সয়াবিন তেল নিয়ে তেলেসমাতি মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চাই

আপডেট: মে ১০, ২০২২, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

সরকার ইদের পর সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়েছে। ভোক্তাদের ধারণা ছিল এখন হয়তো বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। কিন্তু না খুচরা বাজারে সরবরাহ কম। সংবাদ মাধ্যমের তথ্যমতে সোমবার (৯ মে) পর্যন্ত সারা দেশে সয়াবিন তেলের ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী সয়াবিন তেলের প্রয়োজনীয় মজুদ থাকলেও ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে চাইছে। খোদ বাণিজ্য মন্ত্রীর ভাষায় সেটা পরিষ্কার হয়েছে। তিনি বিক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন, ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
বাণিজ্য মন্ত্রী সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রমজান মাসে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেছিলাম দাম সহনীয় পর্যায় রাখতে। কিন্তু ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা আমার অনুরোধ রাখেননি। তাদের অনুরোধ করা আমার বড় ভুল হয়েছে।
দেশে সয়াবিন তেল থাকলেও ইদের আগে-পরে দোকানে তা না আসায় ১০ দিনে ৪০ হাজার টনের মতো সয়াবিন তেল মজুদ হয়েছে বলে ধারণা করছে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রোববার সারাদেশে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন দোকান-গুদাম থেকে মজুদ করা সয়াবিন তেল উদ্ধারের পর সার্বিক চিত্র সম্পর্কে এমন একটি ধারণা দেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অর্থাৎ এটা স্পষ্টতই বলা যায় যে, ভোজ্য তেল নিয়ে একটি মহল তেলেসমাতি চালাচ্ছে। কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে অন্যায় সুবিধা নিতে চাচ্ছে।
বাংলাদেশে ভোজ্য তেল হিসাবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় সয়াবিন। ৯০ শতাংশই এই তেলের ওপর নির্ভরতা। এই কারণে এই তেলের মূল্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সরকার নির্ধারণ করে থাকে। সয়াবিন তেলের মূল্য রেকর্ড ভেঙ্গে লিটার প্রতি ১৯৮ টাকা ধার্য হওয়ার পর থেকে ভোক্তা পর্যায়ে ক্ষোভ আর অসন্তোষ দেখা গেলেও বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ব বাজারে দামের রেকর্ড হওয়ার কারণেই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য জানাচ্ছে, বিশ্ব বাজারে এক বছর ধরেই তেলসহ নিত্যপণ্যের অনেক কিছুর দাম বাড়তির দিকেই ছিলো। বিশেষ করে ২০২০ সালের শেষ দিকে এসে সারা বিশ্বেই এই প্রবণতা দেখা যায়। তবে এই পরিস্থিতির অবনতি হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর। এই দুটি দেশ থেকে তেল সরবরাহে ঘাটতি হওয়ায় ব্যাপক চাপ পড়ে পাম ও সয়াবিন তেলের ওপর। এমন পরিস্থিতিতে পাম তেলের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া গত ২৮শে এপ্রিল পাম তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। অবশ্য রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ মুহূর্তে তিনটি জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পেরেছিলো।
এপ্রিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ২২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে এবং প্রতি মেট্রিক টন তেলের দাম রেকর্ড ১৪৯৭ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। এপ্রিলের শেষ দিকে তেলের দাম ছিলো ১৯১৯ ডলার।
তবে প্রতি মেট্রিক টন ১৯১৯ ডলারে কেনা তেলের সাথে জাহাজভাড়াসহ নির্ধারিত অন্য খরচ যোগ করলে বাংলাদেশে লিটার প্রতি ১৯৮ টাকা নির্ধারণ অযৌক্তিক হয়নি বলেই মনে করেন এই গবেষকগণ।
কিন্তু দাম বৃদ্ধির পরও ভোজ্য তেলের বাজার সরবরাহ নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছে, এটা মোটেও কাম্য নয়। বাণিজ্য মন্ত্রী ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের এর জন্য দায়ি করলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা দায়ি করছেন ডিলারদের। বিষয়টি অবশ্যই পরস্পরকে দোষারোপের নয়- এই মুহূর্তে বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করাই করণীয়। মূলত যারা অবৈধ মজুদ গড়ে তুলছে তাদের বিরুেদ্ধ সরকারের কঠোর অবস্থান নেয়া। আইনি ব্যবস্থার সাথে সাথে অবৈধ মজুদ থেকে উদ্ধার তেল বাজেয়াপ্ত করতে হবে। শুধু জরিমানা দিয়ে পরিস্থিতি সামলানো যাবে বলে মনে হয় না। তেলের বাজার অস্থিতিশীল করাটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও হতে পারেÑ বিষয়টি সার্বিকভাবে বিবেচনায় নিয়েই পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ