স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব নিয়েই কথা বলা উচিৎ

আপডেট: June 19, 2020, 11:57 pm

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের ১৮ জুন দেয়া বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনার ঝড় বইছে। সরকারও তার বক্তব্যে বেশ অস্বস্তির মধ্যে পড়েছে। এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিঙে তিনি স্পষ্টতই মহাপরিচালকের দেয়া বক্তব্যকে কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি এ ধরনের সমন্বয়হীন ও দাযয়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য থেকে নিজেদের বিরত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। শুধু মন্ত্রী নয়- স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া বিশেষজ্ঞ মহলেও হয়েছে। তাঁরাও এ বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলেই উল্লেখ করছেন। যদিও মহাপরিচালক শুক্রবার বলেছেন, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং অনেকে না জেনেই সমালোচনা করছেন। তিনি যা বলেছেন সেটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নয়, বিশ্ব প্রেক্ষাপটে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সে কথা বলেছেন।
বৃহস্পতিবার অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যমে মহাপরিচালকের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘এ ভাইরাস আগামী দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত থাকবে। তবে সংক্রমণের মাত্রা কমে আসবে।’Ñ তাঁর এই বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমে আসার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। যদিও অমন বক্তব্য এর আগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কেউ কেউ দিয়েছেন। তবে ওই সব কথার কোনো গ্রহণযোগ্য ভিত্তি ছিল না। করোনাভাইরাস নিয়ে শুরু থেকেই মনগড়া বক্তব্য ও গুজব ছড়ানো হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। এসব কিছু সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। এরফলে যেটা হয়েছে তা হলো মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ব্যাপক ছড়িয়ে পড়তে সহায়ক হয়েছে। যে টা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। এতে করে করেনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অনেক ক্ষেত্রে ধাক্কা খেয়েছে। একটি বিষয় সবার লক্ষ্য রাখা দরকার যে, তিনি যেটা মুক্ত পরিসরে বলছেন সেটা সাধারণ মানুষের কাছে কীভাবে পৌছাবে। কারণ বোঝার লেবেলটা সবার এক রকম হবে না- এটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে যারা দায়িত্বশীল- সরকারের উচ্চ পদে আছেন তাদের কথা বলার সময় অধিক সাবধানতা বজায় রাখাই শ্রেয়। দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে কোনো বক্তব্য আসলে সাধারণ মানুষ সেটাকে গ্রহণ করেন এবং সেভাবেই তার প্রতিক্রিয়াও প্রকাশ করে।
করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধটা শুধু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখারই বিষয় নয়Ñ এটি সামাজিক মমত্ব সৃষ্টিরও বিষয়। সামাজিক মমত্ব না তৈরি করতে পারলে ভীতি ও আতঙ্ক আরো বৃদ্ধি পাবে এবং সামাজিক অস্থিরতাও সৃষ্টি হতে পারে। জাতীয় দুর্যোগময় অতিস্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় অবশ্যই দায়িত্ববোধ ও সংযমের পরিচয় দিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ