স্লাবহীন ফুটপাত, মৃত্যুফাঁদ || কর্তৃপক্ষ উদাসীন কেন?

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

নগরীর সর্বত্রই মৃত্যুফাঁদ বিছানো। কখন কে এর নির্মম শিকারে পরিণত হবে, তা বলা মুশকিল। নতুন, পুরাতন প্রায় সব ফুটপাত এবং ড্রেনের উপরিভাগের স্লাব না থাকায় এই নির্মম অবস্থার চিত্র ফুটে ওঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ড্রেনের ওপর মাঝে মাঝে স্লাব বা ঢাকনি না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারী বা নগরবাসী। ইতোমধ্যে ড্রেনে পড়ে অনেকেই আহত হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে যেকোন সময় বড় ধরনের দুঘর্টনা ঘটার আশংকা করা হচ্ছে।
নতুনভাবে নির্মিত ড্রেনের গভীরতা বেশি হওয়ায় স্লাব দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে কোনো কোনো এলাকায় ড্রেন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে, আবার কোথাও কোথাও অব্যাহত রয়েছে। তারপরেও এ সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে মারাত্মক দুঘর্টনার আশঙ্কা করছেন পথচারীরা।
নগরীর ফুটপাত সমূহের একটি বড় অংশ ড্রেনের ওপর নির্মিত। এসব ড্রেনের মাঝে মাঝে যে স্লাব থাকার কথা তা নেই। নতুন যে সব ফুটপাত তৈরি হয়েছে সেগুলোতে দীর্ঘ সময়েও স্লাব বসান হয়নি। আবার পুরাতন ফুটপাত যেগুলি আছে সেগুলোর স্লাব ভেঙ্গে-চুরে গেছে। ওগুলো খোলা অবস্থাতেই আছে। নগরীর এসব ফুটপাত দিয়ে হাজার হাজার লোক যাতায়াত করছে, অসতর্কতায় পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন হরহামেশাই। কিন্তু বিষয়টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ হলেও কর্তৃপক্ষ বেশ উদাসীন। ফুটপাতের স্লাবহীন
স্থানগুলোতেও পথচারীদের সতর্ক করার মতও কোনো ব্যবস্থা নেই।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন সেবামূলক নাগরিক প্রতিষ্ঠান। নাগরিকদের উন্নত জীবন ব্যবস্থাই প্রতিষ্ঠানটির মূল অঙ্গীকার। তা হলে নগরীর এমন বিপদসঙ্কুল অবস্থায় তারা নিরব কেন? রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনোয়ারুল আমিন আযব সোনার দেশকে বলেছেন, নগরীতে রাস্তা ভাঙা ও ড্রেনের স্লাব দ্রুত বসিয়ে দেয়ার জন্য কাজ চলছে। তবে যেসব ড্রেনের মাঝে মাঝে স্লাব এখন পর্যন্ত দেয়া হয় নি, সেসব জায়গায় স্লাব বসিয়ে দেয়ার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত মেয়রের বক্তব্য নগরবাসীকে সান্ত¦না ছাড়া কিছুই নয়। বিপদসঙ্কুল পরিস্থিতির ত্বরিৎ সুরাহা হবেÑ তার বক্তব্য থেকে আশ্বস্ত হওয়া যায়নি। কেননা নগরীর অনেক ফুটপাতের কাজ বছরখানেক আগে সমাপ্ত হয়েছে কিন্তু প্রয়োজনীয় স্লাব এখনো বসানো হয়নি। যে সব পুরাতন ফুটপাতের স্লাব ভেঙ্গে মৃত্যুফাঁদ তৈরি হয়ে আছে সেগুলো বছর খানেক ধারে একই অবস্থায় পড়ে আছে। তাই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান কিংবা আদৌ এগুলোর সমাধান হবে এমন ভরসা আপাতত দেখা দেখা যাচ্ছে না।
মৃত্যুফাঁদ একটা দুটো নয় নগর জুড়ে শ’ শ’ মৃত্যুফাঁদ মাসের পর মাস একই অবস্থায় পড়ে আছে। ভয়ঙ্কর এই পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাও বেশ রহস্যজনক। তারা সমস্যাটি সমাধানে কোনো ধরনের তাগিদ অনুভব করছেন বলেও মনে হয় না।
তবে পরিস্থিতি সত্যিকার অর্থেই ভয়ঙ্কর সব পথচারীদের জন্য, নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য তো বটেই। মর্মান্তিক কোনো দুর্ঘটনা আমাদের কারুরই কাম্য নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অঘটনের আগেই সমস্যাটি জনগুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিবেন বলেই প্রত্যাশা করি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ