হত্যা মামলার আসামী ধরতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৯, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


সংবাদ সম্মেলনে নিহত অ্যাডভোকেট মোজাম্মেলের পরিবারের সদস্যরা-সোনার দেশ

স্ত্রীর কথামত জমি বিক্রি করে টাকা না দেয়ায় উকিলকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হযেছে বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। ডাক্তারী রিপোর্টে শ্বাসরোধে হত্যার কথা উল্লেখ থাকলেও এ মামলায় অভিযুক্ত আসামীদের ধরছেনা পুলিশ। এ হত্যা মামলার আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছেনা। পুলিশের নীরব ভূমিকার ফলে পুলিশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন হচ্ছে। অনতিবিলম্বে সকল প্রভাবমুক্ত হয়ে আসামীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন নিহতের পরিবারের। গতকাল রোববার দুপুরে নাটোর ইউনাইটেড প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন নিহত অ্যাডভোকেট মোজাম্মেলের ভাই মঈনুল ইসলাম। এসময় তার অপর ভাই এসএম শাদ-উল-ইসলাম এবং চাচাত ভাই সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মঈনুল ইসলাম বলেন, তার ভাই অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল নাটোর কোর্টের উকিল ছিলেন। তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। নাটোর শহরের আলাইপুর, মলি¬কহাটী, সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ও ইটালী ইউনিয়নে তাদের এজমালী সম্পত্তি রয়েছে যার মধ্যে মোজাম্মেলের অংশের মূল্য কোটি টাকার ওপরে। মোজাম্মেলের স্ত্রীর বাবার বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই এলাকায়। আত্রাই কলেজের শিক্ষক হিসেবে রিটায়ার্ড করার পর ভাই-ভাবির টাকায় রাজশাহীর রাজপাড়ায় বাড়ি করেছেন। ভাই নাটোর কোর্টের উকিল হিসেবে কাজ করে বৃহস্পতিবার রাজশাহী যেতেন এবং রোববার চলে আসতেন। ভাবির সঙ্গে ভাগ্নে কনক(৩৩) ছোটবেলা থেকেই থাকত।
সম্প্রতি সে নেশাগ্রস্ত ও ছিনতাইকারী হিসেবে বেশ কয়েকবার পুলিশের কাছে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায়। রিটায়ার্ডের পর থেকেই ভাবি বেগম রোকেয়া তার ভাইকে বলত,ভাই নিঃসন্তান হওয়ায় মুসলিম আইনানুযায়ী তার মৃত্যুর পর সম্পত্তির মালিকানায় অন্য ভাই-ভাস্তেরা হবে তাই সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্য মাঝে মাঝেই চাপ দিত বলে ভাই তাদের বলতেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে বাড়ির মধ্যে কনক আর ভাবির যোগসাজসে মোজাম্মলকে হত্যা করা হয়। পরে ময়না তদন্ত রিপোর্টে বিষয়টি উল্লেখ পাওয়ার পর গত ১৫ অক্টোবর রাজশাহী রাজপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলেও এখনও পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান প্রভাবিত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।