স্মৃতিতে মাইনুল

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

সস্ত্রীক মাইনুল আহসান

নাসরিন সুলতানা বিলু:


৩ সেপ্টেম্বর। আমার কষ্টের দিন। আমার প্রিয়জন মাইনুল আহসানের না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার দিন। শুধু আমার নয়, পরিবার-পরিজন ঘনিষ্টজন তার সহকর্মিদেরও কষ্টের দিন। সহজ সরল বন্ধুপ্রিয় পরোপকারী সাধারণ মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখা মাইনুল হাসানের মধ্যে ছিলো বহুগুণ। সে ছিলো সাহিত্য সংস্কৃতির অনুরাগী। কঠিন অসুস্থতার মধ্যেও দেখেছি তার সাহসিকতা। সুন্দর স্ন্দুর কথা বলতো। গান গাইতো। অন্যের খোঁজখবর নিতো। কখনো ভেঙ্গে পঢ়তে দেখিনি। মন ভালো করে দেবার মতো কোনো কিছুই আর তার কাছ থেকে শুনতে পাব না, শুধু আমি না কেউই পাবে না। ছোট বেলা থেকেই সে ছিলো পরোপকারী। তার কাছ থেকে শোনা স্কুল জীবনে সাধারণ মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখতে দেখতে তার আন্দোলনে যুক্ত হয়ে যাওয়া। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাকে ধরার জন্য পাকিস্তানি সৈন্যদের দোসররা তাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাড়ি ঘেরাও করে রাখে। বিষয়টি বুঝতে পেরে সেখান থেকে সরে গিয়ে রক্ষা পায়।
রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে পড়া শেষে সিটি কলেজে পড়ার সময় এ কলেজটি সরকারি করার জন্য দাবি তুলে সরকারের দৃষ্টি আর্কষণ করে। রাজনৈতিক জীবনে সে ছিলো অনেকের দীক্ষাগুরু। শিক্ষা জীবন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দিয়ে সুনামের সঙ্গে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সর্বশেষ রাজশাহীতে দায়িত্ব পালন করে। হাসি-খুশি মরহুম মাইনুল আহসানের ছিল প্রখর ধর্মীয় জ্ঞান। পাশাপাশি রাজনৈতিক ও দার্শনিক চিন্তা ভাবনার মাইনুল আহসান তার সহকর্মীদের কাছে ছিলো সৎ ও প্রিয়জন। তার সহযোগিতা ও প্রচেষ্টায় গ্রিন প্লাজা রিয়েল এস্টেট কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। সে এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা। সবই এখন স্মৃতি। গত বছর ৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুম্মার ওয়াক্তে চিকিৎসাধীন থাকার সময় সে না ফেরার দেশে চলে গেলে সেদিন রাতে তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাঠান পাড়া কবরস্থানে মায়ের পাশে দাফন করা হয়।
একসময় যাঁরা তাঁকে গুরু গুরু বলে তার পাশ ছাড়তো না তাদের সাথে অনেকদিন দেখা হয়না। এটাই বুঝি জীবনের বাস্তবতা। থাক না হয় সে কথা। তবে তাকে সুস্থ করতে ঝুঁকির মধ্যে ডাক্তার নার্স ও অন্যান্য যাঁরা দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের কথা সব সময় মনে পড়ে। বিশেষ করে শহিদ জামিল ব্রিগেডের স্বেচ্ছাসেবিদের ভূমিকার কথা ভুলবার নয়।
(নাসরিন সুলতানা বিলু ব্যাংকার মরহুম মাইনুল আহসানের সহধর্মিণী)