স্যানিটেশন মাসের উদ্বোধনকালে বিভাগীয় কমিশনার অক্টোবর ২০১৭ এর মধ্যেই রাজশাহী বিভাগে শতভাগ স্যানিটেশন

আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০১৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল হান্নান বলেছেন, অক্টোবর ২০১৭ এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগকে শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে তিনি উচ্চ পর্যায়ের একটি গঠন করার কথা বলেন। বিভাগীয় সমন্বয় সভায় কমিটি গঠন এবং শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে কৌশল নির্ধারণ করা হবে।
তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাফর ইমাম টেনিস কমপ্লেক্সে জাতীয় স্যানিটেশন মাস অক্টোবর ২০১৬ ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ২০১৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবং উপজেলা পরিষদ পবার উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
প্রধান অতিথি বলেন, স্যানিটেশন ব্যাপারে দেশের মানুষ মোটামুটি সচেতন। আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে অভ্যাস তৈরি করতে পারলে আমাদের অর্জনটাও দ্রুত হবে। এ ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি ও সহায়তার উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন উপকরণ আছে কিন্তু তার ব্যবহার হয় না, এটা অর্জনকে ম্লান করে দেয়। ল্যাট্রিন থাকলেই হয় না- এর যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। আমাদের সম্মিলিত প্রতিজ্ঞা ও দায়বোধের অবস্থান থেকেই কাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য উপলব্ধি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই আমরা ২০১৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে রাজশাহী বিভাগে শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে সক্ষম হব। আমরা সকলেই এই সাফল্যে অংশিদার হতে চাইÑ কেননা এটি এ অঞ্চলের মানুষের মান-মর্যাদার সাথে সম্পৃক্ত।
প্রকৌশল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রাজশাহীর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধির কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজাহার আলী, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দীন, জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন, পুলিশ সুপার মো. আব্দুস সালাম ও ইউনিসেফ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ওয়াশ অফিসার মো. মঈনুল ইসলাম। সভা সূচনায় ‘স্যানিটেশন : বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’ বিষয়ক কি-নোট উপস্থাপন করেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মসদ গোলাম রব্বানী। ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পবা মো. আব্দুস সালাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনাব আজাহার আলী বলেন, উন্নত স্যানিটেশনের ব্যাপারে আমাদের সচেতনতার অগ্রগতি উচ্চমার্গে কিন্তু প্রয়োগের ক্ষেত্রে গিয়ে অনেকেই তা মানেন না। এসব মানুষের এটি একটি আচরণগত সমস্যা। মানার অভ্যাসটা সম্মিলিতভাবে কীভাবে অর্জন করা যায় সে ব্যাপারে আমাদের কর্মসূচি নিতে হবে। এই মানতে এবং মানাতে পারার মধ্যে স্যানিটেশনে শতভাগ সাফল্য নির্ভর করে। আমরা বিশৃঙ্খলতাকে যত শিগগিরই ঘৃণা করতে শিখবো, ততই আমরা উন্নত জাতিতে পরিণত হব।
ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, স্যানিটেশনে আমাদের বড় অগ্রগতি আছে- এটাকে ধরে রেখে এগুতে পারলে আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবো। তিনি বলেন, নগরীর বর্জ ব্যবস্থাপনায় আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। উন্মুক্ত ড্রেন ব্যবস্থার কারণে মানুষ এগুলো মলত্যাগের জন্য ব্যবহার করে।
কাজী আশরাফ উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতাবোধ জাগ্রত করতে হবে। উদ্যোগ নেয়া এবং সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধকরণ করেÑ একই সাথে আইনের আশ্রয় নিয়ে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছান সম্ভব। এর জন্য জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক, ধর্মীয় নেতা, সচেতন-সক্ষম নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। স্যানিটেশন সম্পর্কিত তথ্যগুলো সহজবোধ্য করে মানুষের কাছে দিতে পারলে অবশ্যই তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব। কেননা নিজের ভাল সকলেই চায়।
পুলিশ সুপার মো. আব্দুস সালাম তাঁর বক্তৃতায় বলেন, এখনো আমাদের অনেকেরই আচরণগত সমস্যা আছে। পারিবারিক স্বাস্থ্য শিক্ষার মাধ্যমে আচরণগত অভ্যাস পরিবর্তনে কর্মসূচি নিতে হবে। পারিবারিক স্বাস্থ্য পরিচর্যায় বিনিয়োগের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাসহ সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।