হাতের ওপর হাতের পরশ রেখে মৃত্যু

আপডেট: জানুয়ারি ৩, ২০১৭, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



কোনো এক বৃদ্ধ যুগলের বিবাহবার্ষিকীতে প্রশ্ন করা হয় তাদের এই দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের রহস্য কী? তারা বলেন, আমরা এমন এক যুগের মানুষ, যখন কোনো কিছু ভেঙে গেলে তা জোড়া দিয়ে ব্যবহার করা হতো।
অথচ এখনকার সম্পর্কগুলো ঠুনকো শাঁখার মতো। যা একটু আঘাতেই ভেঙে যায়, তবে তা আর জোড়া লাগে না। কেউ লাগানোর চেষ্টাও করেন না।
আমরা আজ কথা বলব যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির এমন এক যুগলকে নিয়ে, যারা তাদের জীবনের ৬৪ বছর পার করেছেন একই সঙ্গে। এবং মৃত্যু পথেও পা বাড়িয়েছেন একই দিনে।
ট্রেন্ট ও ডলরাসের দেখা হয় ১৯৫০ সালে টেনেসিতে। ট্রেন্ট কোরিয়া যুদ্ধ থেকে ফেরার পর তারা বিয়ে করেন। একসঙ্গে সংসার করেন প্রায় ৬৪ বছর।
৮৮ বছর বয়সি ট্রেন্ট যখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কিডনি ফেইলিউরের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, হাসপাতালে তার পাশে থাকা সুস্থসবল স্ত্রী ৮৩ বছর বয়সি ডলরাস ঠিক তার দুদিন পরেই মাথাব্যথার অভিযোগ করেন। সেদিন রাতেই ডলরাসের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তাকে পাশের রুমে রাখা হয়।
প্রিয় স্ত্রীর জন্য মুহূর্তে মুহূর্তে উদ্বিগ্ন হতে থাকেন ট্রেন্ট। এ ঘটনা দেখে হাসপাতালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চিকিৎসকরা একই রুমে এই দম্পতিকে রাখেন এবং তাদের বিছানাও পরস্পরের পাশে নিয়ে আসেন। জীবনের শেষ সময়টায় এই দম্পতি একে অপরের হাত ধরে ছিলেন।
ডলরাস প্রথমে মারা যান। এবং এই সংবাদ পাওয়ামাত্র ট্রেন্ট তার দিকে একটি উড়ন্ত চুম্বন ছুড়ে দেন। ঠিক তার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ট্রেন্টের মৃত্যু হয়।
তাদের মেয়ে বলেন, ‘বাবা আসলে একটি ভাঙা হৃদয় নিয়ে মারা গেলেন। এটি আমাদের জন্য দুঃখজনক যে আমরা একই দিনে তাদের দুজনকে একই সঙ্গে হারালাম আর তাদের জন্য সুখ যে তারা একসঙ্গে না ফেরার দেশে চলে গেলেন।’ রাইজিংবিডি

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ