স্বাস্থ্যখাতের ঘাটতি চাই অধিক বিনিয়োগ ও গবেষণা

আপডেট: জুন ৪, ২০২০, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

সন্দেহ নেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে গিয়ে শুধু বাংলাদেশই নয়Ñ পৃথিবীর সব দেশই নতুন নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করেছে এবং অভিজ্ঞতা অর্জন এখনো অব্যাহত আছে। করোনাভাইরাস সম্পর্কে পৃথিবীর মানুষের ধারণা না থাকার কারণে প্রথম দিকে সংক্রমণের শুরুতে কর্তব্যকর্ম শুরু করতে বেশ বিলম্ব হয়েছে। উন্নত দেশগুলোও করোনাভাইরাস মোকাবিলায় হতোদ্যম- আসহায় হয়েছে কোনো কোনো সময়। আর করোনাভাইরাস নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে গোড়া থেকেই। তবে একটা বিষয় বেশ পরিষ্কার হয়েছে যে, বিশ্ব স্বাস্থ্যসেবার মান কোনোভাবেই কাক্সিক্ষত পর্যায়ে ছিল না। বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপিই স্বাস্থ্য খাতের দিকে বিশেষ নজর দেয়ার সময় এসেছেÑ সেটা দেশে দেশে অনুভুতও হচ্ছে। এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতাগুলো পরিষ্কারভাবে সামনে এসেছে। এবং দুর্বলতা কাটিয়ে একটি উন্নত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা কীভাবে সুরক্ষিত করা যায় সে ব্যাপারে ইতোমধ্যে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের ভাবনার মধ্যেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন এই উপলব্ধি থেকেই হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ এবং প্রত্যেক জেলা হাসপাতালে স্বয়ংসম্পূর্ণ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) দ্রুত নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২ জুন রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সভা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বিষয়টি জানান। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের সংববাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
চলতি মাসেই জাতীয় সংসদে ২০২০Ñ২০২১ সালের প্রস্তাবিত বাজেট পেশের প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দের প্রতি নজর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞগণ। তাঁরা ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্যখাতকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বাজেট বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছেন। পরিকল্পনামন্ত্রীও স্বাস্থ্যখাতে ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করছেন। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘সবাই স্বীকার করেন, আমরাও স্বীকার করি যে, অন্যান্য খাতের মতো আমাদের স্বাস্থ্য খাতেও অনেক ঘাটতি আছে। এটা লুকিয়ে রাখার কোনো বিষয় নয়। এটাকে আপডেট করা খুবই দরকার। তবে স্বাস্থ্যের ব্যাপারে যদি ঘাটতি থাকে, এটার ভয়ঙ্কর পরিণতি হয়। জীবন-মরণের প্রশ্ন। এ জন্য করোনার মধ্যেও আমরা নিয়মিত মিটিং না করে স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছি। সুতরাং যারা সরকার পরিচালনা করেন, উচ্চ সচেতনতা তাদের মধ্যে আছে।’
স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠোমো ও দক্ষ লোকবল সৃষ্টির যেমন প্রয়োজন আছে তেমনি স্বাস্থ্যাতের উন্নয়নে গবেষণারও গুরুত্ব অপরিসিম। গবেষণা খাত অনেকটাই উপেক্ষিত থাকে। এই খাতে বিনিয়োগের অপরিহার্যতা আছে। কেননা আমরা এটা বিশ্বাস করি, উন্নয়নের পূর্ব শর্তই হলো দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়া সক্ষমতা বাড়ানো যায় না। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বিনিয়োগ অধিক গুরুত্ব পাবে সেই প্রত্যাশাই রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ