হারিয়ে যাচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব সংস্কৃতি

আপডেট: এপ্রিল ১, ২০১৭, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

এম সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপুর



কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসীদের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব সংস্কৃতি। সরকারিভাবে বরেন্দ্র অঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসীদের সংখ্যার সঠিক কোন পরিসংখ্যান না পাওয়া গেলেও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাব মতে বরেন্দ্র অঞ্চলের নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ১৫ লাখ আদিবাসী বসবাস করছে।
এ অঞ্চলে বর্তমানে উড়াও, সাঁওতাল, পাহান, মালো, মাহালী, মুন্ডা, মইশরসহ প্রায় ৩৬টি আদিবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে। এদের প্রত্যেকেরই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব সংস্কৃতি। অন্যভাবে বলতে গেলে এই আদিবাসীরাই প্রাচীন সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। কিন্তু নানা কারণে হারিয়ে যাচ্ছে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব সংস্কৃতি। এজন্য আদিবাসীরাও দায়ী বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন আদিবাসী নেতারা।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সবিন মুন্ডা অভিযোগ করে বলেন, আদিবাসীদের মধ্যে যারা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছেন, তারা নিজেরাই ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে মূলধারার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। তারা অনেক সময় নিজেদের আদিবাসী বলে পরিচয় দিতেও সংকোচ বোধ করেন। এ কারণে আদিবাসীদের সংস্কৃতির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আদিবাসীরা কারামপূজা, সহরাইপূজা, বাহা উৎসব, ফাগুয়া উৎসব পালন করে থাকে। এসব উৎসবে আদিবাসীরা আগে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নিজস্ব ভাষায় গান ও নৃত্য পরিবেশন করতো। কিন্ত বর্তমানে আদিবাসীদের অভাব অনটনের কারণে এ উৎসবগুলো তেমনভাবে পালন করতে পারছে না। এছাড়া অনেক স্থানে আদিবাসী পল্লির আসেপাশে অ-আদিবসীদের বসতি গড়ে উঠায় তারা আগের মতো স্বাধীনভাবে নিজেদের সাংস্কৃতিক উৎসবগুলো পালন করতে পারছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আদিবাসীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা সংগঠন আদিবাসী উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক দিপংকর লাকড়া বলেন, আমাদের দেশের বৈচিত্রময় সংস্কৃতির ধারা অব্যাহত রাখার জন্য আদিবাসীদের নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষার জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে মহাদেবপুর-বদলগাছী আসনের সাংসদ ছলিম উদ্দীন তফরদার সেলিম বলেন, বর্তমান বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আদিবাসীদের নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষায় আদিবাসী অধ্যাশিত এলাকায় আদিবাসী গবেষণা ইন্সিটিটিউট তৈরি, বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, হরিজন ভাতা, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আদিবাসীদের স্বনির্ভর করতে রিক্সা-ভ্যান প্রদান, সরকারি চাকরির ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কোটাসহ তাদের উন্নয়নে নানাবিদ উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে পাহাড়ী ও সমতলের আদিবাসিদের সুযোগ-সুবিধা সমান হলে এ অঞ্চলের আদিবাসিদের উন্নয়ন দ্রুত তরান্নিত হবে বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ