হাইতিতে মিশনারি অপহরণ: জনপ্রতি ১০ লাখ ডলার মুক্তিপণ দাবি

আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০২১, ৬:৪০ অপরাহ্ণ

কয়েকদিন আগে রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছ থেকে এ মিশনারিদের অপহরণ করা হয়। ছবি: রয়টার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক:


হাইতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অপহৃত মিশনারিদের ছেড়ে দিতে মুক্তিপণ হিসেবে জনপ্রতি ১০ লাখ ডলার করে চেয়েছে অপহরণকারীরা।

এ হিসাবে অপরাধী ওই গোষ্ঠীটি অপহৃত ১৭ জন মিশনারীর জন্য মোট এক কোটি ৭০ লাখ ডলার দাবি করেছে বলে জানিয়েছেন ক্যারিবীয় দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

কয়েকদিন আগে রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছ থেকে এ মিশনারিদের অপহরণ করা হয়। তাদের ছাড়াতে ‘৪০০ মাওজো’ নামের ওই অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন হাইতির বিচারমন্ত্রী লেস্ট কুইটেল।
এ সময় মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, “তারা জনপ্রতি ১০ লাখ ডলার করে চাইছে।”

মিশনারিদের জন্য অপহরণকারীরা যে মুক্তিপণ চেয়েছে তা প্রথম জানায় ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
মঙ্গলবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপহরণকারীরা শনিবার প্রথমে ১৭ মিশনারি যে গোষ্ঠীর সদস্য সেই ক্রিশ্চিয়ান এইড মিনিস্ট্রিজকে ফোন করে এবং মুক্তিপণের বিষয়টি জানায়।

এফবিআই ও হাইতির পুলিশ অপহরণকারীদের সঙ্গে দরকষাকষিতে ক্রিশ্চিয়ান এইড মিনিস্ট্রিজকে পরামর্শ দিয়ে আসছে, বলেছেন কুইটেল।

মিশনারিরা অপহৃত হওয়ার পর থেকে ক্রিশ্চিয়ান এইড ও অপহরণকারদের মধ্যে কয়েকদফা ফোনালাপ হয়েছে বলেও তিনি সিএনএনকে জানিয়েছেন।

ওহাইওভিত্তিক ক্রিশ্চিয়ান এইড মিনিস্ট্রি ‘হাইতি ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক কর্তৃপক্ষ যারা সংকটময় পরিস্থিতির সমাধানে কাজ করছে’ তাদের জন্য প্রার্থনা করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

অপহৃত ১৭ জনের মধ্যে ১৬ জনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, একজন কানাডার। এ দলে ৫টি শিশুও রয়েছে, তাদের মধ্যে একজনের বয়স মাত্র ৮ মাস বলে জানিয়েছে ক্রিশ্চিয়ান এইড।

এদের সবাইকে রাজধানী থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে কোয়া-দে-বুকে নামের এক এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়; এলাকাটিতে অপরাধী গোষ্ঠী ‘৪০০ মাওজো’ বেশ প্রভাবশালী।

একুয়েডর সফরে যাওয়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন কুইটোতে সাংবাদিকদের বলেছেন, হাইতিতে মিশনারি অপহরণের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ‘ধারাবাহিকভাবে নজর’ রাখছে এবং হাইতির পুলিশ ও মিশনারিদের গির্জার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
১৭ মিশনারি যে এলাকা থেকে অপহৃত হয়েছেন, এপ্রিলে ওই একই এলাকা থেকে ৫ যাজক ও দুই নানকে অপহরণকারীরা তুলে নিয়ে গিয়েছিল, যাদের মধ্যে ফরাসী দুই নাগরিকও ছিলেন। ওই অপহৃতরা গত মাসের শেষদিকে ছাড়া পান।

যাজকদের মধ্যে দুইজনকে ছাড়াতে মুক্তিপণ দিতে হয়েছিল বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন কুইটেল।

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত হাইতিতে এখন অপহরণ নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই অন্তত ৬২৮টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে হাইতির অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর অ্যানালাইসিস অ্যান্ড রিসার্চ ইন হিউম্যান রাইটস (সিএআরডিএইচ)।

অপহরণ ও অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর দৌরাত্মের প্রতিবাদে সোমবার হাইতির নাগরিকরা দেশজুড়ে ধর্মঘটও করেছে। দেশটিতে গত কয়েক বছর ধরেই অপহরণের ঘটনা বাড়ছিল, জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট জোভেনেল ময়িস হত্যাকান্ডের পর পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ