হার্টের রিং

আপডেট: ডিসেম্বর ২২, ২০২৩, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

ন্যায্য দাম নিশ্চিত ও সরবরাহে জটিলতা দূর করতে হবে

হার্টের চিকিৎসায় করোনারি স্টেন্ট (হার্টের রিং) জীবন রক্ষাকারী একটি অপরিহার্য উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্পতি গত ১২ ডিসেম্বর ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফের স্বাক্ষর করা এক আদেশে ২৭টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্টেন্টের দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। স্টেন্ট আমদানি প্রতিষ্ঠানভেদে খুচরা মূল্য সর্বনিম্ন ১৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্য নিয়েই চলছে তুঘলকি কান্ড। মূল্য নির্ধারণে জাতীয় নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি এমন অজুহাতে ২৪টি কোম্পানির হার্টেও স্টেন্ট (রিং) বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলে জানা গেছে। যেটি অমানবিক ও মানবাধিকারের লঙ্ঘনও। মানুষের জীবন রক্ষাকারী উপাদান নিয়ে সিন্ডিকেটের অপকৌশল কখনোই

গ্রহণযোগ্য নয়। পুনরায় মূল্য সমন্বয় না হলে ওই সিদ্ধান্তেই থাকবেন বলে হুমকি দেয়া হয়েছে। তারা বলেছেন, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরসহ নিয়মিত হৃদরোগের অস্ত্রোপচার হয় এমন হাসপাতালেও তারা চিঠি ও ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে দেবেন। জীবনরক্ষাকারী এ চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট হলে অসংখ্য মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়বে।

অভিযোগ রয়েছে, দেশের কয়েকটি হাসপাতালে ১৮ হাজার টাকার হার্টের রিং দেড় লাখ টাকা থেকে শুরু করে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়। এ কাজে কিছু অসাধু চিকিৎসকও জড়িত রয়েছেন। জানা যায়, একটি সিন্ডিকেট হার্টেও রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে রিংয়ের প্রকৃত দামের চেয়ে কয়েকগুন বেশি আদায় করছে। অতীতে দেশের একেক হাসপাতালে হার্টের রিংয়ের দাম ছিল একেক রকম। এ প্রেক্ষাপটে ২০১৭ সালে দাম সমন্বয়ে জাতীয় নীতিমালা তৈরি করা হয়। সেই সময় ১৭ সদস্যের কমিটি করে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।

ওই কমিটি ২৮ ধরনের রিংয়ের সর্বোচ্চ খুচরামূল্য নির্ধারণ কওে দেয়। সেই নির্ধারিত দামে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের রোগীর কাছে রিং বিক্রি করে আসছিল ব্যবসায়ীরা। কয়েক দফায় ডলারের দাম বাড়ায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর নতুন করে রিংয়ের দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয়। চলতি বছরের জুন ও আগস্টে দুই দফায় মার্কআপ ফর্মুলা তথা জাতীয় নীতিমালা অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাবোট ল্যাবরেটরিজ, বোস্টন সায়েন্টিফিক, মেডট্রোনিক কোম্পানির রিংয়ে মূল্য সমন্বয় করা হয়।

জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম বা ওষুধের দাম নির্ধারণে যাতে কোনোরকম কারসাজি না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।