হতদরিদ্র পরিবারের আলো ছিলেন লিপু

আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০১৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপু ছিলেন তার হতদরিদ্র পরিবারের আশার আলো। তারা বাবা একজন ট্রাক চালক। পরিবারে দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় লিপু। লিপুর সহপাঠীরা জানান, প্রায়ই আর্থিক সঙ্কটে ভুগতেন লিপু। পরিবারের সবার ভরসা ছিল লিপু। লিপু পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের হাল ধরবে এমন প্রত্যাশায় দিন গুণছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু অস্বাভাবিক মৃত্যুতে না ফেরার দেশে চলে গেলেন লিপু। তার মৃত্যুতে ভেঙ্গে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
লিপুর চাচা বশির আলী বলেন, এরকম ঘটনা ঘটবে আমরা চিন্তাও করতে পারি নি। গত মঙ্গলবার লিপু গ্রামের বাড়ি থেকে এখানে এসেছে। আমি তাকে বাইসাইকেলে করে গ্রামের মোড়ে রেখে গিয়েছিলাম। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ভার্সিটি থেকে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। আমরা এটা মেনে নিতে পারছি না। লিপুর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সদস্যা ভেঙ্গে পড়েছে বলে জানান তিনি। তিনি জানান লিপুর মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। ছেলের শোকে তিনি পাগলপ্রায় হয়ে গেছেন।
আগামী ২ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন লিপু।
লিপুর সহপাঠী শহিদুল ইসলাম বলেন, গত পরশু (মঙ্গলবার) রাতে তার সঙ্গে আমার কথা হয়। তখন সে আমার কাছে পরীক্ষার নোট-পত্রের খোঁজ-খবর করছিল। পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলো। তাকে হাসি-খুশিই দেখেছিলাম। সে মারা গেছে এটা বিশ্বাস করতে পারছি না।
অন্য এক সহপাঠী নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘গল্প-গুজব আর আড্ডা দিতে খুব পছন্দ করতো লিপু। যেখানে আড্ডা সেখানেই সে থাকবে। সহপাঠীদের মামা বলে ডাকতো লিপু। সে কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না। তার মৃত্যুর জন্য যারাই দায়ী থাকুক তাদের কঠিন শাস্তি চাই।’
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় হলের ডায়নিঙের পাশের ড্রেন থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশের ধারণা, লিপুকে হত্যা করা হয়েছে। তবে কে বা কারা কী কারণে হত্যাকা- ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ