হারিয়ে যচ্ছে ফেরিওয়ালা

আপডেট: এপ্রিল ৫, ২০১৭, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

নজরুল ইসলাম বাচ্চু, চারঘাট



দুপুরের পরপর যখন অন্দর মহলের নারীরা মধ্যাহ্নভোজ সেরে উঠানের আড্ডার জন্য প্রস্তুত, তখন রাস্তা দিয়ে হেঁকে যেতো ফেরিওয়ালা। লে-ই-ছ ফিতা, লে-ইছ- সেই ডাক শুনে খুকুমনিদের বায়না ধরতো ফিতা-চুড়ির কিংবা নেইল পলিশের। নারী বরাবরই প্রসাধনপ্রিয়, খুকুমনির আবদারে খুকুমনির মায়েরও দেখতে ইচ্ছে করতো, কি আছে ফেরিওয়ালার বাক্সে। এটা থেকে ওটা পরখ করে নারীরা কিনে নিতেন স্নো, ক্রিম বা কদুর তেল।
খুকুমনির কাঁধঝোলানো চুলে বেঁধে দিতেন লাল টুকটুকে ফিতা। আধুনিক সভ্যতা কেড়ে নিয়েছে সেই লেইসফিতা বা ফেরিওয়ালাদের বিচরণ। খুকুমনিরাও আজকাল আর লাল ফিতার বায়না ধরে না। তাই সচরাচর আর চোখে পড়ে না কাগজের কার্টনের উপর সাদা অথবা লাল কাপড় পেঁচিয়ে পুঁটলি কাধে ঝুলিয়ে আরেক হাতে কাচের ঢাকনাওয়ালা বাক্স বহনকারী লেইছফিতাওয়ালাদের। শ্রম দিয়ে ফেরি করে লাভবান হওয়া যায় না বলে ব্যবসায়ীরা এই ব্যবসা থেকে আগ্রহ হারাচ্ছে।
লেইস-ফিতাওয়ালারা একবারেই যে হারিয়ে গেছেন সে ঠিক নয়। তবে শহরের যান্ত্রিকতার ভিড়ে তাদের দেখা মেলাভার। কঠোর শ্রমের বাক্সবন্দি ব্যবসার চেয়ে অনেকে দোকান খুলে কিংবা অন্য ব্যবসার দিকে ঝুঁকে গেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে মফস্বল কিংবা গ্রামের পথে লেইস-ফিতাওয়ালাদের দর্শন মিলে কদাচিৎ। চারঘাট উপজেলার মোক্তারপুর গ্রামের বধু স্বর্ণ বলেন, ছোটবেলায় লেইস ফিতাওয়ালা ছিল আমার শপিংমল! লে-ই-স ফিতা ডাক শুনলেই মাথা খারাপ হয়ে যেত। দিনগুলো সত্যি অনেক ভালো ছিল। এখনো তাদের সেই ডাক শুনতে ইচ্ছে করে।
সারদা এলাকায় লেইসফিতাওয়ালা জমসেদ জানান, এখন আর আগের মতো ব্যবসা নেই। সব জায়গায় দোকানগুলোতে নানারকম প্রসাধণ সামগ্রী আর সাজসজ্জার জিনিস পাওয়া যায়। যাতায়াত সুবিধা ভালো থাকায় সবাই মার্কেট চলে যান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ