স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের সংশয় দেশের মানুষের ভরসা কোথায়?

আপডেট: জুলাই ২৫, ২০২১, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে কিনা সে নিয়ে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম। শুক্রবার (২৩ জুলাই) দুপরে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই সংশয় প্রকাশ করেন।
তিনি সংশয়ের কারণটাও সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করেন। মন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী স্বাভাবিক সময়ে অক্সিজেনের চাহিদা ৭০ থেকে ৯০ টনের মতো থাকে, কিন্তু এখন তা ২০০ টনে চলে গেছে। তবে এখনও দেশে অক্সিজেনের জোগান আছে এবং ভারত থেকেও আমদানি হচ্ছে।
চলতি বছর ইদ- শিথিলতায় রাজধানী থেকে জনস্রোত যে ভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে গেছে এবং রাজধানীতে ফিরেছে সেটা যে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে বেশ সহায়ক হয়েছে বলেই বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। এই আশংকা মোটেই অমূলক নয় যে, ইদে ঘর ফেরত মানুষের খুব কম সংখ্যক লোকই সামাজিক সুরক্ষা মেনেছে। এমনকি অধিকাংশ লোক মাস্ক পরতেও অনীহা দেখিয়েছেন। এ ছাড়াও বিধি-নিষেধ শিথিল পরিস্থিতিতে হাট-বাজারগুলোতে যেভাবে মানুষের যথেচ্ছচার বিচরণ হয়েছে তাতে করোনা পরিস্থিতির বাড়-বাড়ন্তকেই সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
এ বছর দুই ইদ সামনে রেখে করেনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ইদুল ফিতরের দিন (১৪ মে) সারা দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৬ জন। ৬৮ দিনের মাথায় ইদুল আজহার দিনে (২১ জুলাই) দেশে করেনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ১৩৭ জনের। অর্থাৎ মৃত্যু ১১১ জন বেড়েছে। ইদুল ফিতরের দিন পর্যন্ত সারা দেশে মোট মৃত্যু ছিল ১২ হাজার ১০২ জন। এবং ইদুল আজহার দিন পর্যন্ত সারা দেশে করোনায় মৃত্যু ছিল ১৮ হাজার ৪৯৮ জনের। অর্থাৎ মাত্র ৬৮ দিনের ব্যবধানেই করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৩৯৬ জনের। পরিস্থিতি যে কত মারাত্মক এই তথ্য থেকেই উপলব্ধি করা যায়। ইদে যেভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপেক্ষিত হয়েছে তাতে এ ধরনের পরিণতি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। ইদযাত্রায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপেক্ষিত হওয়ার খেসারত দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটি এক করুণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাড়িতে বাড়িতে করোনায় মৃতদের দেহ সামাল দিতেই বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ইদুল ফিতরের পরিণতি জাতিকে ভোগাচ্ছে। ইদুল আজহার উপেক্ষা পরিস্থিতি কোথায় নিয়ে যায়- সেটা সত্যিই উদ্বেগ- অনিশ্চয়তার। এখন পর্যন্ত টিকাকরণে গতি সঞ্চার করা যায়নি। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংবাদ দিয়েছে যে ২১ কোটি টিকার বন্দোবস্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক যে সংশয় প্রকাশ করেছেন তা মোটেও অযৌক্তিক কিছু নয়। কিন্তু দেশের আমজনতার কী হবে। কে তাদের আশা দিবে, কে দিবে ভরসা?

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ