা যায়নি। অন্যদিকে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে গিয়ে দেখা গেছে- অনেকের মুখে মাস্ক থাকলেও যথাযথ স্থানে ছিল না। এছাড়া রাজশাহী রেলওয়ের জিএম অফিসে ঢুকতে হাতের ডানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হলেও পানি আর সাবানের ব্যবস্থা ছিল না। বেশ কয়েকটি বেসিনের মধ্যে কয়েকটির ট্যাপ কলে ছিল না পানি।

অন্যদিকে, সড়কে অটোরিক্সা চালক ও যাত্রীদের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। এছাড়া অটোরিক্সাগুলোতে সামনা-সামনি বসে থাকা কারো মুখে মাস্ক আছে; কারো মুখে নেই। এমন ভাবে যাত্রা করতে দেখা গেছে অনেকেই।

অটোরিক্সা চালক রবিউল ইসলাম জানান, ‘নিজে মাস্ক পরার চেষ্টা করি; যাত্রীদেরও বলি। কিন্তু কোনো যাত্রী মাস্ক না পরলে তো জোর করে বলা যায়না। অনেকেই আবার শোনার পরে মাস্ক পরেন। তবে যাত্রীরা একেবারেই মাস্ক পরেন না এমনটি নয়।’
বাসের যাত্রী সবুর রহমান জানান, ‘আমি চশমা ব্যবহার করি। তাই মাস্ক পরলে চশমার কাঁচ আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এমনভাবে আমার কয়েকটা চশমা নষ্ট হয়েছে। তাই মানুষ থাকলে পরি না থাকলে খুলে রাখি।’

লক্ষ্য করা গেছে- অনেকেই দেখা গেছে বাড়ি থেকে মাস্ক না পরে অটোরিক্সায় গন্তব্যে এসেছেন। এর পরে কোনো দফতরে ঢোকার সময় পকেট থেকে মাস্ক বের করে মুখে পড়ে নিচ্ছেন। কিছুক্ষণ পরে তা থুতনিতে নামিয়ে রাখছেন।

রাজশাহী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো জানান, স্বস্থবিধি মানার বিষয়টি দেখা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে বাস স্ট্যান্ডগুলোতে মাইকিং করা হবে যাত্রী ও চালকদের সচেতন করার লক্ষ্যে।