হাঁসের ভ্রাম্যমাণ খামারে সাবলম্বী সিংড়ার শতাধিক পরিবার

আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস



চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ভ্রাম্যমাণ খামারে হাঁস পালন করে সাবলম্বী হয়েছে শতাধিক পরিবার। বছরের পুরোটা সময় এসব পরিবার হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে। হাঁসের ডিম ও ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে তা বিক্রি করেই এসব পরিবার সাবলম্বী হচ্ছে। এক সময় এসব পরিবারের ছিল অভাব অনটন।  এখন তাদের সংসারে কোন অভাব নেই। ডিম বিক্রি করে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচও যোগান দেয়া হয় এসব পরিবারে। সিংড়া ছাড়া চলনবিলের তাড়াশ, চাটমোহর, গুরুদাসপুর উপজেলার অনেকেই এখন ভ্রাম্যমাণ হাঁস পালন করে সাবলম্বী হয়েছে।
সিংড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের অনেক পরিবার নিজ উদ্দ্যোগে ভ্রাম্যমাণ খামারে হাঁস পালন করে আসছেন। এই উপজেলার ডাহিয়া, আয়েশ, বিয়াশ, কালিনগর, সাতপুকুরিয়া, হিজলী, কান্তনগর গ্রামের অনেক পরিবার ভ্রাম্যমাণ খামারে হাঁস পালন করে সংসার চালাচ্ছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই বিলের অভ্যন্তরের গ্রামগুলোতে পতিত সরকারি জলা বা জমিতে ভ্রাম্যমাণ খামার করে হাঁস পালন শুরু করেন। কোন ধরনের সরকারি সহায়তা ছাড়াই তারা হাঁস পালন করে   সাবলম্বী হয়ে উঠছে। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে আরো অনেক পরিবার হাঁস পালনে আগ্রহী হয়ে উঠবে বলে জানান তারা।
সিংড়া উপজেলার বলিয়াবাড়ি গ্রামের আবদুল মালেক বলেন, চার বছর আগে তিনি স্থানীয় সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ভ্রাম্যমাণ খামারে হাঁস পালন শুরু করেন। সরকারিভাবে ঋনের আবেদন করেও কোন সহায়তা পাওয়া যায় নি। তিনি বলেন, একটি বাড়ি একটি খামারের উপকার ভোগিরা সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলেও তারা টাকা কাজে লাগান না । তিনি হাঁস পালন করে সংসার চালান। গতবছর কলেরা রোগে ১শ মতো হাঁস মরে যাওয়ায় তিনি লোকসানে পড়েন। তবে ডিম বিক্রি করে লোকসান পুষিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে তার ২০৮টি  হাঁস রয়েছে।  নাছিয়ারকান্দি গ্রামের আমজাদ হোসেন জানান, ৬ বছর থেকে হাঁস পালন করে আসছেন। বর্তমানে তার ৪শ টি রয়েছে। শুধু হাঁস পালন করেই সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে। কালিনগর গ্রামের আলেফ আলী জানান, তিনি প্রায় ১৫ বছর থেকে হাঁস পালন করে আসছেন। বিল এলাকায় হাঁস পালন একটি এটি লাভজনক ব্যবসা। তার বর্তমানে ৭০০টি হাঁস রয়েছে তার। প্রতিদিন তিন থেকে চারশ টি ডিম বিক্রি করেন তিনি। প্রতি একশ ডিম ৯শ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। হাঁসের খাবারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী ভাবে খামার স্থাপন করেছেন। প্রকৃতিগতভাবে খাবারের চাহিদা মেটানোয় খরচ কম হয়। শুধু পরিশ্রম বেশি হয়। তবে লাভ বেশি হচ্ছে। সরকারি সহায়তা পেলে বিল এলাকায় অনেকেই হাঁসের ভাম্যমাণ খামার করতেন।