হত্যা মামলা ও মাছ চুরির জের নাটোরের বড়াইগ্রামে পৃথক সংঘর্ষে ১৩ জন আহত : ১১ জন কারাগারে

আপডেট: জুন ১৯, ২০২৪, ৮:৩১ অপরাহ্ণ


নাটোর প্রতিনিধি:


নাটোরের বড়াইগ্রামে কৃষক বেলাল হত্যাকাণ্ডের জের ও চান্দাই গ্রামে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ইজারা নেয়া পুকুরের মাছ চুরিকে কেন্দ্র করে পৃথক সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ১১ জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। সোমবার (১৭ জুন) ইদের নামাজ শেষে ও শনিবার সন্ধ্যায় পৃথক এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বছর দেড়েক আগে মশিন্দা গ্রামে বেলাল হোসেন নামে এক কৃষকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। সোমবার ওই মামলায় জামিনে থাকা তানিম হোসেনসহ অপর আসামীরা বেলালের বাড়ির কাছে ইদের নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ইদগাহ থেকে মাত্র ২শো গজ দুরে বেলাল হোসেনের ছেলে আতাউর রহমান ও জলিল শাহর ছেলে শহীদুল ইসলাম শাহ’র নেতৃত্বে ২০-২৫ জন ব্যক্তি চাইনিজ কুড়ালসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদেরকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে।

অপরদিকে, চান্দাই গ্রামে ইজারা নেয়া সরকারি খাস পুকুর থেকে হাফিজুর রহমান সজিব ও মিরন সরকার লোকজন নিয়ে চুরি করে মাছ মেরে নিলে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে শনিবার সন্ধ্যায় সজিবের লোকজন কয়েকটি মোটর সাইকেলে মাছচাষী সাহেব আলীর ছেলে সাকিবকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্বজনরা সাকিবকে রক্ষায় এগিয়ে এলে সজিবের লোকজন চাপাতি, হাসুয়া, চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে ছয় জনকে জখম করেন। পরে পালটা হামলায় সজিব ও আশিক আহত হন।

সংঘর্ষে আহতরা হলো-উপজেলার নগর ইউনিয়নের শাহরিয়ার নাফিজ (১৭), মেহেদী হাসান রাহুল (৩৩), মশিন্দা গ্রামের স্কুল শিক্ষক রাহাত আলমগীর হালিম (৪৮), তানিম হাসান (৫৩) এবং নজরুল ইসলাম (৪৫)। এছাড়া অপর সংঘর্ষে আহতরা হলেন- চান্দাই গ্রামের হাফিজুর রহমান সজিব (৩৪), আশিক সরকার (২২), সাহেব আলী প্রামাণিক (৫৫), জাহিদুল ইসলাম (৫২) নায়েব আলী (৫০), সাকিব হোসেন (২২), উজ্জল মোল্লা (৫০) ও সুইট হোসেন (৩০)। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও বড়াইগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কারাগারে পাঠানো আসামীরা হলেন-মশিন্দা গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে মিঠু (৪৩), জলিল শাহর ছেলে সাদ্দাম শাহ (২৯), সোলায়মান হোসেনের ছেলে আব্দুল মতিন (৪৬) ও লোকমান হোসেনের ছেলে বাবর আলী (৩২)। অপরদিকে, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়ার পর আহত চান্দাই গ্রামের আকতারের ছেলে সাহেব আলী প্রামাণিক, জাহিদুল ইসলাম ও নায়েব আলী, সাহেব আলীর ছেলে সাকিব হোসেন, লুৎফর রহমানের ছেলে উজ্জল মোল্লা ও জাহিদুল ইসলামের ছেলে সুইট এবং আলপু সরকারের ছেলে ফিরোজ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব জানান, এসব ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে। উভয় ঘটনায় মোট ১১ জন কে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version