স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতদের ৬০ ভাগই অনুপস্থিত || জবাবদিহিতার করুণ চিত্র

আপডেট: আগস্ট ২৭, ২০১৭, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

দেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সাধারণের এন্তার অভিযোগ। এসব অভিযোগের অধিকাংশেরই ভিত্তি আছে। বিশেষ করে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা এখনো কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নেয়া সম্ভব হয় নি। এর একটি বড় কারণ হলো স্বাস্থ্যসেবার সাথে সংশ্লিষ্টদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে উদাসীনতা ও দুর্নীতি। উদাসীনতা ও দায়িত্ববোধের দুর্বলতার কথা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও স্বীকার করে নিচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের আট বিভাগের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী মোট ৪৭০টি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মস্থলে হাজিরা বর্তমানে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হাজিরা পদ্ধতি বায়োমেট্রিক হওয়ার কারণে যারা কর্মস্থলে আসেন না তাদেরকে খুব সহজে চিহ্নিতকরণ করা যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, গত জুলাই মাসে শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা দেননি। উপস্থিতির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ২০ আগস্ট দেয়া ওই চিঠিতে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে হাজিরা কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরত্বারোপ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য মতে, উপস্থিতির হার ক্রমশ কমছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে মে মাসের তুলনায় জুন ও জুলাই মাসে ইলেট্রনিক হাজিরা তুলনামূলকভাবে কম ও হতাশাজনক। অনুপস্থিতির কারণে চিকিৎসা সেবায় বিঘœ ঘটেছে।
অনুপস্থিতির কারণ কি সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন না? এই প্রশ্নেই সর্বনেশে কারণটি নিহিত রয়েছে। অনুপস্থিত সেবা প্রদানকারীরা নিজ প্রতিষ্ঠানে সেবায় সময় না দিলেও উচ্চ মূল্যের প্রাপ্তি স্থলে ঠিকই সেবা দিচ্ছেন। এটা যতই অনৈতিক বা অবৈধ হোক না কেন এমন ঘটনায় কোনো রাখঢাক নেই। সব কিছু ম্যানেজ হয়ে যাচ্ছে। জবাবদিহিতা যে নেই এটাই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। অর্থবিত্ত আর ভোগ- বিলাসের মত্ততার কাছে নৈতিকতার বিষয়টি একেবারেই পর্যদস্তু। এটাই নিয়মে পরিণত হয়েছে। যারা অনিয়ম করেন, নৈতিকতার স্খলন কিংবা অবৈধ উপায় গ্রহণ করেন তাদের কিছুই হয় না। ফলে ওদেরই বাড়বাড়ন্ত। সমাজের সাধারণ প্রান্তিক মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে হয় বঞ্চিত, প্রতারিত কখনো বা লাঞ্ছিত। মানুষ অন্তত স্বাস্থ্যকে অগ্রাহ্য করতে পারে না। সব কিছুতে সমঝোতা করা গেলেও আপনজনকে সুস্থ করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপোষ করা যায় না। সর্বস্ব দিয়ে আপনজনকে সুস্থ দেখতে চায়। এই অসহায়ত্বের সুযোগ নেয় স্বাস্থ্যসেবার সাথে সংশ্লিষ্টদের একটা বড় অংশ। তারা অর্থ-বিত্ত কামিয়াবে অন্ধ হয়।
ব্যবস্থাপনায় নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা গেলে স্বাস্থ্যসেবার অনেকটাই উন্নতি হবে। এর জন্য অনিয়ম অবৈধ উপায়ের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কর্মস্থলে শৃঙ্খলা ফিরবে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ