হলি আর্টিজানে হামলার ছয় বছর জঙ্গিদমনে আরো কৌশলী পদক্ষেপ চাই

আপডেট: জুলাই ২, ২০২২, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ কাঁপানো রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য জঙ্গি হামলার ছয় বছর ১ জুলাই পালিত হয়েছে। ২০১৬ সালের এই দিনে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ও প্রায় ১২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস জিম্মিদশার ঘটনা স্তম্ভিত করেছিল পুরো জাতিকে। হলি আর্টিজানের ঘটনা সারা বিশ্বকেও নাড়া দেয়। বাংলাদেশ বিব্রতকর পরিস্থিতর মুখে পড়ে এবং দেশের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের সম্মুখিন হয়। এই পরিস্থিতে বাংলাদেশ নড়েচড়ে বসে। প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা রাজনৈতিক সদিচ্ছা-প্রসূত যা একটি দৃঢ় শপথের অবস্থান তৈরি করে। এর ফল নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। আর এটি সম্ভব হয়েছে বলেই স্পর্ধিত পদ্মাসেতুর অভিযাত্রার সূচনা হয়েছে। অব্যাহত উন্নয়নের গল্প চলমান রয়েছে। জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে এবং বিশ্বের দেশসমূহের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরেছে। বর্তমান সরকারের এ এক বড় ধরনের অর্জন- যা এমন অনেক দেশের জন্য আদর্শ-অনুসরয়ীয় বিবেচিত হচ্ছে।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী হলি আর্টিজান হামলার পর গত ছয় বছরে এক হাজারের বেশি অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ২ হাজার ৪১০ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। হলি আর্টিজান হামলা পরবর্তী ধারাবাহিক জঙ্গিবিরোধী অভিযানে বর্তমান প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় দেশে জঙ্গিবাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই মুহূর্তে বড় ধরনের কোনো জঙ্গি হামলার হুমকি ও আশঙ্কা নেই। হলি আর্টিজান হামলার পর জঙ্গিদের সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
আশার কথা যে, জঙ্গিবাদ দমনের ধারাবাহিকতা ধওে রাখা সম্ভব হয়েছে। সাইবার জগতে জঙ্গি কার্যক্রমের বিষয়ে নজরদারিও স্পষ্ট। জঙ্গিবাদ দমনে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেই জঙ্গিবাদ এখন তাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারছে না।
জঙ্গিদের সুপথে ফেরানো ও সচেতনতা কার্যক্রম কর্মসূচি কতটা এগুলো? এ ক্ষেত্রে কাজ করার ক্ষেত্রে আরো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোনোর সময় এসেছে। খুব বেশি সাফল্য আসেনি। র‌্যাব ডিজি শুক্রবার বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ১৬ জঙ্গিকে ডিরেডিকালাইজেশন করেছি। ১৬ জন জঙ্গিকে আত্মসমর্পণ করিয়েছি। তাদের সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি, যাতে করে তারা আবার জঙ্গিবাদে জড়িয়ে না পড়ে। আমরা এটা অব্যাহত রেখেছি।’
জঙ্গিবাদ পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষকরা বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে সহিংস তৎপরতা দেখা না গেলেও সমাজে উগ্রপন্থীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। সামাজিক শক্তিকে সক্রিয় করতে না পারলে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তি বা জঙ্গি মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো যাবে না। যদিও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে গঠিত বিশেষায়িত ইউনিট কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা বাইরে থাকা জঙ্গি ও জঙ্গি মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের ডি-র‌্যাডিক্যালাইজেশন বা সুপথে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছেন। ইতোমধ্যে ৪২টি জেলায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। একইসঙ্গে কারাগারে থাকা জঙ্গিদের সুপথে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রমও হাতে নেয়া হয়েছে।
কিন্তু সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের উপাদানগুলো যথেষ্টই আছে। ধর্মীয় অসহিষ্ণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা উদ্বেগের বটে। জঙ্গিবাদ সৃষ্টির আঁতুর ঘরের জায়গায় কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। শিশুদেও মানস জগতে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করার কারখানা ধ্বংস করা না গেলে টেকসই সমাধান আসবে বলে মনে হয় না। জঙ্গিবাদ দমনে এ বিষয়টিও সম্যক বিবেচনার দাবি রাখে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ