স্বাস্থ্যসেবা খাতে দুর্বৃত্তায়ন দুর্বৃত্তদের থামাবে কে?

আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০২২, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

জমজ দুই শিশুকে চিকিৎসা করাতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন মা আয়েশা আক্তার। তার স্বামী সৌদী প্রবাসী। গত ২ জানুয়ারি দালালরা তাকে ফুসলিয়ে ভালো চিকিৎসা দেয়ার কথা বলে নিয়ে যান শ্যামলীতে ‘আমার বাংলাদেশ হাসপাতাল। দুইদিন চিকিৎসা সেবার মধ্যে বিভিন্ন টেস্টের নামে মোটা অংকের বিল ধরিয়ে দেয় আয়েশা আক্তারকে। দুইদিন মোট বিল ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। প্রাথমিকভাবে আয়েশা আক্তার হাসপাতালে ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা ধীরে ধীরে দিয়ে দেবেন বলে সন্তানের চিকিৎসা চালাতে বলেন। কিন্ত সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ না করায় চিকিৎসাধীন জমজ শিশুসহ তাকে জোর করে বের করে দেন হাসপাতালের মালিক গোলাম সরোযার। পরে জমজ এক শিশুর নির্মম মৃত্যু ও অপর জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালের এইচডিইউতে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমে এই সংবাদটি প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে তোলপাড় হয়। অমানবিক এই ঘটনায় ওই শিশুর মা বাদি হয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় বাংলাদেশ হাসপাতালের মালিক ও পরিচালককে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা এবং র‌্যাব-২ ও র‌্যাব- ৩ যৌথ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আমার বাংলাদেশ হাসাপাতালের মালিক মোহাম্মদ গোলাম সরোয়ারকে (৫৭) গ্রেফতার করে।
র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন মর্মে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের প্রতারণামূলক অনেক তথ্য বেরিয়ে আসে। প্রথমত- হাসপাতাল স্ভাপনের জন্য সরকারি শর্ত পালনের কোনোটির ক্ষেওেত্রই সম্পন্ন হয় নি। দ্বিতীয়ত- হাসপাতালকে প্রতারণামূলক কর্মকা-ের একটি আখড়ায় পরিণত করা হয়েছে।
এটা নতুন কিছু কি? মোটেও তা নয়। সারা দেশেই এ ধরনের প্রতারণামূলক ও জালিয়াত চক্র স্বাস্থ্যসেবা খাতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এরা এতোই বেপরোয়া যে তাদের নিয়ন্ত্রণ করাই দায় হয়ে পড়েছে। কেননা ওইসব প্রতারক- দালালচক্রের সাথে প্রভাবশালীরা নেপথ্যে কাজ করে। মাঝখান থেকে এদের খপ্পরে পড়ে সাধারণ নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন, নিঃস্ব হন এমন কী নির্যাতনের সম্মুখিন হন।
রাজশাহীতেও এমন অনেক ঘটনা আছে যা যা অত্যন্ত অমানবিক। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী দালাল ও প্রতারকচক্র সক্রিয় আচে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনেক গলধঘর্ম ব্যবস্থা নিয়ে দালাল-প্রতারকদের দৌরাত্ম কমাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। কেননা ওই দালাল চক্রের সাথে হাসপাতালের কতিপয় ডাক্তার, নার্স-কর্মচারিরা আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়। অন্যদিকে কতিপয় ক্লিনিক-হাসপাতাল-ডায়গোনস্টি সেন্টরের মালিকদের আশ্রয় প্রশ্রয়য়ে দালাল-প্রতারকচক্র এবং হাসপাতালের অসাধু ডাক্তার নার্স-কচারিররা কাজ করে থাকে। এ নিসন্ডিকেশন মক্তিশালী. সহজেই ভাঙ্গবার নয়। মাঝেমধ্যে দালাল-প্রতারকদের কেউ কেউ ধরা পড়লেও হাসপাতাল-ক্লিনিক মালিকরা সবসময় অধরা থেকে যায়। আশ্রয়-প্রশ্যয়দানকারীদের অঅইনের আওতায় না আনিা পর্যন্ত স্ব্থ্যাসেবা খাতের দৃর্বৃত্তায়ন নিরসন করা যে সম্ভব নয় তা অভিজ্ঞতাই বলে দেয়। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষের হয়রানিরও শেষ হয় না। অর্থাৎ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং এর গলদ দূর অবশ্যই করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ