হাইকোর্টের রিট উপেক্ষা করে তানোরে নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র প্রদান

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২২, ১১:২১ অপরাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি:


তানোরের তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রী কলেজে হাইকোর্টের রিট উপেক্ষা করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্র্রেণিতে বিভিন্ন পদে কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের প্রবেশপত্র প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে কলেজের অধ্যক্ষ বিষ্ণুপদ সরকার পিয়নের মাধ্যমে প্রার্থীদের এসব প্রবেশপত্র প্রদান করেছেন।

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এসে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত চেয়ে তানোর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর পিয়ারুল হক বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। এর অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর দাখিল করা হয়।

অভিযোগ ও হাইকোর্টে রিটের পিটিশনের কাগজপত্র ঘেঁটে জানা গেছে, কলেজ কমিটির সভাপতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জ্যেষ্ঠ ওই দুই পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করেন অধ্যক্ষ। ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেও গত ৮ এপ্রিল নিয়োগবোর্ড স্থগিত করা হয়। কিন্তু অনিয়ম করে গোপনে কলেজের পকেট কমিটি গঠন করেন অধ্যক্ষ। এতে স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর পিয়ারুল হকের পক্ষে কমিটির বৈধতা চালেঞ্জ করে গত ৩ আগস্ট অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল গোফরান দুলাল বাদী হয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন।

যার নম্বর- ৮৪৩২/২০২২। পরে গত ৭ আগস্ট শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মজিবর রহমান মিয়া ও কাজী মো. এজারুল আকন্দর দ্বৈত বেঞ্জ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে কলেজ কমিটিকে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন। মহামান্য হাইকোর্টের এমন নির্দেশনাকে অমান্য করে অতিগোপনে কলেজ অধ্যক্ষ বর্তমান সভাপতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জ্যেষ্ঠ ওই দুইপদে নিয়োগ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অধ্যক্ষ।

রিট দাখিলকারী সাবেক কাউন্সিলর পিয়ারুল হক বলেন, কলেজ কমিটির সভাপতির ভাতিজা তানোর উপজেলার তালন্দ মহল্লার বাসিন্দা দেবব্রুত মজুমদারের ছেলে দেবরাজ মজুমদারকে ল্যাব সহকারী (পদার্থ বিজ্ঞান) পদে ও কলেজের নির্বাহী সদস্য শিক্ষক আসলাম উদ্দিনের ভাতিজা গোকুল মহল্লার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ জনিকে গত ২২ আগস্ট রাজশাহী কলেজে নিয়োগ বোর্ড প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেন অধ্যক্ষ বিষ্ণুপদ সরকার। এহেন পরিস্থিতিতে কলেজ কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন তিনি। এমন রিট পিটিশনের খবরে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার আব্দুল খালেক তার কলেজে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করেন।

কাউন্সিলর অভিযোগে আরও জানান, তার পছন্দের প্রার্থীদের দ্বারা প্রভাবিত হন অধ্যক্ষ বিষ্ণুপদ সরকার। এবার তিনি নিয়োগ প্রদানে রাজশাহী সিটি কলেজ নিয়োগ বোর্ড হিসেবে ঠিক করেন। এখানে আজ শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় নিয়োগ নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় কথা রয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞ আদালতে চলমান মামলা নিষ্পত্তি ছাড়া কোন অবস্থায় নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণে প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারেন না অধ্যক্ষ।

অধ্যক্ষ বিষ্ণুপদ সরকার বলেন, মহামান্য হাইকোর্টে খোঁজ-খবর নিয়ে নিয়োগ নির্বাচনী পরীক্ষার প্রজ্ঞাপন আবারও জারী করা হয়েছে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ