সড়কে বাড়ছে লাশের মিছিল ২০১৬ সালে নিহত ২৬৭

আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০১৭, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

শাহিনুল ইসলাম আশিক



রাজশাহী অঞ্চলে গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় আরো প্রায় ৩ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তবে মহাসড়কে নসিমন-ভটভটি ও ফিটনেসবিহীন মোটরযান কম থাকলে এবং দুর্ঘটনার মামলাগুলোর শাস্তির বিধান আরো দ্রুত কার্যকর হলে প্রাণহানী কম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
গত শুক্রবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের তথ্য অনুসন্ধান কেন্দ্রের অফিস সহকারি নাজিম উদ্দিন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অনুসন্ধানে রামেক হাসপাতালের গতবছরের তথ্যে দেখে গেছে, রাজশাহী অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ১৯৮ জনের মৃত্যু হলেও বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটেছিলো লসিমন ও ভটভটির কারণে। কিন্তু বাস ও ট্রাকের কারণেও বেশকিছু বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। একই বছর সরকারের পক্ষ থেকে মহাসড়কে সকল প্রকার লসিমন-ভটভটির ও ফিটনেসবিহীন মোটরযানের ওপর অভিযান চালানো হয়। এতে করে বছরের শুরুর দিকের চেয়ে শেষের ভাগে এসে দুর্ঘটনার সংখ্য কিছুটা হলেও কমে যায়। তারপরেও থেমে নেই সড়কে মৃত্যুর মিছিল। প্রতিনিয়তই একের পর এক নাম যোগ হচ্ছে এই মৃত্যুর মিছিলে। এ দুর্ঘটনার মধ্যে রাস্তা পারাপার, মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়া ইত্যাদি।
আর মহাসড়কে লসিমন-ভটভটি ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির উপস্থিতি কম থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনা কমেনি। এছাড়া এ দুর্ঘটনায় চালক শাস্তি জরিমানা বিধানটা আরো কঠোর করা ও মামলাগুলো দ্রুত শেষ করা হলে অনেকটাই কমবে দুর্ঘটনা এমটি বলছিলেন, নিরাপদ সড়ক রাজশাহীর সভাপতি তৌফিক আহসান টিটো।  তিনি বলেন, এই সেক্টরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শিক্ষার অভাব রয়েছে। চালকদের অসচেতনতা করার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তারা এক ট্রিপ থেকে এসে আবার অন্য ট্রিপে চলে যায়। আবার তারা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় যাত্রার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে। চালকদের লাইসেন্স দেয়ার সময় যারা দক্ষ না তাদের দেয়া হয়।
এবছর রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ২৪ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ২৬ জন, মার্চ মাসে ২৪ জন, এপ্রিল মাসে ২০ জন, মে মাসে ১০ জন, জুন মাসে ৪২ জন ও জুলাই মাসে ২৮ জন, আগস্ট মাসে ২৫ জন, সেপ্টম্বর মাসে ৪০ জন, অক্টোবর মাসে ২৭, নভেম্বর মাসে ২১ জন, আর ডিসেম্বর মাসের ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে এ দুর্ঘটনায় চালকদের অসচেতনতা, এক ট্রিপ থেকে এসে বিশ্রাম না করে আবার গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়া ছাড়াও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য এসব দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। এমনটি বলেছিলেন গত মাসে রাজশাহীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ডে চালকদের নিয়ে দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক আলোচনা সভায় রাজশাহী  মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম। এসময় তিনি চালকদের এসব অভ্যাসগুলো পরিহার করতে বলেন।
সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে একজন বাস চালক নাম না প্রকাশ করার শর্তে তিনি বলেন, আমরাও চাই না যে কোন দুর্ঘটনার শিকার হই। আমার গাড়িতে অনেক যাত্রী থাকেন। এখন দুর্ঘটনা ঘটলে কি করার। অনেক ড্রাইভার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালাই এমন কথার উত্তরে তিনি বলেন, হা খেতে পারে। তবে সবাই না। আসলে বাসের চালকদের সাথে অনেক যাত্রীও থাকে, তাই প্রতিটি গাড়ির চালককে এসব বিষয়ে আরো সচেতন হওয়া দরকার।
রাজশাহী ট্রাফিক পুলিশের সহকারী কমিশনার ট্রাফিক ইফতে খায়ের আলম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা যেন কম হয় সেই জন্য ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে সভা, সমাবেশ ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। তাদের সচেতন করতে হবে। অনেক সময় আমরা ট্রাফিকের পক্ষ থেকে বেপরোয়া গতির গাড়ি চালানো বা কাগজপত্র না থাকার জন্য মামলা দিয়ে তাদের সচেতন করি।