হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষিত মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না থাকায় সরানো যাচ্ছে না উত্তরা গণভবনে কুখ্যাত মোনয়েম খানের স্মৃতিফলক

আপডেট: মার্চ ২৬, ২০১৭, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমতি না থাকায় নাটোরের ইতিহাসখ্যাত উত্তরা গণভবন থেকে সরানো যাচ্ছে না কুখ্যাত আবদুল মোনয়েম খানের স্মৃতিফলকটি। এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম অপসারণের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখনও অপসারণ করা হয় নি স্মৃতিফলকটি।
স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরেও ঐতিহাসিক উত্তরা গণভবনে এখনও বহাল তবিয়তে সংরক্ষিত রয়েছে এই স্মৃতিফলক। বঙ্গবন্ধুর নামের পাশে এমন একজন কুখ্যাত ব্যক্তির নাম থাকাটা বঙ্গবন্ধুকে অপমান করার শামিল বলে মনে করছেন নাটোরবাসী। অনতিবিলম্বে কুখ্যাত আবদুল মোনয়েম খানের স্মৃতি ফলকটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা যায়, রাজধানীর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র বাসভবন হলো নাটোরের ঐতিহাসিক উত্তরা গণভবন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর দিঘাপতিয়ার রাজা দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান। ১৯৫০ সালে জমিদারি ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হওয়ার পরে দিঘাপতিয়ার রাজ প্রাসাদটির রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন শুরু হলে দেশের উত্তরাঞ্চলকে হাতের মুঠোয় রাখতে ১৯৬৭ সালের ২৪ জুলাই দেশের দিঘাপতিয়া রাজবাড়িকে গভর্নর হাইজ হিসেবে ঘোষণা ও উদ্বোধন করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর কুখ্যাত আবদুল মোনয়েম খান। স্থাপন করা হয় মোনায়েম খানের স্মৃতিবিজড়িত ফলকটি। এখানে বসেই দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতেন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবুর রহমান এই গভর্নর হাউসকে উত্তরা গণভবন নামে উদ্বোধন করেন। সেসময় বঙ্গবন্ধুর নামাঙ্কিত আর একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়। সম্প্রতি হাইকোর্ট বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠান থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম অপসারণের নির্দেশ দেয়। তবে বঙ্গবন্ধুর নামের পাশে কুখ্যাত আবদুল মোনয়েম খানের স্মৃতি ফলকটি থাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামকে অসম্মান করার সামিল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কিন্তু সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তির স্মৃতিফলক অপসারণে হাইকোর্টের নির্দেশ থাকলেও শুধু প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না থাকায় উত্তরা গণভবন থেকে কুখ্যাত মোনায়েম খানের স্মৃতিফলকটি অপসারণ করা যাচ্ছে না বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়।
এ বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, মোনয়েম খানের নাম অপসারণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে স্মৃতিফলকটি অপসারণের সম্মতি পাওয়া যায় নি। তবে সম্মতি পাওয়া গেলেই এটি অপসারণ করা হবে।