হঠাৎ বাস ধর্মঘট যাত্রীরা পক্ষ নয়- তবুও প্রতিপক্ষ!

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৯, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

একেবারে হঠাৎ করেই ধর্মঘট। সকালে মানুষ যে যার গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বাস স্ট্যান্ডে এসে জানতে পারলেন বাস চলাচল বন্ধ। বলা নেই, কয়া নেই- পূর্ব কোনো সতর্কতা নেইÑ বাসের জন্য যাত্রীদের বিড়ম্বনার শেষ নেই। সোমবার রাজশাহী থেকে সকল রুটে বাস ধর্মঘটের ফলে সাধারণ যাত্রী সাধারণকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে। রাজশাহীসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহণ শ্রমিকরা। সোমবার অন্যান্য দিনের মতই স্বাভাবিক বাস চলাচল শুরু হয়Ñ কিন্তু সকাল ১০ টার পর হঠাৎ করেই বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই যাত্রীরা দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েন।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনযায়ী পরিবহণ শ্রমিকরা নতুন পরিবহণ আইন বাতিলের দাবিতে ওই ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন। ২০১৮ সালে ঢাকায় বাসচাপায় দুই ছাত্রছাত্রীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংসদে পাস হয়। তবে সেটি এক বছর পর কার্যকরেরর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে এই আইনের প্রয়োগ শুরু হয়েছে ১৭ নভেম্বর থেকে। ১ নভেম্বর থেকে আইন সম্পর্কে পরিবহণ মালিক- শ্রমিক ও যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পচিালিত হয়েছে। তারপরই সতর্কতার সাথে আইনের প্রয়োগ শুরু হয়েছে।
ওই আইনে বেপরোয়া মোটরযানের কবলে পড়ে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে এ আইনে, যা আগের তুলনায় বেশি।
এ কারণে আইনটি প্রণয়নের পর থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে পরিবহণ মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো। শ্রমিকরা ‘সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান’Ñ এই ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। শ্রমিকদের ভাষ্য হলো- তারা জেনেশুনে দুর্ঘটনা ঘটান না। তাছাড়া শাস্তির যে বিধান রাখা হয়েছে তা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। আইনটি শ্রমিক-বান্ধব নয়। এটি বাতিল করতে হবে।
দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে। আইনের সংশোধন বা আইন বাতিল দাবিতে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনও হতে পারে। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিবহণ ধর্মঘট করাটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত। শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি তো শুধু শ্রমিকেরই স্বার্থ নয়Ñএটা দেশের মানুষেরও স্বার্থের বিষয়। দাবি ন্যায়সঙ্গত হলে সেই দাবিতে দেশের মানুষেরও সমর্থন থাকবে। কিন্তু জনসাধারণের দুর্ভোগের বিষয়টি আমলে না নিয়েই হঠাৎ ধর্মঘট ডাকার সিদ্ধান্তটি পরিপক্ক বলে বিবেচনা করা যায় না। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকেই প্রতিপক্ষ করে তোলা হয়েছে। তাছাড়া ধর্মঘট ঢাকার ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মও প্রতিপালিত হয় নি। ১ নভেম্বর থেকে আইন কার্যকর হয়েছে। অথচ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে ১৮ নভেম্বর খুবই আকস্মিকভাবে। ধর্মঘটে যাওয়ার আগে অন্তত একটা আল্টিমেটাম দেয়া যেতে পারতো। সেক্ষত্রে দেশের মানুষও পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে পারতো। সেবাগ্রহীতাদের এতোটুকু সুযোগ দেয়া যেতেই পারতো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ