হারিয়ে যাচ্ছে আব্দুর রহমান বয়াতীর গান

আপডেট: নভেম্বর ২২, ২০১৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে লোকগানের প্রসিদ্ধ শিল্পী আবদুর রহমান বয়াতির গান ও তার স্মৃতি চিহ্ণ। হাজারও লোকগানের স্রষ্টা, ‘মন আমার দেহ ঘড়ি’খ্যাত এ শিল্পীর গান ও তার স্মৃতি রক্ষায় প্রয়োজনে জাদুঘর স্থাপনসহ বয়াতির স্বপ্নপূরণে বাউল ফাউন্ডেশন করারও দাবি জানিয়েছে বয়াতীর পরিবার।
গতকাল রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমীতে আয়োজিত এই লোকশিল্পীর ৮০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রহমান বয়াতীর ছেলে আলম বয়াতী।
আব্দুর রহমান বয়াতির জন্মদিন উপলক্ষে সোমবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও একতা বাউল শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যশালা মিলনায়তনে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। বিশেষ অতিথি ছিলেন গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়জী, কেরাণীগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ, বাউলশিল্পী আলম দেওয়ান ও শেফালী ঘোষ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বয়াতির জন্মদিন উপলক্ষে কাঙ্গালিনী সুফিয়ার গাওয়া ‘ভুলি ভুলি মনে করি’ শিরোনামের একটি গানের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। রহমান বয়াতির কথায় গানটিতে সুরারোপ করেছেন মুরাদ নূর। এটি প্রকাশিত হয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিএমভির ব্যানারে।
অনুষ্ঠান শেষে আলম বয়াতী গ্লিটজকে বলেন, “আমার বাবার স্বপ্ন ছিলো বাউলদের জন্য তিনি কিছু করবেন। বাবার যখন তুমুল জনপ্রিয়তার সময় ছিলো, তখন বাউলরা বাবার কাছে এসে এ আর্জি জানাতেন। বাবাও চেষ্টা করেছিলেন। তার উদ্যোগেই বাংলাদেশ বাউল সমিতির রেজিস্ট্রেশন করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দাবি, আমার বাবার স্মরণে দেশের বাউলদের জন্য একটি জমি বরাদ্দ দেয়া হোক, সেখানে একটা ঘর তুলে দেয়া হোক, যাতে বাউলরা স্বাধীনভাবে তাদের চর্চা চালিয়ে যেতে পারে।”
পল্লীগীতি, জারি, মুর্শিদি, ভাওয়াইয়া, দেহতত্ত্ব, লালন, হাছনসহ বিভিন্ন ধরনের গান গাইতেন রহমান বয়াতী। একইসঙ্গে গীতিকার, সুরকার ও সংগীতপরিচালকও ছিলেন তিনি। প্রায় পাঁচশতাধিক অ্যালবামও প্রকাশিত হয় তার। এর মধ্যে তিনশর অধিক অ্যালবাম জারি গানের। বর্তমানে যার অধিকাংশই হারিয়ে গেছে বলে জানান তার পুত্র আলম বয়াতী।
অবশিষ্ট গানগুলো ক্যাসেট ও সিডিতে সংরক্ষণ করে রাখার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, “সংরক্ষণের অভাবে বাবার গানগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ক্যাসেট কোম্পানীর কাছে ওনার গানগুলো আছে। আমি তা উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত প্রায় শতিনেক গান আমি ক্যাসেটে ও সিডিতে সংরক্ষণ করতে পেরেছি। আমি চাই তার গানগুলো নতুন করে নতুন প্রজন্ম শুনুক।” সরকারের কাছে আলম বয়াতীর আবেদন পিতার নামে স্মৃতিজাদুঘর করা হোক।
তিনি বলেন, “উনার গান, বাদ্যযন্ত্র, দেশে বিদেশে প্রাপ্ত পদক ও ছবিগুলো সেখানে সংরক্ষণ করতে চাই আমরা। সরকার যদি বাউল ফাউন্ডেশনের জন্য জমি দেয়, আমার স্বপ্ন ওইখানে বাবার নামে একটা জাদুঘর করার।” আলম বয়াতীর দাবির প্রতি সরকারের সমর্থন রয়েছে জানিয়ে নসরুল হামিদ বিপু বলেন, “আমি আপনাদের সাথে আছি। বয়াতির ফাউন্ডেশন তৈরির জন্য আমার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। আশা করি আরও অনেকেই এগিয়ে আসবেন।” ২০১৩ সালের ১৯ আগস্ট ৭৪বছর বয়সে মারা যান আবদুর রহমান বয়াতী। শুধু দেশের মাটিতেই নয় জীবদ্দশায় বিশ্বের মোট ৩২টি দেশে গান করেছেন এই বাউল।-বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ