স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হুশিয়ারি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসেবা নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০২০, ২:০৩ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আতঙ্কে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ব্যাপকহারে কমে গেছে। অনেক হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্ট সেন্টার বন্ধ করেও রাখা হয়েছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। অভিযোগের পাল্লা ভারি হচ্ছে যে, হাসপাতালে চিকিৎসক নেই। তাই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসকদের উপস্থিতি তদারকি করতে মাঠে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। ৪ এপ্রিল রাজধানীর নামিদামি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এ অভিযান চালানো হচ্ছে।
করোনা ভাইরাসের এই বিপজ্জনক পরিস্থিতে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ৪ এপ্রিল রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা বেড পরিদর্শনকালে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। পরে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও মন্ত্রীর এ হুঁশিয়ারির কথা জানানো হয়। এতদসংক্রান্ত খবর দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে ফেরত দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ এসেছে। গত সপ্তাহে ছয় হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে ঢাকাতেও এক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
সাধারণ কাশি বা জ্বর নিয়ে হাসপাতাল- ক্লিনিকে গেলে করোনাভাইরাসের সাথে তা গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে। এমন রোগীদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যদি এই পরিস্থিতি হয়- তা হলে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের কী হবে- সেটা ভাবলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মাত্রা যে বেড়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। বাস্তবিক সেটা হচ্ছেও। দায়িত্বশীলরা যদি তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করেন তা হলে জরসাধারণের বিড়ম্বনার পরিমাণটা অনেকগুণে বেড়ে যায়। একই সাথে মানুষের মধ্যে এক ধরনের হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং মানুষকে মারমুখি করে তুলতে পারে। হাসপাতাল তা সরকারি কিংবা বেসরকারি হোক- সেখানে যদি চিকিৎসা না পেয়ে মানুষ ফিরে যায় এবং তার অবস্থার অবনতি হয় বা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুমুখে পতিত হয় তা হলে সামাজিকভাবেই আস্থার সঙ্কট তৈরি হতে পারে। তাতে করে করোনাভাইরাসের মত প্রাণঘাতী রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করাটা খুবই দুরহ হয়ে পড়বে। এবং এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে তাতে সামাজিক বিশৃঙ্খলা এমনকি আইন-শৃঙ্খলার অবনতিও ঘটাতে পারে। বিষয়টিকে দায়িত্বশীল সকলেরই উপলব্ধিতে থাকা দরকার। কেননা আমরা এমন এক ভয়ঙ্কর সময় অতিবাহিত করছি যখন শুধু নিজেকে রক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই- যদিনা অন্যের সুরক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব না দিই। নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্যই অন্যের সুরক্ষার বিষয়কেও সমগুরুত্ব দিতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা সরকারের পক্ষ থেকে বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসক হাজিরা নিশ্চিত করে সেখানে রোগীদের চিকিৎসেবা নিশ্চিত করার যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাকে স্বাগত জানাই। তবে সেটা যেন কথার কথা না হয়Ñ সে ব্যাপারটাও নিশ্চিত করতে হবে। যে হাসপাতাল বা যে চিকিৎসক চিকিৎসাসেবায় অনীহা দেখাবে তার বা তাদের সেই পেশায় নিয়োজিত থাকা উচিৎ হবে না। তবে এটা ঠিক যে, চিকিৎসকদের সুরক্ষিত উপায়েই করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী ও অন্য রোগীদের সেবা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।