স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঘরোয়া সমাধান

আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০১৯, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রতীকী ছবি

স্লিপ অ্যাপনিয়ার ক্ষেত্রে ঘুমের সময় শ্বাস হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে নাকডাকা শুরু হয় ও বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ায় ঘুম অপূর্ণ থেকে যায়। যাদের এ সমস্যা রয়েছে তারা গভীরভাবে ঘুমাতে পারেন না। স্লিপ অ্যাপনিয়ার কারণে হঠাৎ মৃত্যুসহ নানা রকম শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়।
স্লিপ অ্যাপনিয়া ঘুমের প্যাটার্নকে বিঘ্নিত করে ও সারাদিন ক্লান্তিকর অনুভূতি দেয়। স্লিপ অ্যাপনিয়ার জন্য সিপিএপি মেশিন ব্যবহারের পূর্বে এখানে উল্লেখিত ঘরোয়া উপায়গুলো চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
* থ্রোট এক্সারসাইজ : নাকের মধ্য দিয়ে বায়ু চলাচল সহজতর করার জন্য একটি কৌশল হচ্ছে, গভীর শ্বাসের মাধ্যমে বেলুন ফুলানোর চর্চা করা, আমেরিকান স্লিপ অ্যাপনিয়া অর্গানাইজেশন অনুসারে। বেলুনটি বায়ুপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মুখ থেকে বিচ্ছিন্ন করবেন না। দিনে পাঁচবার রিপিট করুন, অর্থাৎ আপনাকে দৈনিক পাঁচটা বেলুন ফুলাতে হবে (নির্দিষ্ট সময় পরপর)। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঘরোয়া কৌশল সবসময় কার্যকর নাও হতে পারে, তাই আপনার সমস্যাটিকে গুরুতর মনে হলে অবিলম্বে সিপিএপি মেশিন ব্যবহার করুন অথবা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
* মধু : বিছানায় যাওয়ার পূর্বে এক চামচ মধু সেবন আপনাকে ভালোভাবে ঘুমাতে সাহায্য করতে পারে, বলেন দ্য স্লিপ ডক্টর ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও ঘুম বিশেষজ্ঞ মাইকেল ব্রুস। মধুতে প্রদাহরোধী উপাদান রয়েছে যা গলার অংশের চারদিকে ফোলা কমাতে পারে। এটি নাকডাকা সমস্যায়ও সহায়ক হতে পারে, কারণ এটি গলার জন্য লুব্রিকেন্ট/পিচ্ছিলকারী হিসেবে কাজ করে। মধুকে স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঘরোয়া প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করতে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করুন। ডা. ব্রুস অপাস্তুরিত মধু ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
* ওজন কমানো : অত্যধিক শারীরিক ওজনের সঙ্গে স্লিপ অ্যাপনিয়ার সম্পর্ক রয়েছে। আপনার স্লিপ অ্যাপনিয়া ও অতি ওজন থাকলে মাত্র ১০ শতাংশ ওজন কমিয়ে উল্লেখযোগ্য ফল পেতে পারেন এবং স্বাস্থ্যকর ওজন এ সমস্যা নিরাময়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে, আমেরিকান থোরাসিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত আমেরিকান জার্নাল অব রেসপিরেটরি অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী।
* ল্যাভেন্ডার অয়েল : ল্যাভেন্ডার একটি ন্যাচারাল সিডাটিভ অথবা প্রাকৃতিক ঘুমের ওষুধ হিসেবে কাজ করে। এটি আপনাকে শিথিল করে সহজে ঘুম আনতে পারে। ল্যাভেন্ডারে প্রদাহনাশক উপাদানও রয়েছে। কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল একটি টাওয়েলে লাগিয়ে সেটিকে ঘুমের সময় বালিশের নিচে রাখুন অথবা ফুটানো পানিতে এ তেল মিশিয়ে নাক দিয়ে বাষ্প টানতে পারেন।
* এপসম সল্টের গোসল : বিছানায় যাওয়ার পূর্বে এপসম সল্ট দিয়ে গোসল করলে ভালো ঘুম হতে পারে। এপসম সল্টের ম্যাগনেসিয়াম মাংসপেশিকে শিথিল করে ও সুস্থতার অনুভূতি তৈরি করে- এসবকিছু আপনার রাতের ঘুমকে আরো আরামদায়ক করতে পারে, বলেন ডা. ব্রুস। ঘুমাতে যাওয়ার আগে কুসুম গরম পানিতে এপসম সল্ট মিশিয়ে গোসল সেরে নিন- এটি হচ্ছে স্লিপ অ্যাপনিয়ার জন্য অন্যতম সর্বাধিক শিথিলকারক ঘরোয়া চিকিৎসা।

* বিছানা উঁচু রাখা : বিছানার মাথা/উপরিভাগ উঁচু করে ঘুমালে স্লিপ অ্যাপনিয়ার উপসর্গ প্রশমিত হতে পারে, এমনটা সাজেস্ট করছে স্লিপ অ্যান্ড ব্রিদিংয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণা। এ গবেষণায় পাওয়া গেছে, যেসব রোগী বিছানার উপরের অংশকে উঁচু করে ঘুমিয়েছিল তাদের প্রতিরাতে স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঘটনাসংখ্যা হ্রাস পেয়েছিল। এসব রোগীদের অক্সিজেন স্যাচুরেশনেও উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।
* কাত হয়ে শোয়া : ব্যাক স্লিপিং অথবা চিত হয়ে শোয়া হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় স্লিপিং পজিশনগুলোর একটি, কিন্তু এটি আপনার স্লিপ অ্যাপনিয়াকে আরো খারাপ করতে পারে। যাদের স্লিপ অ্যাপনিয়া রয়েছে তারা কাত হয়ে ঘুমালে এ সমস্যার উপসর্গ হ্রাস পেতে পারে ও ভালোভাবে ঘুমানো সম্ভব হতে পারে, স্লিপ অ্যান্ড ব্রিদিংয়ে প্রকাশিত অন্য একটি গবেষণামতে। কাত হয়ে ঘুমালে নাকডাকাও কমে যেতে পারে, তাই সবদিক বিবেচনা করে কাত হয়ে শোয়াকে স্লিপ অ্যাপনিয়ার রোগীদের জন্য পারফেক্ট পজিশন বলা যেতে পারে।