হাকডাকে জমে উঠেছে ইদের কেনাকাটা স্বাস্থ্যবিধিতে ভ্রুক্ষেপ নেই

আপডেট: মে ৯, ২০২১, ১০:১৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


আসন্ন ইদুল ফিতরের শেষ সময়ে জমেছে ইদের কেনাকাটা। সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাবিক্রি। প্রিয়জনদের ইদ আনন্দ পরিপূর্ণ করতে সাধ্যের মধ্যেই কেনাকাটা করতে এ দোকান থেকে ওই দোকানে ঘুরছেন ক্রেতারা। শেষ সময়ে এসে মার্কেটগুলোতে প্রচুর ভিড় বেড়েছে। অথচ স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে ভ্রুক্ষেপ নেই কারো। মার্কেট কমিটির কোনো উদ্যোগ কিংবা প্রশাসনিক তৎপরতা কোনোটিই দেখা মিলছে না।
এবারের ইদ কেনাকাটায় নগরীর ফুটপাতের দোকানগুলোতে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি ক্রেতা সমাগম দেখা যাচ্ছে। তবে অন্যান্য সময়ের চেয়ে সেখানেও দাম বেশি হাকছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের প্রচুর ভিড় গেছে নগরীর সাহেববাজার আরডিএ মার্কেট, সাহেববাজার কাপড়পট্টি, গণকপাড়া হকার্স মার্কেট, নিউ মার্কেট ও কোর্ট বাজার এলাকায়। থিম ওমর প্লাজাসহ শপিংমলগুলোতেও ভিড় জমছে। আর এইসব মার্কেট এলাকাগুলোতে ক্ষুদ্র যাটজনও তৈরি হচ্ছে।
এবারও ফুটপাতসহ নগরীর মার্কেটগুলোতে রয়েছে বাহারি পোশাকের সমাহার। তবে অনেক দোকানেই তুলনামূলক নতুন কালেকশন কম। দোকানগুলোতে পাঞ্জাবি, গেঞ্জি, লুঙ্গি, শার্ট, প্যান্ট, সালোয়ার কামিজ, ওড়না, শাড়ির বাহারি ডিজাইন নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। তবে দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়য়ের।
ক্রেতারা বলছেন, লকডাউনের অজুহাতে দোকানিরা পণ্যের দাম বেশি হাকছেন। বেশি নিচ্ছেনও। মার্কেটগুলোতে নি¤œবিত্তদের জন্য যেন পোশাকই নেই। অন্যান্য সময়ের চেয়ে প্রায় প্রতিটি পণ্যে ৫০Ñ ১০০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। অনেকেই দাম দরে না পোষালে ফুটপাতের দোকানগুলোতে যাচ্ছেন। কিন্তু সেখানেই নেই স্বস্তির বার্তা।
নগরীর আরডিএ মার্কেটে পোশাক কিনতে এসেছিলেন আরজিয়া বেগম। তিনি জানান, লকডাউনের মধ্যে তার পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা নজুক হয়ে পড়েছে। কিন্তু বছরের একটা দিন। ছোট ছোট ছেলে মেয়ে আছে। মূলত তাদের জন্যই কেনাকাটা করা। কিন্তু মার্কেটে দরদাম করেও সাধ্যের মধ্যে পছন্দের জিনিস পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে।
অপরদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার মধ্যে সাধারণ মানুষের আয় কমেছে। অধিকাংশ ক্রেতাই পণ্যের দাম কম বলছেন। অনেকে কেনা দামও বলছেন না। অথচ তাদের অন্য আরো খরচ আছে। তবে আশার কথা হলো গতকয়েক দিন থেকে তাদের বেচাকেনা বেড়েছে। ইদের আগ পর্যন্ত এভাবে বিক্রি হলে তারা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন।
ফুটপাত ব্যবসায়ী আসগর জানান, প্রথমে লকডাউন থাকায় বেচাকেনা হয়নি। এখন বেচাবিক্রি বেড়েছে। এভাবে বেচাবিক্রি হলে তারা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
এদিকে, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে শর্তসাপেক্ষে দোকান খোলার অনুমতি দেয়া হলেও সে বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। মার্কেটগুলোতে কয়েকজন পুলিশ ও আনসার সদস্যের উপস্থিতি থাকলেও তারা গল্প আড্ডায় অলস সময় পার করছেন। মার্কেট কমিটির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের তৎপরতার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা দেখা মিলছে না।
রোববার (৯ মে) বিকেলে আরডিএ মার্কেটের সামনে প্রচুর ভির দেখা যায়। সেখানে গাদাগাদি করে যাতায়াত করছেন পথচারীরা। ক্রেতারাও গাদাগাদি করে কেনাকাটা করছেন। মূল ফটকের সামনে দু’জন আনসার সদস্য ও একজন মার্কেট কমিটির অফিস স্টাফকে বসে থাকতে দেখা যায়।
আনসার সদস্যরা এবং অফিস স্টাফ আবুল হাসান জানান, ভিড় বাড়তে থাকায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে মাস্ক পরতে বলা হচ্ছে। মূল ফটকের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগের মতোই তৎপরতা চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে তারা সক্রিয় আছেন।