স্বীকৃতি না পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা মখলেছুর

আপডেট: ডিসেম্বর ৯, ২০১৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা  


  
মোহাম্মদ মখলেছুর রহমান ৬৩ বছর বয়সে সংসার জীবনে পরাজিত এক সৈনিক। পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনের শেষ মুহূর্তে এসে স্বীকৃতি না পাওয়া এক অসহায় মুক্তিযোদ্ধা। শেষ জীবনে হলেও তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি চান। মখলেছুর রহমান ৭ নম্বর সেক্টর কমান্ডার উসমান গনির নেতৃত্বে কুষ্টিয়া, যশোর, বেনাপোলসহ বিভিন্ন জায়গায় বীরত্বের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুষ্টিয়া উপজেলা সদরে রাহিনী গ্রামে ১৯৫০ সালে মৃত গোলাম রহমানের ছেলে মকলেছুর রহমান। ১৯৭২ সালে তিনি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী মোমিনপুর গ্রামে আসেন। সেখানে তিনি বিয়ে করেন। মেয়ের বাবা রিফিউজি হওয়ায় বাবা গোলাম রহমান তাকে আর মেনে নেয়নি। এরপর থেকে তিনি এই গ্রামেই বসবাস করেন। বর্তমানে যে বাড়িতে তিনি বসবাস করেন এই বাড়ি বসবাসের অনুপযোগী জরাজীর্ণ কুুঁড়েঘর। এই ঘরেই স্ত্রী নিয়ে বসবাস করেন মখলেসুর রহমান।
মকলেছুর রহমান বলেন, আমার বসয় যখন ১৭ বছর তখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। দেশ, মাটি আর মানুষের টানে সেইদিন ঘরে বসে না থেকে মা-বাবার নিষেধ থাকা সত্ত্বেও জোর করে বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়ি। এরপর ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কুষ্টিয়া, যশোর ও বেনাপোলসহ ওই এলাকার বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধ করি।
মখলেছুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, নিজের জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু আজ আমার মাথা গোঁজার জায়গা নেই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পেটের তাগিদে ৩০ বছর যাবত উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে আতর-সুরমা, টুপি বিক্রি করেছি। ঘরে দুটি সন্তানও জন্ম নিয়েছে। ছেলেদের বিয়ে দেয়ার পর আলাদা হয়ে গেছে। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী মিলে নিঃস্ব অবস্থায় জীবনযাপন করছি। স্ত্রীকে নিয়ে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে কোনোরকম বেঁচে আছি।
বর্তমানে মখলেছুর রহমান উপজেলার আড়ানী বাজারের মূল গলিতে একটি টেবিলের উপর রাখা আতর-সুরমা-টুপি ফুটপাতে বসে বিক্রি করছেন। পাশাপাশি রং মিস্ত্রির কাজও তিনি করেন। ওই দোকান থেকে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ টাকা আয় হয়। এই আয়ের টাকা দিয়ে কোনোরকম দিন পার করছে। এছাছা তার স্ত্রী জীবন নেছা অসুস্থ। তার জন্য প্রতিদিন ৪৮ টাকার ওষুধ লাগে। বর্তমানে তিনি সরকারি বরাদ্দের কোন ভাতাও পান না বলে জানান। তার দাবি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে সরকারি বরাদ্দের টাকা প্রতি মাসে পেলে অন্তত এই টাকা দিয়ে ভালোভাবে জীবন যাবন করতে পারতাম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ