হজযাত্রীদের নিবন্ধনের সময় বাড়ল ১০ এপ্রিল

আপডেট: মার্চ ৩১, ২০১৭, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় আরেক দফা বাড়ান হয়েছে। বুধবার এক প্রজ্ঞাপনে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।
হজযাত্রীদের মূল নিবন্ধন নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি ও জটিলতা। হজের প্রাক-নিবন্ধন নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও আইটি প্রতিষ্ঠান বিজনেস অটোমেশন লিমিটেডের সঙ্গে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়ায় প্রেক্ষিতে এ জটিলতা দিন দিন বাড়ছে। ফলে বেকায়দায় পড়েছেন পবিত্র হজ গমনেচ্ছুরা।
প্রথমে ২৮ মার্চ থেকে প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রীদের মূল নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। ঘোষণায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় হজে গমনেচ্ছুদের ৩০ মার্চের মধ্যে নিবন্ধন করতে বলা হয়।
নিবন্ধনের নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্ট স্ক্যান করে নিবন্ধন তথ্য পূরণ করতে হবে এবং ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হবে। আর জটিলতা শুরু হয় এখানেই। কারণ, অনেক হজযাত্রী প্রাক-নিবন্ধন করলেও তারা এখন পর্যন্ত পাসপোর্ট করেননি আবার অনেকের পাসপোর্ট প্রক্রিয়াধীন। এমতাবস্থায় প্রাক-নিবন্ধন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ জানিয়ে আসা হাব নেতারা পাসপোর্ট জটিলতা ও সময় স্বল্পতার অজুহাত দিয়ে নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেন। ফলে বেসরকারি পর্যায়ে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়নি বললেই চলে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় ২৩ মার্চ এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধিতদের ২৮ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ মোট তিন দিন নিবন্ধন করা হবে। কিন্তু হাব ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এ কার্যক্রম প্রত্যাখ্যান করে নিবন্ধন কার্যক্রম বর্জন করে।
মন্ত্রণালয়ের আইটি প্রতিষ্ঠান বিজনেস অটোমেশন লিমিটেড ২৮ মার্চ সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সার্ভার খোলা রাখলেও নিবন্ধনে তেমন সাড়া ছিল না। আইটি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, এদিন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মাত্র ১১২টি এজেন্সির ২৯৩০ জন এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫৯৫ জন নিবন্ধনের জন্য ডাটা এন্ট্রি করেন।
এ কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় বুধবার হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় আরেক দফা বাড়িয়েছে। বুধবার এক প্রজ্ঞাপনে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, হজযাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধন না করলে জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি ১৪৩৮ হিজরির অনুচ্ছেদ ৩.১.৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সবাইকে সতর্ক করা হয়। এ সময়ে স্থানান্তর কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
এ ছাড়া সরকারি ব্যবস্থাপনার ১০ হাজার হজযাত্রীর কোটা পূরণ না হওয়ায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে নতুন করে প্রাক-নিবন্ধন করে এ সময়ের মধ্যে মূল নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ দিকে ধর্ম মন্ত্রণালয় ১১ দিন সময় বাড়ালেও তাতেও খুশি নয় বেসরকারি হজ এজেন্সিদের সংগঠন হাব। তারা নতুন নির্ধারিত সময় ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা দেড় মাস বাড়ানোর দাবী জানিয়ে আসছে।- বাংলানিউজ