‘স্যার আজ আমার বিয়ে’

আপডেট: জুলাই ১৮, ২০১৭, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


‘স্যার আজ আমার বিয়ে। আমি লেখাপড়া করে কলেজে পড়তে চাই, কিন্তু আমার বাবা-মা আমাকে জোর করে বিয়ে দিবে। আমি বিয়ে করবো না, আমাকে জোর করে বিয়ে দিলে আমি আমার জীবন রাখবোনা, আত্মহত্যা করে প্রতিশোধ নেবো।
ঈশ্বরদীর সাঁড়াগোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রত্না খাতুন (১৩) অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা দিতে স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষকের কাছে কান্নাজড়িত কন্ঠে এসব কথা বললে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে স্কুলের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার সকালে স্কুলে এসে রত্না যখন এসব কথা প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানার কাছে বলছিল তখন স্কুলে তার সহপাঠি ও শিক্ষকদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে করতে রাজি না হয়ে রত্না এমন কথা বলার পরপরই স্কুলের প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করেন। এ খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাছরিন আক্তার উদ্যোগ নিয়ে বিয়ে বন্ধ করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
রত্না ঈশ্বরদীর সাঁড়াগোপালপুর বিলপাড়া এলাকার অটোবাইক চালক মাহাবুল আলীর মেয়ে, সে ৮ম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার্থী। স্থানীয়রা জানান, গতকাল সোমবার নাটোর থেকে সুজন নামের এক যুবক আনুষ্ঠানিকভাবে রত্নাকে বিয়ে করতে ঈশ্বরদীতে আসার কথা ছিল। তবে রত্নার বাবা মাহাবুল জানান, তার মেয়েকে দেখতে আসার কথা ছিল, ইউএনও ম্যাডাম মোবাইলে এ বিয়ে বন্ধ করতে আদেশ দিলে তিনি বর পক্ষকে ঈশ্বরদীতে আসতে নিষেধ করেছেন। বিয়ে হবে না বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা জানান, ওই শিক্ষার্থী আমার কাছে তার বিয়ে নিয়ে এসব কথা বললে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মহিলা বিষয়ক অধিদফতর ও শিক্ষা অফিসে বিষয়টি অবহিত করি। পরে ইউএনও হস্তক্ষেপ করে এ বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ