হার দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

আপডেট: এপ্রিল ৫, ২০১৭, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে টি-টোয়েন্টিতে ১৫০ ছাড়ানো ইনিংস, যেন একটু হলেও স্বস্তিতে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা জবাব দিলেন স্বাচ্ছন্দ্যে। মাশরাফি মর্তুজার বিদায়ী সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটে হারলো বাংলাদেশ। ৭ বল বাকি থাকতে পাওয়া জয়ে শ্রীলঙ্কা দুই ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে রইল ১-০ তে।
কুশল পেরেরা ও উপুল থারাঙ্গা ঝোড়ো সূচনা করলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের শেষ সিরিজের প্রথম ম্যাচে বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখান বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা। নিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার লাগাম টেনে ধরেন তিনি। আরেক নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান আসেলা গুনারত্নেকে রান আউট করেন সাব্বির রহমান। কিন্তু তিন ব্যাটসম্যানকে কয়েক ওভারের ব্যবধানে হারালেও লঙ্কানদের জয় কষ্টের হয় নি।
শ্রীলঙ্কাকে ১৫৬ রানের লক্ষ্য দিয়ে ফিল্ডিং শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে বল হাতে নেন অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ। তার ওই ওভারে মাত্র ২ রান করে শ্রীলঙ্কা। তবে তাসকিন আহমেদকে দ্বিতীয় ওভারে তিনটি চার মেরে গতি বাড়ায় লঙ্কানরা, যেটা অনেকক্ষণ ধরে রাখে তারা। শেষ পর্যন্ত মাশরাফি মর্তুজা ৬৫ রানে ভাঙেন শ্রীলঙ্কার প্রথম জুটি। উপুল থারাঙ্গাকে ২৪ রানে মুস্তাফিজুর রহমানের ক্যাচ বানান তিনি।
বাংলাদেশের অধিনায়ক পরের ওভারে দিলশান মুনাবিরাকে ফেরান ফিরতি ক্যাচ ধরে। ১৬তম ওভারের তৃতীয় বলে গুনারত্নে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে সাব্বিরের সরাসরি থ্রোতে আউট হন। ১৭ রান করেছিলেন তিনি। তবে হাফসেঞ্চুরিতে বাংলাদেশি বোলারদের ভুগিয়েছেন কুশল পেরেরা। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবার পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলে দলকে জেতান এ ওপেনার। অবশ্য ১৯তম ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে থামতে হয় কুশলকে। ৫৩ বলে ৯ চার ও ১ ছয়ে ৭৭ রান করেন তিনি। সেকুগে প্রসন্ন ও থিসারা পেরেরা ক্রিজে থেকে দলকে জেতান।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু করে হোঁচট খেয়ে। তামিম ইকবালকে অগ্রপথিক ধরা হয়েছিল। কিন্তু কিছু বুঝে উঠার আগেই নেই তার উইকেট। ওই ধাক্কার প্রভাব পড়ে পুরো ম্যাচজুড়ে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সাজঘরে ফিরেছেন নিয়মিত বিরতিতে। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে তারা করে ১৫৫ রান।
দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বাধ সাধে বৃষ্টি। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা বৃষ্টিতে বন্ধ ছিল খেলা। সাড়ে ৭টার খেলা শুরু হয় সোয়া ৮টার দিকে। প্রথম ওভার করেন সাবেক অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গা। এ পেসারের দুরন্ত গতির কাছে দ্বিতীয় বলেই বোল্ড হন তামিম।দুই বল খেলে রানের খাতা না খুলে আউট হন বাংলাদেশের ভরসার প্রতীক। অবশ্য সাব্বির ও সৌম্যের ব্যাটে প্রথম ওভারের ধাক্কা ভালোভাবে কাটিয়ে উঠতে থাকে বাংলাদেশ। সৌম্য ও সাব্বির বুঝেশুনে খেলতে থাকেন। ৫ ওভারে তারা তোলেন ৫৭ রান। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে ভিকুম সঞ্জায়া বল হাতে নিতেই বাধে বিপত্তি। ওই ওভারের প্রথম বলে দৌড়ে একটি রান নিতে গিয়ে নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে রান আউট হন সাব্বির। সেকুগে প্রসন্নের সরাসরি থ্রোতে থামে সাব্বিরের ১৬ রানের ইনিংস। ওই ওভারের পঞ্চম বলে ক্যাচ হন সৌম্য (২৯)। আকাশ ছোঁয়া তার শটটি লং অনে থিসারা পেরেরার মুঠোয় ধরা পড়ে। সাব্বিরের বিদায়ের পর যেন উইকেটের মড়ক লাগে। ৫৭ রানের জুটি ভাঙলে ২৫ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানরা ধৈর্য্য ধরতে পারেন নি।
সুইপ করতে গিয়ে আসেলা গুনারত্নের বলটি ব্যাট লাগাতে পারেননি মুশফিক, ভেঙে যায় স্টাম্প। মাত্র ৯ বলে ৮ রান করেন তিনি। সেকুগের বলে কভারে মারতে চেয়েছিলেন সাকিব, কিন্তু শটে জোর ছিল না বলে পয়েন্টে গুনারত্নের ক্যাচ হন তিনি। মাত্র ১১ রানে আউট হন বাঁহাতি অলরাউন্ডার। ১১.১ ওভারে ৮২ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক হোসেন সামলে উঠার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের জুটিতে আসে ৫৭ রান। তবে মাহমুদউল্লাহ শেষ পর্যন্ত খেলতে পারেননি। ২৬ বলে ৩১ রান করে মালিঙ্গার দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। মোসাদ্দেক ইনিংস সেরা ৩৪ ও মাশরাফি ৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।-বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ