হজ ফ্লাইট শুরু ২৪ জুলাই

আপডেট: জুলাই ১৯, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


আগামী ২৪ জুলাই থেকে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হবে। এ বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাবেন।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এ তথ্য জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বি এইচ হারুণ এমপি, বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিব এস এম গোলাম ফারুকসহ ধর্ম মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স, অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) ও হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আগামী ২২ জুলাই রাজধানীর আশকোনায় হজ ক্যাম্প পরিদর্শন ও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’
তিনি জানান, ২৪ জুলাই প্রথম হজ ফ্লাইট ঢাকা ছেড়ে যাবে। বাংলাদেশ বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইটটি সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে জেদ্দার উদ্দেশে রওনা হবে। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে জেদ্দায় পৌঁছাবে। হজের শেষ ফ্লাইটটি ছেড়ে যাবে ২৬ আগস্ট সকাল ৯টা ৫ মিনিটে। বিমানের এসব হজ ফ্লাইটের মধ্যে ৭৭টি ডেডিকেডেট বাকিসব শিডিউল ফ্লাইট।
মন্ত্রী জানান, ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হবে ৬ সেপ্টেম্বর এবং শেষ হবে ৫ অক্টোবর।
বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-মদিনা ফ্লাইট এ বছরই চালু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মদিনায় যাওয়ার জন্য বিমান ও সৌদিয়ার দুটি করে মোট চারটি ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা সিটি চেক ইন চালু করেছিলাম, যার জন্য বিমান ও সৌদিয়ার ক্ষেত্রে একটা চার্জ নেয়া হতো। কিন্তু সৌদিয়া এটা গত বছর ও এর আগের বছর করেনি। তারা একটা কন্ডিশন দিয়েছে আমাদের একটি এগ্রিমেন্টে সই করতে হবে, সেটা হয়নি বলে তারা (সিটি চেক ইন) করছেন না।
মন্ত্রী বলেন, এজন্য হাব ও অন্যান্য জায়গা থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বিমানও যাতে সিটি চেক ইন না করে। এটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব, কারণ এ সিদ্ধান্তটা ক্যাবিনেটের। তবে এবার সিটি চেক ইন না হওয়ার সম্ভাবনাই রয়ে গেছে।
কেন সিটি চেক ইন বাতিল করা হচ্ছে- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি এটা সুবিধা, তবে এজেন্সিরা মনে করে অসুবিধা। এজন্য তারা কিছু সিকিউরিটি রিজনের কথা বলেন।
ইতোমধ্যে নেয়া সিটি চেক ইনের টাকা হজ শেষে ফেরত দেয়া হবে বলেও জানান বিমানমন্ত্রী।
রাশেদ খান বলেন, এবার যাতে বিমান খালি না যায় এজন্য ৫০ শতাংশ ভাড়া আগে থেকেই নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যাতে সময়মতো এজেন্সিগুলো টিকেট সংগ্রহ করে নেয়।
সৌদি এয়ারলাইন্স আগে থেকেই ৫০ শতাংশ ভাড়া অগ্রিম নিচ্ছে জানিয়ে মেনন বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিত না। ফলে অনেক সময় বুকিং ক্যানসেল হয়ে যেত, এতে বিমান খালি যেত। বুকিং নিশ্চিত করে শিডিউল ঠিক রাখার জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও বিমান ফিরতি ফ্লাইটে জমজমের পানি নিয়ে আসবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরে আলাদা জায়গায় এটা (জমজমের পানি) রাখা হবে। হজযাত্রীরা ফিরে এসে টোকেন দিয়ে জমজমের পানি নিয়ে যাবেন। তবে সৌদি এয়ারলাইন্স আলাদা করে জমজমের পানি আনে না। তারা যাত্রীর সঙ্গেই পানি দিয়ে দেবে।
বিমানমন্ত্রী বলেন, বিমানের ভাড়া নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা বাইরে হচ্ছিল। আমি আপনাদের জানাতে চাই, বিমান ও সৌদিয়ার ভাড়ায় খুব সামান্য ডিফারেন্স আছে। সৌদি এয়ারলাইন্সের ভাড়া বিমানের ভাড়া থেকে ২০০ টাকা বেশি।
একটা কথা প্রায়ই সাংবাদিক বন্ধুরা জানতে চাচ্ছেন, কিছু ভাড়া বৃদ্ধি কেন হয়েছে। এটার কারণ আমাদের সংসদে যে বাজটে হয়েছে সেখানে এক্সাইজ ডিউটি নতুন করে আরোপ হয়েছে। আরেকটা সমস্যা হচ্ছে, বিমানবন্দরে আইও ট্যাক্স হিসাবে ধরা হয়েছে ৫০ রিয়াল, আসলে এটা ১৭৪ রিয়াল। এই পার্থক্যের বিষয়টি ধর্ম মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেবে, যাতে কোনো অসুবিধা নয়।
তবে রাশেদ খান মেনন কেবল বাংলাদেশ বিমানের হজ ফ্লাইট সম্পর্কে জানান। সৌদি এয়ারলাইন্সের হজ ফ্লাইট সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি