হলি আর্টিজানে জঙ্গিদের মৃত্যু গুলি-বোমায়: চিকিৎসক

আপডেট: জুলাই ২, ২০১৭, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে চিহ্নিত হামলাকারীরা গুলি ও বোমায় নিহত হয়েছিলেন বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশে নজিরবিহীন এই হামলার ঠিক এক বছর পর শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করে।
ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, “নিহত ছয়জনের প্রত্যেকের শরীরে গড়ে দুই থেকে তিনটি গুলির জখম পাওয়া গেছে। এছাড়া দুজনের শরীরে এবং একজনের বাম হাত ও গালে বোমার আঘাত রয়েছে।”
২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত পাঁচজনের সঙ্গে সন্দেহভাজন হিসেবে রেস্তোরাঁটির পাচক সাইফুল ইসলাম চৌকিদারের লাশও পাঠানো হয়েছিল ঢাকা মেডিকেলে।
চিহ্নিত হামলাকারীরা হলেন- নিবরাজ ইসলাম, খায়রুল ইসলাম পিয়াল, মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল।
ময়নাতদন্ত শেষে কিছু নমুনা রেখে দেওয়ার পর বেওয়ারিশ হিসেবে তাদের লাশ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।
হামলার আগে তারা কোনো উত্তেজক দ্রব্য নিয়েছিল কি না- জানতে চাইলে সোহেল মাহমুদ বলেন, “এ ধরনের কোনো ড্রাগ বা উত্তেজক পদার্থ নেয়ার প্রমাণ মেলেনি।”
নিহতদের মধ্যে তিনজন ঢাকার ধনী পরিবারের সন্তান ছিলেন। এদের মধ্যে নিবরাজ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। রোহান পড়তেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে। মোবাশ্বের স্কলাস্টিকার ছাত্র ছিলেন।
বাকি দুজন খায়রুল ও উজ্জ্বল বগুড়ার নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। এর মধ্যে খায়রুল পড়তেন মাদ্রাসায়।
গুলশান হামলার বার্ষিকীতে যখন হলি আর্টিজানে নিহতদের স্মরণ করা হচ্ছে, তখনই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেল মামলার ততন্তকারী কর্তৃপক্ষ কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।
এত দেরির কারণ জানতে চাইলে ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, বিদেশি সংস্থাগুলোর কিছু প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তারা।
“আমাদের কাছ থেকে এফবিআই ও ভারতের একটি সংস্থা কিছু নমুনা নিয়েছিল। আমরা সেগুলোর প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।”
কিন্তু ওই প্রতিবেদন পাওয়া না যাওয়ায় আর অপেক্ষা না করে গত বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “আজ তা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করেছি।”
এই জঙ্গি হামলায় নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন ভারতীয়, একজন ছিলেন বাংলাদেশি আমেরিকান। বাকিদের মধ্যে নয়জন ছিলেন ইতালির, সাতজন জাপানি।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ