হাটে ভারতীয় গরু ?

আপডেট: জুন ২৮, ২০২২, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


সিটি হাটে কোরবারনির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহে ঘাটতি নেই। দেশি গরু-ছাগল দিয়েই কোরবানি চাহিদা মেটানো সম্ভব বলেই বলছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। কিন্তু হাটে দেশি গরুর সাথে ভারতীয় বোল্ডার গরুও দেখা মিলছে। তবে হাট ইজারাদারের দাবি এই গরুগুলো কিছুদিন আগে কেনা। বাড়ি বা খামারে লালনপান করে হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুন) হাটবার এর তুলনায় ক্রেতা-বিক্রেতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ক্রেতাদের দাবি কোরবানির গরুর দাম বেশি চাচ্ছে খামারি ও ব্যবসায়ীরা। বিক্রেতাদের দাবি তুলনামূলক দাম নাগালের মধ্যেই রয়েছে। রোববার (২৬ জুন) দুপুরে রাজশাহী সিটি হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

খামারি ও ব্যবসায়ীরা জানায়- কোরবানির ইদের প্রায় দু’সপ্তা বাকি। হাটে অল্প সংখ্যক বাইরের ব্যাপারিরা (ব্যবসায়ী) রয়েছেন। তারাও বেশি গরু কিনছেন না। এখনও এলাকা পর্যায়ের কোরবানির জন্য গরু কেনা শুরু হয়নি।

পবার গরু ব্যবসায়ী খোকন জানায়, ‘বেচাকেনা কম। হাটে ২৬ থেকে ৩০ হাজার টাকা মণ ধরে মানুষ গরু কিনছেন। তবে গতবারের তুলনায় এবার মণে প্রায় ১০ হাজার টাকা বেশিতে গরু কিনতে হবে।’

হাটে ভারতীয় ভারতীয় গরু প্রসঙ্গে এই ব্যবসায়ী জানান, ‘হালকা-পাতলা গরু আসছে’ বলে স্থান ত্যাগে উদ্যোত হন। পুনরায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাটে ভারতীয় গরু নেই।’ রঙ দিয়ে নম্বর দেওয়া গরুগুলো কী ভারতের? এমন কথার উত্তরে তিনি বলেন, আগে ছিল। তবে এক থেকে দেড় মাস আগে ব্যবসায়ী বা খামারিরা এই গরুগুলো কিনেছেন। তাদের বাড়িতে লালন-পালন করা এসব গরু।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দু’জন হাটের রাখাল জানায়, গায়ে রঙ দিয়ে নম্বর দেওয় বোল্ডারগুলো ভারতের হতে পারে। কারণ ভারতীয় বোল্ডারে রঙ দিয়ে নম্বর দেওয়া হয়। এটা সবাই জানে।

অন্যদিকে, ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম এদিন হাটে ১২টি গরু নিয়ে এসেছেন। এরমধ্যে চারটি গরু বিক্রি করেছেন তিনি। তাতে তিনি তেমন খুশি নন। কারণ তার দাবি- গরু বেচে দড়ি খালাস করেছেন তিনি। দুপুর দেড়টার দিকে এই ব্যবসায়ী জানান, গত হাটের তুলনায় এবার হাটে ক্রেতা কিছুটা বেশি। গরুর তুলনামূলক আমদানি ভালো। হাটে দেশি গরু পর্যাপ্ত রয়েছে। আগামি হাটগুলো থেকে জমতে পারে কোরবানির কেনাবেচা বলে তিনি ধারণা করেন।

তিনি আরো বলেন, শুনেছি করোনা বাড়ছে। আগে থেকেই বন্যায় ভাসছে দেশের সিলেট ও সুনামগঞ্জ। ওই এলাকার ব্যাপারিরা এবার হাটে নেই বললেই চলে। বন্যার প্রভাব পড়েছে হাটে। ওই সব এলাকার বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। আশা করছি, আগামি হাটে ঢাকাসহ অন্য বিভাগের ব্যাপারিরা হাটে আসবেন। এছাড়া এলাকা ভিত্তিক কোরবানির ভাগা দেওয়া মানুষগুলোও এখনও ঠিকঠাক আসছেন না। তারা আসলে জমবে পশুহাট।

গরু ব্যবসায়ী জুলমত আলী জানান, গরু লালন-পালন করতে সবই কেনা পড়ে। গরুর বিভিন্ন খাবারে গত বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা। একটি গরু দিনে দুইকেজি খাবার খায়। কারো ৫টি গরু থাকলে ১০ কেজি খাবার লাগবে। তাতে গড়ে ২০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এতে করেই বেড়েছে খরচ।

তিনি আরো বলেন, গত কোরবানিতে ক্রেতারা হাটে ২২ থেকে ২৬ হাজার টাকা মণ টার্গেটে গরু কিনেছিলেন। এবছর সবকিছুর সাথে বেড়েছে গরু ও মাংসের দাম। তাই ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা মণ টার্গেটে মানুষকে কোরবানির গরু কিনতে হবে।

অন্যদিকে, ইদের দেরি থাকায় অনেকেই হাট বেড়াতে এসেছেন। নাজমুল ইসলাম তেমনই একজন। তিনি জানান, আগে কিনলে বাড়িতে গরু রাখার জায়গা নিয়ে সমস্যা হয়। এছাড়া অন্য ভাগিদাররাও এতো আগে গরু কেনায় মত দিচ্ছেনা। তবে দামটা একটু কমই মনে হলো।

ক্রেতা রমজান আলী জানান, কোরবানি ইদের বেশি সময় নেই। প্রতিবছর কমপক্ষে ১৫ দিন আগেই গরু কিনি। বাড়িতে লালন-পালন করি। এর পরে কোরবানি দেই। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ১ লাখ ১৬ হাজার টাকায় গরু কিনেছি, সাত ভাগায় কোরবানির জন্য। তিনি আরো বলেন, হাটে বেচাকেনা কম মনে হলো। তার পরেও গরুর মালিকরা দামে ছাড় দিচ্ছেন না। তাদের ধারণা ইদের দু’সপ্তা বাকি আছে। বেশি দামের আশায় তারা গরু বিক্রি করছেন নাা।
সিটি হাটের ইজারাদার ফারুক হোসেন ডাবলু জানান, ‘হাটে গরু কেনাবেচা কম। হাটে ভারতীয় গরু একটাও নেই।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ