হাজারো কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখছেন রাজশাহীর উদ্যোক্তা খাইরুল

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

ফ্লিট বাংলাদেশ -এর প্রধান নির্বাহী খাইরুল আলম

সোনার দেশ ডেস্ক:


দেশের তরুণরা যখন কর্মসংস্থানের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত, সে সময় নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে আরো হাজারো তরুণের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা করছেন রাজশাহীর এক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। দেড় দশকের পরিশ্রমে এই খাতে নিজের শক্ত অবস্থান বানিয়ে নিয়েছেন রাজশাহীর খাইরুল আলম। এক সময় বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে নিজেকে তৈরি তরে নেওয়া এই তরুণের সম্ভবত সবচেয়ে বড় পেশাদারী পরিচয় তিনি ‘ফ্লিট বাংলাদেশ’-এর প্রধান নির্বাহী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অ্যামাজন, ইবে এবং ওয়ালমার্টের মতো প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি নিজস্ব সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সফটওয়্যার সেবাও দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

খাইরুল আলমের সঙ্গে আলাপচারিতা হলো রাজশাহীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্কে অবস্থিত ফ্লিট বাংলাদেশ-এর কার্যালয়ে। সে আলাপেই কয়েক মাসের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানের কর্মী সংখ্যা পাঁচশ থেকে বাড়িয়ে দুই হাজারে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানালেন খাইরুল। প্রতি মাসেই পঞ্চাশ থেকে একশ’ কর্মীকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার কথা জানালেন তিনি, অদক্ষ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিলেও কাজের দক্ষতা বিবেচনায় পরবর্তীতে তাদের স্থায়ী নিয়োগ দেবে তার প্রতিষ্ঠান।

‘নভেম্বর মাসের মধ্যে দুই হাজার কর্মীর কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা আছে আমাদের। আমাদের অ্যাপভিত্তিক কাজ চলছে, রাজশাহীতে একটি অ্যাপের পাইলট প্রকল্প চলছে, নতুন কর্মীদের সবাইকেই এই সফটওয়্যারভিত্তিক কাজগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবো আমি।’- নতুন কর্মীরা কোন খাতে কাজ করবেন সে প্রশ্নের জবাবে এমনটাই বললেন খাইরুল।

মাত্র ১০ জন কর্মী নিয়ে প্রতিষ্ঠানের শুরু করে সেখান থেকে এতো পরিসরে কী ভাবে এলেন তিনি? এতো বড় কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার সাহসটাই বা পেলেন কীভাবে?

খাইরুল বললেন, ‘শুরুর এক সপ্তাহের মাথায় ক্লায়েন্ট যখন আমাকে দুই হাজার ডলার পাঠায়, সেখান থেকেই আমার এই চিন্তার শুরু। যেহেতু নিয়মিত টাকা আসছে, আমি কেন আরো কর্মী নিতে পারবো না? এভাবেই আমার কর্মী সংখ্যা বেড়ে পৌঁছায় তিনশতে। তারপর এভাবেই বাড়ছে আমার কর্মী সংখ্যা।’

কিন্তু গল্পের পুরোটা সবসময় এমন ইতিবাচক ছিল না। আশাভঙ্গ হয়েছে কয়েকবার। এর মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং জীবনের শুরু একটি অভিজ্ঞতা বললেন এই উদ্যোক্তা।

‘ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আমার শুরু ‘ফ্রিল্যান্সার ডটকম’ থেকে। সে সময় কে ভেরিফায়েড ক্লায়েন্ট আর কে নয়, সে বিষয়েও পরিষ্কার ধারণা ছিল না। তারপর ফ্রিল্যান্সার ডটকমে আমি দুইশ ডলারের একটা কাজ পাই, কাজটা তিন দিনেই শেষ করেছিলাম আমি।

এরপর ক্লায়েন্টকে যে যখন বলি যে আমার কাজ শেষ, তুমি পেমেন্ট করে দাও, সে আমাকে ব্লক করে দেয়। তখন আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে আমার ক্লায়েন্ট আনভেরিফায়েড বায়ার ছিল। তখন আমার শিক্ষা হয় যে আনভেরিফায়েড বায়ারের সঙ্গে কাজ করা যাবে না।

খাইরুল ফ্রিল্যান্সিং জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন আর্থিক প্রয়োজন থেকেই। সে সময় অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন বিটিভির এক অনুষ্ঠান থেকে। “ছাত্র থাকা অবস্থাতেই আমি টিউশনি করাতাম। টিউশনির টাকা দিয়ে আসলে প্রয়োজন মিটতো না। তখন আমি অনলাইনে সার্চ করা শুরু করি যে কী ভাবে আয় করা যায়। আর ২০০৫ সালে আমি বিটিভিতে মোস্তাফা জব্বার স্যারের একটা অনুষ্ঠানে দেখি যে মানুষ সফটওয়্যার বানিয়ে, ইন্টারনেটে নানা কাজ করে টাকা কামাচ্ছে।

সেটাই আমার জন্য বড় অনুপ্রেরণা ছিল।” অথচ নিজের প্রথম কাজের জন্য কম্পিউটার কিনেছিলেন ছাত্রের মায়ের কাছ থেকে চার হাজার টাকা ধার করে। এর পরের পথটাও সহজ ছিল না তার। দক্ষ কর্মীর অভাবে বোধ করেছেন বিভিন্ন সময়ে। তাই কর্মীদের দক্ষ করে তোলার দায়ভারও যেন চেপেছিল তার ঘাড়েই। “যখন দক্ষ কর্মী ছিল না, আমি রাত দিন কাজ করে কর্মীদের দক্ষ করে গড়ে তুলি। এখন আমাদের পাঁচশর বেশি কর্মী আছেন।

আর সব যদি ঠিক থাকে তাহলে হয়তো কয়েক মাসের মধ্যেই কর্মী সংখ্যা দুই হাজারে নিতে পারবো।”– যোগ করেন খাইরুল। ফিল্যান্সিং খাতে উদ্যোক্তা হতে আগ্রহীদের লম্বা সময়ের পরিকল্পনা নিয়ে লেগে থাকার পরামর্শ দিলেন খাইরুল। “ফ্রিল্যান্সিং আসলে সহজ কিছু নয়। মন থেকে বিশ্বাস থাকতে হবে যে আমি কিছু করতে চাই। কাজের প্রতি লেগে থাকতে হবে। আমি মনে করি অন্তত তিন থেকে পাঁচ বছর লেগে থাকলে তবেই আপনি সাফল্যের দেখা পাবেন।”- বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ