স্মৃতির পাতায় মহান জাতীয় নেতা শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান

আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০১৯, ১২:২৭ অপরাহ্ণ

ড. মোহাম্মাদ আজিবার রহমান


ঢাকার পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারের এই কক্ষেই শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান সহ জাতীয় চারনেতাকে নির্বিচার গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। শহিদ কামারুজ্জামানের জ্যেষ্ঠ পুত্র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন কারাকক্ষের ফটকের সামনে বসে বিনীত-শোকাহত, পিতার স্পর্শ খুঁজছেন?

আজ ৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। আমাদের জাতীয় জীবনে এক শোকাবহ দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বেদনাদায়ক নির্মম স্মৃতি মাথায় নিয়ে জাতি যখন দিশেহারা ঠিক তখনই ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় চারনেতা, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলীকে নির্মম ও নৃশংসবাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। খুনিরা জাতির ললাটে এঁকে দেয় আরো এক কলঙ্ক তিলক। বাংলাদেশের জন্মের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিলেন জাতীয় এই চারনেতা। জেলখানায় জাতীয় চারনেতার হত্যাকাণ্ড ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণিত, কাপুরুষোচিত এবং কলঙ্কজনক ঘটনা। বাংলার মীরজাফর জাতীয় বেঈমান খন্দকার মোস্তাক গংদের এই হত্যাকাণ্ড সমগ্র জাতিকে লজ্জিত ও কলংকিত করে। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর মানবতাবাদী নেতা উইলি ব্রান্ট বলেছিলেন, ‘এই নির্মম মৃত্যই যদি মুজিবের প্রাপ্য ছিল তাহলে বাংলাদেশের জন্মের কোনো প্রয়োজন ছিল না’। তাঁর এই মন্তব্য জাতীয় চারনেতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ঘাতকচক্র নিশ্চিত ছিল বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা এই জাতীয় চারনেতা জীবিত থাকলে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে বেশিদিন প্রয়োজন হবে না; ভয় ছিল এঁরা বেঁচে থাকলে বঙ্গবন্ধুর খুনের বদলা নিতে পারেন। তাইত ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারির মাধ্যমে খুনিদের বিচার চিরতরে বন্ধ করতে চেয়েছিল। মুছে ফেলতে অপপ্রয়াস চালিয়েছিল বাঙালির বীরত্ব গাথার ইতিহাসও। কিন্তু ইতিহাস তাদের ক্ষমা করেনি। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, লাল সবুজের জাতীয় পতাকা থাকবে, বাংলাদেশের মানুষ থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চারনেতা বেঁচে থাকবেন কোটি কোটি বাঙালির হৃদয়ের গভীরে।
‘৭৫ এর ৫ নভেম্বর বুধবার জোহরের নামাজের পর বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে জাতীয় চারনেতার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ৬ নভেম্বর শহিদ কামারুজ্জামানের লাশ রাজশাহীতে এনে কাদিরগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর সহধর্মিণী জাহানারা কামারুজ্জামান লাইলী উল্লেখ করেছেন, ‘হেলিকপ্টারে চুমকি (ছোট মেয়ে) ও রিয়াকে (মেজো মেয়ে) নিয়ে রাজশাহী এলাম লাশ নিয়ে, ৬ তারিখ। কাদিরগঞ্জের বাড়িতে। চারিদিকে আর্মি পাহারা। যাদের সাহস ছিল জোর করে এসেছে। দেখছে। অনেক লোক আসতে পারেনি দেখতে। ভয়ে জানাজা পড়তে পারেনি। আমার শ্বশুর লাশ দেখেননি। বলেছেন ওর আগের চেহারা আমার মনে থাক।…কফিনে রাখা মুখটা খুলতেই চমকে উঠলাম। কালো, কেমন যেন সবুজ হয়ে গেছে চেহারা। মুখটা বেশ ফুলে গেছে। ডান কপালে গুলির ফুটো। মাথার পিছনে কি অবস্থা দেখিনি। পায়ের হাঁটু কোনরকম ঝুলে আছে। সেখানেও গুলিতে ঝাঁঝরা। তাই কালো কম্বল ভাঁজ করে বুকে জড়ানো। ভাবলাম, আহা, লোকটাতো খুব নরম ছিল। ওর জন্য একটা গুলিই তো যথেষ্ট ছিল। আর্মি পাহারায় লাশ দাফন হলো কাদিরগঞ্জ পারিবারিক গোরস্থানে। এখনও সেই স্মৃতি আমাকে দগ্ধ করে। কাউকে বলতে পারি না, নিজেই কষ্ট পাই। দুঃখ একটাই গায়ে একটু পানিও ঢালা হলো না। একটু পানি দিলে শান্তি পেতাম। কফিন সহ কবর দেয়া হলো।’ উল্লেখ্য যে, এই মহীয়সী নারী ২০১৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। কাদিরগঞ্জের পারিবারিক গোরস্থানে স্বামীর কবরের পাশেই (পশ্চিম পাশে) তাঁকে দাফন করা হয়। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান জাতীয় চারনেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘বাঙালি জাতির ইতিহাসে জাতীয় চারনেতার অবদান চির ভাস্মর হয়ে থাকবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনেকে বন্ধু ছিলেন। কিন্তু খুব কাছের সাথী শহিদ কামারুজ্জামানসহ জাতীয় চারনেতা। দেশের জন্য তাঁরা যা করে গেছেন, সারাজীবন তা মানুষ মরে রাখবেন।’
বাংলাদেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচএম কামারুজ্জামানের পুত্র রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র অ্যাডভোকেট এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন উল্লেখ করেছেন, ‘বাবার মৃত্যুর সময় আমি ইলেভেন ক্লাসের ছাত্র ছিলাম। ছোট ভাই স্বপন ছিল ক্লাস নাইনে। তখন আমরা দু’ভাই ভারতের কলকাতার অদূরে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র ছিলাম। বাবার মৃত্যুর খরব পাই ৫ নভেম্বর সকালে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান, বড় মহারাজের কাছে।…পরদিন সকালে স্বামীজী আগের দিনের (৪ নভেম্বর) আনন্দবাজার, যুগান্তর এবং অমৃতবাজার পত্রিকা হাতে নিয়ে এসে অনেক্ষণ আমাদের দু’ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বলতে থাকলেন, পৃথিবীতে কেউ চিরদিন বেঁচে থাকেন না। কেউ আগে চলে যান, আর কেউ পরে। কেন তিনি এসব কথা বলছিলেন আমরা তাৎক্ষণিক তা বুঝতে পারিনি। বাবার মৃত্যুর খরব পেয়ে আমরা যাতে ভেঙ্গে না পড়ি, সম্ভবত এজন্য তিনি কথাগুলো বলছিলেন। এরপর তিনি পত্রিকাগুলো আমাদের সামনে রেখে ঘরের বাইরে চলে গেলেন। পত্রিকায় প্রথম পাতায় বাবাসহ চার নেতাকে জেলখানায় হত্যার খবর ছবিসহ ফলাও করে ছাপা হয়েছিল। পত্রিকা দেখে আমরা পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ডের খবর বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ছোট ভাই স্বপন অঝোরে কাঁদতে শুরু করল। আমি কিছুতেই নিজেকে সামাল দিতে পারলাম না। কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম।’ আনন্দবাজার-এর শিরোনাম ছিল ‘ওদেরকে কাঁদতে দিন’। দুই ভাই শুধুই কাঁদলেন। কারও সঙ্গে কথা বলতে পারলেন না। এ সময় মায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁরা ব্যাকুল ছিলেন। কিন্তু অনিশ্চয়তার কারণে মা চাননি ছেলেরা দেশে ফিরে আসুক। মা তাঁদের চিঠি লিখলেন, ‘তাঁদের বড় হতে হবে, মানুষ হতে হবে। বাবার মতো যোগ্য হতে হবে। এ জন্য নিজের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।’ এ ঘটনার দুই বছর পর মা জাহানারা জামান দুই ছেলের সঙ্গে দেখা করতে ভারতে যান। ‘৭৫ এর ৩ নভেম্বরের মর্মান্তিক ঘটনার দুই বছর আগে তাঁদের দু’ভাইকে ভারতের নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াশোনার জন্য পাঠানো হয়েছিল। তখন খায়রুজ্জামান লিটন সপ্তম শ্রেণিতে আর এহসানুজ্জামান স্বপন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তেন। বয়সে তাঁরা দেড় বছরের ছোট-বড়। মা-বাবার চাওয়া ছিল ছোট থেকেই তাঁরা মন্ত্রীর ছেলে নয়, সাধারণ মানুষের মতো বেড়ে উঠুক। মিশনের আর পাঁচটা সাধারণ ঘরের ছেলের মতো তাঁদের দুই ভাইকে সব কাজ করতে হয়েছে। কষ্ট করে থাকতে হয়েছে।
খায়রুজ্জামান লিটন উল্লেখ করেন, ‘বাবা বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁকে আর জেল থেকে বের হতে দেয়া হবে না। জেলে খাবার দিতে গেলে বাবা মাকে বলেছিল, আমি মনে হয় আর জীবিত জেল থেকে বের হতে পারবো না। যেদিন বাবাকে জেলের মধ্যে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, সেদিনও মা খাবার নিয়ে জেলগেটে যান। তখন প্রহরীরা বলেছিল, ‘আজ আর খাবার লাগবে না’। সে সময় মা বুঝতে পেরেছিলেন বাবা ও অন্য জাতীয় তিন নেতা আর নেই। বাবাকে হারানোর পর আমাদের মাথার ওপর থেকে যেন ছাতা চলে গেল। মা অনেক কষ্ট করে আমাদের ছয় ভাই-বোনকে বড় করেছেন। ‘১৯৮০ সালে আমি ভারত থেকে দেশে আসি। বাড়িতে আসার পর কৌতুহলবসত বাবার কাগজপত্র খুঁজছিলাম। খুঁজতে খুঁজতে মাত্র দুইটি ব্যাংকের চেক বই পেলাম। চেক বইয়ে মাত্র কয়েকটি করে পাতা আছে। ব্যাংক দুইটির শাখাতে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখলাম, দুইটি ব্যাংকে মোট ৭ হাজার ২৫০ টাকা আছে। শহিদ কামারুজ্জামান তাঁর পরিবারের জন্য রেখে গেছেন ৭ হাজার ২৫০ টাকা। তিনি সে সময় সাতশ কোটি টাকাও রেখে যেতে পারতেন। কিন্তু তা করেননি। এটি শুধু আমাদের পরিবারের না, জাতীয় চার নেতার প্রত্যেক পরিবারের এমন অবস্থা।’
বাংলাদেশের প্রথম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (প্রয়াত) উল্লেখ করেছেন, ‘৩ নভেম্বর পৌনে সাতটার দিকে ঘুম থেকে উঠে (লন্ডনে) ব্রাশ করতে করতে বিবিসির স্থানীয় খরব দিলাম। হঠাৎ খরবের এক পর্যায়ে বাংলাদেশের জেল কিলিং শিরোনামে কিছু যেন বলা হচ্ছে। চ্যানেলটি পরিষ্কার না থাকায় ঠিক বুঝতে পারলাম না। গা ঘামতে শুরু করল। কেননা বাংলাদেশের কারাগারে তখন বাবাসহ জাতীয় চার নেতা বন্দি। ১৫ আগস্টের মত আবারও কিছু ঘটল নাকি? দ্রুত অন্য চ্যানেল ঘুরিয়ে ব্রেকিং নিউজের শিরোনাম শুনে নিশ্চিত হলামÑআমাদের সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করতে জেল অভ্যন্তরে ঢুকে দেশমাতৃকার চার শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতীয় চারনেতাকেও হত্যা করেছে পরাজিত ঘাতক চক্র। পিতৃ হারানোর শোকে মুহ্যমান হলেও আমাদের এতটুকুই সান্ত¦নাÑজাতীয় চার নেতা হাসতে হাসতে জীবন দিয়ে গেছেন, কিন্তু দেশ, জাতি ও জাতির জনকের সাথে বেঈমানী করেননি।’ মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর পুত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘জেলখানার অভ্যন্তরে স্বাধীনতা সংগ্রামের চার মহান নেতা, যাঁরা জাতির জনকের আজীবন সহচর ছিলেন, যাঁরা বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্ব দিয়ে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করেছিলেনÑতাঁদেরকে এভাবে বন্দি অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যা করা হবেÑআমরা কেন, দেশের কোনো মানুষ ভাবতেও পারেননি। পিতাসহ জাতীয় চারনেতার মৃত্যু সংবাদে আমরা শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিলাম।’ বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের কন্যা সিমিন হোসেন রিমি বলেন, ‘আমার কাছে আব্বু ছিলেন স্বপ্নের রাজপুত্র। আকাশের তারার মাঝে তাঁকে আমি খুঁজতাম। আমার মনে হতে লাগল আকাশের জ্বলজ্বলে তারার কোনো একটির রূপ ধারণ করে আর্শীবাদের দুই হাত বাড়িয়ে তিনি তাকিয়ে আছেন বাংলাদেশের দিকে। মনে হতে লাগল যেন তারা ভরা আকাশের জ্বলজ্বলে তারাটি আরো শক্তিশালী দ্যুতি হয়ে ফিরে আসবে এই মাটিতে। ফিরে তিনি আসবেনই। তাঁর রেখে যাওয়া কর্মের মধ্য দিয়েই তিনি ফিরে আসেবন, বারবার।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘রাজশাহীর সাথে অনেক স্মৃতি জড়িত আছে। রাজশাহীর সাথে আমার অনেক ইতিহাস জড়িত। এখানে জাতীয় নেতা শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার সাথে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। তিনি মেঘালয়ে আমার সঙ্গে ৫-৬ দিন ছিলেন। আমার অনেক কিছু মনে পড়ে। মেঘালয়ে আমরা যখন যুদ্ধের বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শন করছিলাম তখন প্রায়ই আমাদের বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হতো। একটি ছোট কক্ষে সিঙ্গেল বেড়ে দু’জনকে আড়াআড়ি করে থাকতে হতো। আমি কিছুটা চিকন ছিলাম, হেনা ভাই মোটাসোটা ছিলেন। আমরা ঘুমালেই ২-৩ মিনিট পর হেনা ভাই এমন নাক ডাকা শুরু করতেন তখন আর ঘুমের কাছে যাওয়া সম্ভব হতো না। তিনি ঘুমে নড়াচড়া করলে প্রায় বিছানা থেকে ফ্লোরে পড়ে যেতাম। কামারুজ্জমানের স্নেহধন্য জনাব খৈয়াম কোরায়শী উল্লেখ করেছেন, ‘সংবর্ধনা সভায় হেনা ভায়ের একজন সাহসী জননায়ক সূলভ বুদ্ধিদীপ্ত বক্তব্য আজও কানের কাছে বাজে। এই কদিনে রাজশাহীর পদ্মা রঙ্গমঞ্চে সুধি সমাবেশে তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন সৌভাগ্যক্রমে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম একজন গূনমুগ্ধ শ্রোতা হিসেবে। সে মুহূর্তেও বক্তৃতা শূনে বাংলাদেশের প্রখ্যাত পণ্ডিত এবং গবেষক শ্রদ্ধাভাজন ড. মযহারুল ইসলাম বলেছিলেন ‘এতো বক্তৃতা নয় যেন এক খণ্ড হৃদয়গ্রাহী গদ্য কবিতা’। তিনি প্রায়ই বলতেন, ‘আমি শুধু রাজশাহীর মন্ত্রী নই, সারা বাংলাদেশের মন্ত্রী’। বহুমুখি প্রতিভার অধিকারী ছিলেন এএইচএম কামারুজ্জামান। তিনি সমানভাবে লিখতে, পড়তে ও বলতে পারতেন।
শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য খান সারওয়ার মুরশিদ লিখেছেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে মন্ত্রী হিসেবে কামারুজ্জামান তাঁর শহর রাজশাহীতে যেতেন এবং কখনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও যেতেন। মনে আছে একবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আবাসিক হলে ছাত্ররা তাঁকে সংবর্ধনা দিয়েছিল। উপাচার্য হিসেবে আমি উপস্থিত ছিলাম। ছাত্ররা তাঁকে পুষ্পমাল্য ভূষিত করে একের পর এক যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত ছাত্রাবাস এবং তাদের অভাব অভিযোগ সম্পর্কিত নানা দাবির এক বিরাট পাহাড় তাঁকে উপহার দিল। মন্ত্রীপ্রবর উত্তরে খুব মার্জিত এবং সহানুভূতিপূর্ণ বক্তৃতা করলেন এবং উপসংহারে আমার দিকে একটি চিত্তহারী হাসি ছুঁড়ে দিয়ে বললেনÑএমন দক্ষ উপাচার্য যেখানে আছেন সেখানে ছাত্রদের বর্ণিত সমস্যাবলী বেশি দিন থাকতে পারে না। আমার কথা বলার পালা এলে তাঁর সুচতুর প্রশংসার ঋণ আমি সে যাত্রা শোধ করেছিলাম এই বলে যে, হ্যাঁ অবশ্যই, উপাচার্য ছাত্রদের সব সমস্যাই বিদ্যুৎগতিতে সমাধান করতে পারবেন যদি বাংলাদেশ সরকারের সদাশয় মাননীয় এবং পরম শক্তিধর মন্ত্রী তাঁর সহায় হন। পরে চা পানের সময় আমরা আমাদের কূটনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গটি নিয়ে বেশ হেসেছিলাম’। প্রবীণ আওয়ামীগ নেতা সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তাঁরা বারবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তঝরা দিনগুলোতে নিজেদের জীবন তুচ্ছ-জ্ঞান করে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে স্বাধীনতা সংগ্রামে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতীয় চার নেতা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আদর্শকে মুছে ফেলতে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা মানে একজন ব্যক্তি মানুষকে হত্যা করা নয়। আদর্শকে হত্যা করার জন্যেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যাতে কেউ এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারে সেজন্য জাতীয় চার নেতাকে কারাগারের নিরাপদ জায়গায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।’ মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম লিখেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন ইতিহাসের কালজয়ী মহাপুরুষ। এই বঙ্গভূমির ইতিহাসে তাঁর মত নেতার আবির্ভাব আর হয়নিÑকখনও হবে কিনা তাও জানি না। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল সূর্যের মত উজ্জ্বল। যাঁরাই তাঁর সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁরা প্রভাবিত না হয়ে পারেন নি। এই সূর্যের চারিদিকে ছিলেন চার গ্রহ, চারজন অনন্য সাধারণ নেতাÑতাজউদ্দিন আহ্মদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম মনসুর আলী ও কামারুজ্জামান। আমার জীবনে পরম সৌভাগ্য যে আমি বঙ্গবন্ধু ও এই চার নেতার ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য পেয়েছি এবং স্নেহধন্য হয়েছি। আমি অত্যন্ত কঠিন সময়ে চরম দুর্যোগের মধ্যেও তাঁদের সাথে কাজ করেছি। দেখেছি চরম বিপদের সম্মুখেও অবিচলতা এবং ধৈর্য। কখনও কারও সাথে কটু কথা বলেন নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘর-বাড়ি ছাড়া নানা কষ্টের আমাদের নেতারা কত টেনশনে থাকতেন। কত ছোটখাট বিষয়েও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীদের কাছে যেতেন। তাদের অভাব-অভিযোগের শেষ ছিল না। কেউ কেউ অবমাননাকর বক্তব্যও রাখতেন। কিন্তু আমাদের এই চার নেতার ছিল সীমাহীন ধৈর্য’। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু এবং এই চার নেতার কথা মনে পড়লে মারাত্মক একটা শূন্যতা অনুভব করি। মাত্র কয়েকটি ব্যক্তি ক্ষমতার মোহে, নিজেদের লোভ-লালসা চরিতার্থ করার জন্য সমগ্র দেশের এত বড় ক্ষতি করতে পারে ভাবাই যায় না। বঙ্গবন্ধুর পর চার নেতা বেঁচে থাকলে শক্ত হাতে হাল ধরতে পারতেন-জাতি এ রকম নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ত না। পাকিস্তানের দোসররা আর প্রতিহিংসাপরায়ণ বিকৃত-মস্তিষ্ক কয়েক ব্যক্তি জেনেশুনে সুপরিকল্পিতভাবে নেতাদের হত্যা করেছে।’
জিয়াউদ্দীন চৌধুরী (শিল্পমন্ত্রী কামারুজ্জামান এর একান্ত সচিব) উল্লেখ করেছেন, ‘১৫ আগস্টের এই ভয়াবহ পরিবর্তনের সময় আমি ছিলাম শিল্পমন্ত্রী কামারুজ্জামান সাহেবের একান্ত সচিব। ঘটনার এক মাস আগে আমি তাঁর সঙ্গে ট্রেনে চট্টগ্রামে সরকারি সফরে গিয়েছিলাম।…দুই দিনের সফর শেষে আমরা ঢাকা ফেরার জন্য রাতের ট্রেনে রওয়ানা হলাম। মন্ত্রী উঠলেন তাঁর সেলুনে, আমি আমার কামরায়। ট্রেন সীতাকুণ্ড স্টেশনে পৌঁছালে মন্ত্রীর খাস বেয়ারা আমার কামরায় এসে বলল, মন্ত্রী সাহেব তাঁর সেলুনে আমাকে ডেকেছেন। তখন রাত প্রায় ১০টা। এত রাতে কোনো জরুরি দরকার ভেবে আমি তাড়াতাড়ি তাঁর সেলুনে গেলাম। তখনকার দিনে রেলওয়ের সেলুন ছিল বড় একটি কম্পার্টমেন্ট, যাতে একটি শোয়ার কামরা, বসার জায়গা ও পাশে খাবার আলাদা জায়গা। ঠিক সঙ্গে ছিল একটি ছোট রান্নার জায়গা। আমি গিয়ে দেখলাম মন্ত্রী সাহেব তাঁর চিরাচরিত রাতের পোশাক, অর্থাৎ সাদা পাঞ্জাবি আর সাদা লুঙ্গি পরে সোফায় বসে আছেন। আমাকে বসতে বললেন। তাঁর হাতব্যাগ থেকে বের করলেন বেশ কিছু কাগজ। আমার হাতে দিলে দেখলাম, নানা মানুষের আরজি। মন্ত্রী যখন দলীয় অফিসে গিয়েছিলেন, তখন লোকজন এসব তাঁর হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন। মন্ত্রী স্বভাবসুলভ হেসে বললেন, ‘বোঝো তো, দলের লোকের আবদার, তুমি অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিয়ো।’ আমি ভাবলাম, কাগজগুলো তিনি আমাকে ঢাকা গিয়েও দিতে পারতেন। কাগজ দেওয়ার জন্যই আমাকে ডাকা নয়। বুঝলাম একটু পরে যখন আমি উঠে যাচ্ছিলাম এর পরের স্টেশনে। কামারুজ্জামান সাহেব আমাকে বললেন আরও একটু বসতে। আমি বসে রইলাম। একটু পরে খাবার এলে তিনি বললেন তাঁর সঙ্গে খাবার খেতে। আমি যদিও আগেই খেয়েছিলাম, তবু তাঁর সঙ্গে আবার খেতে বসলাম। দেখলাম, কামারুজ্জামান সাহেব বেশ চিন্তিত। তাঁকে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই চিন্তিত মনে হলো। কথায় কথায় বললেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের কথা, তাঁদের কষ্টের কথা, আশা-আকাক্সক্ষার কথা। আমি বুঝতে পারলাম না তিনি কী বোঝাতে চাইছেন। আমি জানি তিনি নতুন গঠিত বাকশালের নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং বঙ্গবন্ধুর খুব কাছের লোক। তাঁরা একজন অন্যজনকে তুমি বলে ডাকতেন। তাই কামারুজ্জামানকে এ রকম হতাশভাবে কথা বলতে দেখে আমার বিস্ময় বোধ হলো। বঙ্গবন্ধুর চারপাশের মোসাহেবদের ব্যাপারে তিনি চিন্তিত ছিলেন।…১৫ আগস্টের ঘটনার পর মন্ত্রী কামারুজ্জামানের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল তিন দিন; তাঁর সেই আত্মীয়ের বাড়িতে। তিনি ঢাকা ছেড়ে কোথাও যেতে রাজি হননি; বরং তাঁর সরকারি বাড়িতেই ফিরে গিয়েছিলেন একরকম সরকারি প্রতিশ্রুতি পেয়ে যে, সেই বাড়ি নিরাপদ। কিন্তু সেই ‘নিরাপদ’ বাড়িতে তিনি ফিরে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে কেউ দেখা করতে পারতেন না। এমনকি আমিও পারিনি। প্রায় এক সপ্তাহ তিনি ওই বাড়িতে একরকম গৃহবন্দী ছিলেন। তারপর মোশতাক সরকার তাঁকে কারাগারে নিয়ে যায়। একইভাবে কারারুদ্ধ করে তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম আর মনসুর আলীকে। আগস্টের শেষে আমি জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়ে নোয়াখালী চলে যাই। কামারুজ্জামান সাহেবের ট্রেনের কথাগুলো আমার কাছে ভবিষ্যদ্বাণীর মতো লেগেছিল। আমার চোখে দেখা সেসব ঘটনা আমাকে শুধু মনে করিয়ে দিত মরহুম কামারুজ্জামান সাহেবের সেই কথা: ‘তুমি দেখে নিয়ো, ‘এই মোসাহেবরা বিপদে তাঁর (বঙ্গবন্ধুর) সঙ্গে থাকবে না’।
পরিশেষে বলতে চাই, বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক জীবনে অনেক বিপর্যয় এসেছে, সবচেয়ে বড় বিপর্যয় এসেছে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর। তখনও কামারুজ্জামান নীতি এবং আদর্শের সাথে কোনো প্রকার আপোষ করেননি। কোনো হুমকি বা লোভের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি। জাতীয় এই নেতা বাংলাদেশকে, দেশের মাটি ও মানুষকে তাঁর জীবনের চেয়ে বেশি ভালবাসতেন, যা নিজের জীবন দিয়ে তিনি প্রমাণ করে গেছেন। লোভ-লালসা, ভয়-ভীতি কোনো কিছুই তাঁকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। আদর্শের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে পারে- এমন মানুষ পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার জন্মগ্রহণ করবে কি-না সন্দেহ। খুনী মোস্তাকের লোভনীয় প্রস্তাবে সাড়া দিলে এই মহান নেতাকে হয়তো অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হারাতে হতো না ছোট ছোট ছেলেমেয়েদেরকে তাদের প্রাণপ্রিয় বাবাকে। কিন্তু তিনি জাতির পিতার পবিত্র রক্তের সাথে বেঈমানী করেননি। বেঈমানী করেননি ৩০ লক্ষ শহিদের রক্তের সাথে। আজকের দিনে এমন মহৎ, সৎ, আদর্শবান মানুষ পাওয়া বড়ই কঠিন। তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সকলকে এগিয়ে আসা উচিত। জ্যেষ্ঠপুত্র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। তিনিও পিতার ন্যায় উন্নত রাজশাহীর স্বপ্ন দেখেন। রাজশাহীবাসীর সুখ-শান্তির কথা ভাবেন। তিনি রাজশাহী মহানগরীকে একটি তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাঁর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। ইতোমধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ‘কামারুজ্জামান-জাহানার জামান’ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ২ জুলাই, ২০১৯ মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান-এর হাতে ২৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেন সিটি মেয়র অ্যাডভোকেট খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি বলেন, ‘আজকে গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের যে ফান্ড করা হলো সেই ফান্ডের সম্পূর্ণ আমার মায়ের জমানো টাকা। বাবা দেশের জন্য যা করে গেছেন, মানুষ সারাজীবন মনে রাখবেন। আর এই বৃত্তি চালুর মাধ্যমে শহিদ কামারুজ্জামনের সহধর্মিণী জাহানারা জামান সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমার মা জাহানারা জামান সমসময় উচ্চশিক্ষাকে উৎসাহিত করেছেন। তার জীবনের সঞ্চয় থেকেই এই বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। আগামীতে বৃত্তি হিসেবে আরো বেশি অর্থ প্রদান এবং বৃত্তি প্রদানের পরিধি বাড়ানো হবে। যাতে বৃত্তি পাওয়ার মাধ্যমে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতে পারে’। অনুষ্ঠানে উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর অনেকে বন্ধু ছিলেন। কিন্তু খুব কাছের সাথী ছিলেন শহিদ কামারুজ্জামানসহ জাতীয় চারনেতা। দেশের জন্য তারা যা করে গেছেন, সারাজীবন তা মানুষ মনে রাখবেন’। কামারুজ্জামান ও জাহনারা জামানের পুত্রবধু মেয়র পত্নী শাহীন আক্তার রেণী বলেন, ‘আমি শুধু আমি নয়, আমাকে মানুষের জন্যে, দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করে যেতে হবে। প্রত্যেকেই এমনভাবে ভাবতে হবে। এমন কিছু করে যেতে হবে যাতে মানুষ মনে রাখে। মনে রাখার মতো অসংখ্য কাজ করে গেছেন শহিদ কামারুজ্জামান ও জাহানারা জামান। এই মহান নেতার নামে রাবিতে ১০তলা বিশিষ্ট আবাসিক হল নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে ‘উত্তরের মানুষ ধ্রুবতারা’ ডকুমেন্টরি ফিল্ম নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনা স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদ’। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর জীবন ও কর্মের ওপর গবেষণাধর্মী গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এগুলোই যথেষ্ট নয়। আরো নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সবশেষে আজকের এই চরম শোকাবহ দিনে আমরা শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। মহান আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং প্রক্টর, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী।