হাটবাজার, রাস্তায় লোকসমাগম কঠোর বিধিনিষেধ বোঝার উপায় নেই!

আপডেট: জুলাই ৩১, ২০২১, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাসের তিব্রগতির সংক্রমণ রুখতে দেশব্যাপি কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউন চলছে। ইদুল আজহার পর ২৩ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে এ পর্যায়ের বিধিনিষেধ- চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। ধারণা করা হচ্ছিল এবারের লকডাউন খুবই কঠোর হবে। সে মোতাবেক মাঠে প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও সেনাবাহিনির সদস্যরা টহল দিচ্ছেন কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করা যায়নি। নানা অজুহাতে মানুষ বাইরে বের হয়েছে শুধু নয় স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও উপেক্ষিত হয়েছে। বিধিনিষেধের সপ্তম দিনে ট্রেন ও দূরপাল্লার বাস চলাচল ছাড়া অন্য যানবাহন চলাচল বেশ বেড়েছে। হাট-বাজারে কিংবা রাস্তায় মানুষের সমাগম ও চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদের তথ্য অনুযায়ী নগরীর কোথাও কোথাও যানবাহনের জটলা বাঁধছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনি যে সব স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছে সেগুলোকে কৌশলে কাটিয়ে রিক্সা ও ব্যাটারিচালিত অটো চলাচল করছে। সন্ধ্যার পর এলাকার মোড়ে মোড়ে আড্ডাও জমছে। করোনা ভয়ঙ্কররূপে চোখ রাঙালেও মানুষের মধ্যে সচেতনতার বা দায়িত্ববোধের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন স্বেচ্ছাচারিতা চলতে থাকলে সঙ্কট আরো ঘণীভুত হওয়ার আশংকা আছে।
এমনিতেই গেল দুই ইদে যচ্ছেতাইভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে। এর ফল যে মোটেও ভাল হয় নি তা সহজেই অনুমেয় হচ্ছে। অর্থাৎ করোনা সংক্রমণ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত ইদুল ফিতরের পরেই করোনা সংক্রমণের হার দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে।
সন্দেহ নেই বিশ্বব্যাপি লকডাউন কার্যকরি পন্থা হিসেবেই প্রমাণ হয়েছে। কিন্তু বিধিনিষেধের বিষয়টি যদি উপেক্ষিত হয় তা হলে কাক্সিক্ষত সাফল্য পাওয়া যাবে না। যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অতি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়বোধ নিতে চাচ্ছেন না। এর ফলে বিধিনিষেধ জারি করেও কাক্সিক্ষত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। এমন অভদ্র ও অযাচিত মানসিকতাও লক্ষ্য করা যায় যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনির সদস্যদের ফাঁকি দেয়াটা একটা খেলার মত করে অনেকেই ভাবছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনির সদস্যদের মধ্যেও একটু ঢিলেমি ভাব লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু যারা অযাচিতভাবে বাড়ির বাইরে আসছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়াই বাঞ্ছনীয়। কঠোর বিধিনিষেধ মূলত কঠোর না হলে সেটা যে মান্য হবে না তা হাট-বাজার, রাস্তার লোকসমাগম দেখলেই বুঝতে অসুবিধে হয় না। এই পরিস্থিতি উন্নতি হওয়া দরকার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ