স্লিপ প্রকল্পের অর্থ লোপাটেরর অভিযোগ ।। ঘটনা তদন্ত করে দোষিদের শাস্তি দিন

আপডেট: জুন ১২, ২০১৭, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

সমাজের পরস্পরের সম্পর্কটা দিন দিন খুব ফিকে হয়ে আসছে। আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্কট ক্রমেই ঘনীভুত হয়ে আসছে। সমাজে অনেক শ্রেণি ও পেশার মানুষ আছেন যাদের প্রতি মানুষ আস্থা ও বিশ্বাস অটুট রাখতে চায় কিন্তু সেই বন্ধনও যেনো ভুল প্রমাণিত হয়। যে বা যারাই দায়িত্ব পাচ্ছে, সে ধরেই নিচ্ছে এখান থেকে তার আর্থিক সুবিধা নিতেই হবে। এতে তার মধ্যে অপরাধ বোধ নেই। হয়ত ওই দায়িত্বপ্রাপ্ত ধরেই নেয় এটা তার অধিকারের ব্যাপার। অপরাধবোধ তাকে পীড়িত করে না। এই মানুষেরা সমাজে সংখ্যায় অবশ্যই অল্প কিন্তু তারা সংখ্যাগরিষ্ঠের অধিকার খর্ব করে, হনন করে, লুটপাট-ডাকাতি করে। বিভিন্ন সেক্টরে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠর নানা অভিযোগ হরহামেশাইÑ এসবের খুব কমই প্রতিকার হয়।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার প্রাথমিক স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্লান (স্লিপ) প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ নামমাত্র কাজ করে ও ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশে প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ খুবই উদ্বেগজনক। উপজেলা শিক্ষা অফিস, হিসাবরক্ষণ অফিস এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিকে অর্থ আত্মসাতের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে স্লিপ প্রকল্প হচ্ছে মূলত প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাসে শিশুদের লেখাপড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে বিনোদনের মাধ্যমে আকৃষ্ট করা। সরকার প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিশুদের উপযোগী ক্লাস সজ্জিতকরণ, ড্রপআউট রোধ, পাঠসংশ্লিষ্ট শিক্ষা উপকরণের সঠিক ব্যবহার ও শিশুদের নতুন নতুন বিষয় শেখার আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ স্লিপ কর্মসূচি চালু করে। সরকারিভাবে প্রতি স্কুলকে ৪০ হাজার ও সজ্জিতকরণে পাঁচ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে জেলার তানোর উপজেলায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ প্রকল্পে ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য মোট ৫১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও বিদ্যালয় সজ্জিতকরণে মোট ছয় লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক স্লিপ কর্মসূচির উপকরণ ক্রয় কমিটির মাধ্যমে কিনে থানা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে বিল-ভাউচার দাখিল করে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসাবরক্ষণ অফিসে বিল-ভাউচার জমা দিয়ে উপজেলার সকল স্কুলের টাকা তার ব্যাংক হিসাবে জমা করে প্রতি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যুক্ত স্বাক্ষরে চেক প্রদান করেন। কিন্তু এ উপজেলায় স্লিপ প্রকল্পের চেকের টাকা তোলার জন্য অনেক ক্ষেত্রে উপজেলা শিক্ষা অফিসে চেক প্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা, হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রায় ৫শ টাকা কমিশন দিতে হচ্ছে। বাকি টাকা কোনো কোনো স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নামমাত্র উপকরণ কিনে ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা প্রধান শিক্ষক সমুদয় টাকাই পকেটস্থ করছেন।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ শিক্ষকগণ। তাদের দাবি, প্রকল্পভুক্ত স্কুলগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
স্লিপ কর্মর্সূচি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টিকে গুরুত্ব প্রদানের দাবি রাখে। শিশুদের জন্য, শিশুদের পাঠে উদ্বুধকরণের জন্যই ওই কর্মসূচি। সেই প্রকল্পের টাকা নয়-ছয় করে লোপাট করা হবে- এটা বরদাস্ত করা যায় না। ঘটনার তদন্ত হওয়া বাঞ্ছিনীয়। এর সাথে যে বা যারাই জড়িত থাক না কেন তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে এটাই প্রত্যাশিত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ