স্বাস্থ্যবিধিতে উদাসীন রাজশাহীর অনেক দপ্তর!

আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২২, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকে ছাড়িয়ে নতুন করে চোখ রাঙ্গাচ্ছে ওমিক্রণ। এরইমধ্যে এ বিষয়ে সতর্ক করে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সরকারি দপ্তরগুলোতেও পাঠানো হয়েছে চিঠি। কিন্তু এরপরেও রাজশাহীর অনেক সরকারি-বেসরকারি অফিস স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে উদাসীন। এমনকি করোনার উর্ধ্বমুখি পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের বাইরে হাত ধোয়ার যে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছিলো যেগুলোও এখন পতিত। পরিচর্যা ও ব্যবহার না করায় জমেছে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। সেখানে আবার জন্ম নিয়েছে মশাও। এতে করোনার সঙ্গে মশাবাহিত রোগ সংক্রণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অথচ করোনা পরিস্থিতিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

রোববার (১৬ জানুয়ারি) নগরীর কর অফিস, গণর্পূত অফিস, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এলজিডি অফিসসহ আরও কয়েকটি অফিস ঘুরে ও উপজেলাগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে সেবাপ্রার্থী ও কর্মচারীদের অনেকেই বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার করছেন না। অফিসের প্রবেশমুখে হাত ধোঁয়ার জন্য যে ব্যবস্থা করা হয়েছিলো সেগুলোতে ময়লার স্তুপ জমেছে। নেই সাবান কিংবা অন্য কোনো লিক্যুইডের ব্যবস্থাও। দেখেই বোঝা যাচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে এগুলো ব্যবহার করা হয় নি।

এদিকে, সরকারি উদ্যোগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রাজশাহীর ৫৩ টি প্রতিষ্ঠানে হাত ধোঁয়ার স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করে দেয়। যেগুলো করোনার উর্ধ্বমুখি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্ব সহকারে ব্যবহার ও পরিচর্যা করেছে। কিন্তু সংক্রমণ কমে আসলে এসব অবকাঠামোও পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

এসব প্রতিষ্ঠানের সেবাপ্রার্থী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, প্রতিষ্ঠানের সামনে সাবান-পানির যে ব্যবস্থা করোনার উর্ধ্বমুখি সময়ে ছিলো সেটা খুবই উপকারী একটা উদ্যোগ। দূর-দূরান্ত থেকে এসে সুন্দরভাবেই হাত মুখ পরিষ্কার করা যেত। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকলে সাবান আছে তো পানি নেই, আবার পানি আছে সাবান নেই। এরমধ্যে আবার ময়লা দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করাই সেগুলো আর ব্যবহার উপযোগী থাকে নি। একারণে তারাও আর ব্যবহার করেন না। এই জায়গাগুলো এমনি স্বাভাবিক সময়েও পরিষ্কার থাকা উচিত।

এবিষয়ে রাজশাহী কর অফিসের কর কমিশনার শফিকুল ইসলাম আকন্দ বলেন, কর মেলার পর থেকে কর অফিসে এখন জনসমাগম অনেকটাই কম। আর দীর্ঘ সময়ের করোনার পরিস্থিতির পর অনেকটাই স্বাভাবিকের দিকে চলে আসছিলো। একারণে সবাই অফিসের ভেতরের ওয়াসরুম ব্যবহার করছে। একারণে বাইরেরটাই কিছুটা ময়লা জমেছিলো। তবে দ্রুতই এটা পরিষ্কার করা হবে।

এলজিইডি সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের ক্যাম্পাস সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। তবে অনেকদিন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থায় কিছুটা দুর্বলতা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়টি দ্রুতই সমাধান হবে।

রাজশাহী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রোজনুজ্জামান বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় এ বিষয়ে মানুষের মাঝে উদাসীনতা তৈরি হয়েছে। আর আমরা শুধু নির্মাণ করে দিয়েছি। তবে পরিচর্যার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। প্রত্যেককে এ বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সাবিহা সুলতানা বলেন, করোনার উর্ধ্বমুখি পরিস্থিতি কাটিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একটা স্বাভাবিকতা চলে আসছে। যে কারণে মানুষ ওমিক্রনকে খুব একটা গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে না। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি অভিযানও চলমান রয়েছে। মানুষকে সাবধান করা হচ্ছে। আবারও যেহেতু করোনার প্রকোপ বাড়ছে প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে দেয়া হবে। তারপর না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।