স্বাস্থ্য সুরক্ষার বালাই নেই পদক্ষেপটা এখনই নেয়ার সময়

আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০২২, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

নতুন করে করোনাভাইরাসের উর্দ্ধগতিতে সরকারের নানা প্রস্তুতি ও নির্দেশনার কথা সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব পেলেও মাঠ পর্যায়ে কোনো উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান হয়নি। তাই বলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেমে থাকেনি; বরং তা ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। যদিও করোনায় মৃত্যুর হারও বাড়তে শুরু করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র মতে, গত এক সপ্তাহে দেশে ১ লাখ ৩৪ হাজারেরও বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যা তার আগের সপ্তাহের তুলনায় আড়াই শতাংশ বেশি। এতে সাত দিনে ৬ হাজার ৩০০ জনের মতো নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩ হাজার ৩৭৬ জন বেশি। এক সপ্তাহে ১১৫ শতাংশ বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া এক সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের, যা তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। ইতোমধ্যেই করোনায় শনাক্তের হার প্রায় সাত শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে।
উল্লিখিত তথ্যই বলে দেয় যে, পরিস্থিতি ক্রমশই উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। অথচ মাঠ পর্যায়ে করোনা প্রতিরোধে উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে না। বর্তমান সময়ে ওমিক্রন গোটা ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে। হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যসেবার সব উপকরণের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ক্রমাগত চাপের মুখে অনেক দেশেই স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও ওমিক্রণের বাড়-বাড়ন্ত শুরু হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই। এ সময় মাস্ক পরা জরুরি; কিন্তু সংক্রমণ কমে যাওয়ার পর মানুষের মধ্যে মাস্ক পরায় অনীহা দেখা গেছে। দৃশ্যমান পরিসরে মাস্ক পরা লোকের সংখ্যা নেহাতই কম। সাধারণ্যে বিষয়টি মোটেও গুরুত্ব পাচ্ছে না। বা গুরুত্বারোপের মত কোনো প্রচার-প্রচারণাও নেই। এটা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যেতে কোনো ফাঁক তৈরি হচ্ছে কিনা- সেটা দ্রুত ভেবে দেখা দরকার। নিশ্চয় বাংলাদেশের পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে। সেই অভিজ্ঞতা বলে পদক্ষেপ নেয়ার সময় দ্রুত বয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশ ভারতেও একদিনে শনাক্ত ১ লাখ ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বাধিক। রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটিতে গত বছরের মে মাসের পর একদিনে এত বেশি সংখ্যক রোগী আর শনাক্ত হয়নি। ভারতে ডেল্টার সংক্রমণে যেভাবে হু হু করে রোগী বেড়েছিল, ওমিক্রনের বিস্তারের মধ্যে আবারও একই গতিতে সংক্রমণ বাড়ছে। ভারত থেকেই গত বছরের মাঝামাঝিতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সীমান্তবর্তী জেলা হয়ে প্রবেশের পর সেটা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। আর ওই সময়ে ডেল্টার তা-বে দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল, একদিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছিল। সে সময় সরকার কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউন দিতে বাধ্য হয়। থমকে যায় সবকিছু।
কিন্তু অভিজ্ঞতা বলে লকডাউনের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ- যেটা অনুপস্থিত মনে হচ্ছে। অথচ চলাচলে, হাট-বাজারে, গণপরিবহনে কিংবা সব ধরনের সমাবেশে বিধি-নিষেধ মান্য করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানতে, মাস্ক পরার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এই মুহূর্তে অতি জরুরি হয়ে উঠেছে। আর এ পদক্ষেপটা এখনই নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ